
সিলেট টেস্ট জিততে ম্যাচের শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৩ উইকেট। অপর দিকে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১২১ রান। দিনের শুরুতে স্পিনার সাজিদ খানকে নিয়ে পাকিস্তানের সেট ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান যেভাবে ব্যাটিং করছিলেন তাতে বাংলাদেশি শিবিরে উৎকণ্ঠাই দেখা দিচ্ছিল। তবে তাইজুল ইসলাম সেই উৎকণ্ঠা কাটিয়ে বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন স্মরণীয় এক জয়।
পাকিস্তানের শেষ তিন উইকেটের দুটিই তুলে নিয়েছেন তাইজুল। দ্বিতীয় ইনিংসে মোট ছয় উইকেট তুলে নিয়েছেন অভিজ্ঞ স্পিনার। যাতে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে গেছে ৩৫৮ রানে। বাংলাদেশ সফরকারীদের সামনে টার্গেট দাঁড় করিয়েছিল ৪৩৭ রানে। ফলে সিলেট টেস্টে শেষ পর্যন্ত ৭৮ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
এর আগে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতেও জিতেছিল বাংলাদেশ। ফলে টেস্টে পাকিস্তানিদের আবারও হোয়াইটওয়াশ করল টাইগাররা। এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানে গিয়ে তাদের হোয়াইটওয়াশ করে এসেছিল বাংলাদেশ।
বুধবার (২০ মে) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান নিয়ে আজ পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করেছিল পাকিস্তান। মোহাম্মদ রিজওয়ান আপরাজিত ছিলেন ৭৫ রানে। পাকিস্তানের একজন মাত্র স্বীকৃত ব্যাটারই কেবল অপরাজিত ছিলেন।
সকালে স্পিনার সাজিদ খানকে নিয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন রিজওয়ান। লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের নিয়ে বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকা সম্ভব না বুঝেই হয়ত আক্রমণের পথ বেছে নেয় পাকিস্তান। স্পিনার সাজিদ খানও চালিয়ে খেলছিলেন। সপ্তম উইকেট জুটিতে ৭৪ রানে ৫৪ রানের জুটি গড়েন দুজন। বাংলাদেশ শিবিরে উৎকণ্ঠা বাড়ছিল তখন।
তাইজুল ইসলাম সব উৎকণ্ঠা দূর করেছেন। পেসারদের বদলে সকালে নতুন বল স্পিনার তাইজুলের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার যে যথেষ্ট কারণ আছে সেটা প্রমাণ হতে সময় বেশি লাগেনি। ৩৬ বলে ৫টি চারে ২৮ রান করা সাজিদ তাইজুলকে হাঁকাতে গিয়ে আউট হয়েছেন।
জুটি ভাঙার পর যেন মোহাম্মদ রিজওয়ানও মনোযোগ হারালেন! পরের ওভারেই শরিফুল ইসলামের বাহিরের একটা বল তাড়া করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন মেহেদি হাসান মিরাজের হাতে। বাংলাদেশ ম্যাচ জিতেছে তখনই। বাকি সময়ে পাকিস্তানের দশম উইকেট তুলে নিয়ে শুধু আনুষ্ঠানিকতাটা সেড়েছেন তাইজুল। রিজওয়ান ১৬৬ বল খেলে ১০টি চারের সাহায্যে ৯৪ রান করে আউট হয়েছেন।
বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৪.২ ওভার বোলিং করে ১২০ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। নাহিদ রানা নিয়েছেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম ও মেহেদি হাসান মিরাজ।
সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। পরে পাকিস্তানকে ২৩২ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। তারপর নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিকরা তোলে ৩৯০ রান। পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৫৮ রানে গুটিয়ে গেলে ৭৮ রানের জয় পেল বাংলাদেশ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 













