বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেখানে পৌঁছায় না উৎসব-আনন্দের রং

পহেলা বৈশাখ, বাংলা বছরের প্রথম দিন। শহরজুড়ে উৎসব, আনন্দ আর বর্ণিল আয়োজনের ভিড়। কিন্তু এই উৎসবের রঙের ছোঁয়া লাগে না নদীভাঙা চরের মানুষদের জীবনে। তাদের কাছে নতুন বছর মানেই আরেকটি সংগ্রামের সূচনা, আরেকটি অনিশ্চিত দিনের প্রতীক্ষা।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বৈশাখের প্রথম বিকেল। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভেসে চলছে ধীর গতিতে। সেই নৌকাগুলোর একটিতে গাদাগাদি করে বসে আছেন অর্ধশতাধিক নারী। তাদের সবার কাঁধেই ঘাস বা খড়ের বস্তা । চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ । দিনভর কাজ শেষে তারা ফিরছেন নিজের ঘরে । চরের সেই অস্থায়ী ঠিকানায়, যেখানে জীবনের নিরাপত্তা প্রতিদিনই প্রশ্নের মুখে।

এই নারীদের অধিকাংশই দিনমজুর, কেউ কৃষিশ্রমিক। বৈশাখ তাদের জন্য আলাদা কোনো আনন্দ নিয়ে আসে না। সকালে তারা যেমন কাজের খোঁজে বের হন, তেমনি সন্ধ্যায় ক্লান্ত শরীরে ফেরেন ঘরে। উৎসবের বদলে তাদের জীবনে প্রাধান্য পায় পেটের তাগিদ।কঞ্চিপাড়া গ্রামের সফুরা বেগম বলেন, ‘নতুন বছর বলে আলাদা কিছু বুঝি না। কাজ থাকলে খাই, না থাকলে কষ্ট করি। আজও কাজ করে ফিরছি, বৈশাখ বলে ছুটি নেই আমাদের।’

একই এলাকার শারমিন আক্তারে কথায় উৎকণ্ঠা ফুটে ওঠে- চরের জীবন এমনিতেই কঠিন। প্রতিবছর নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর ভয়, বন্যার আতঙ্ক, চিকিৎসা ও শিক্ষার অপ্রতুলতা সব মিলিয়ে এখানে জীবন মানেই প্রতিনিয়ত লড়াই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যাতায়াতের দুর্ভোগ। নৌকাই একমাত্র ভরসা, আর সেই নৌকায় করেই প্রতিদিন জীবিকার টানে যাতায়াত করতে হয় তাদের।

বৈশাখের দিনেও সেই চিত্রের কোনো ব্যতিক্রম দেখা যায় না। শহরের মতো এখানে নেই মঙ্গল শোভাযাত্রা, নেই পান্তা-ইলিশের আয়োজন। আছে শুধু নদীর ঢেউ, আর জীবনের নিরন্তর সংগ্রাম।

চর নিয়ে কাজ করা ইয়ুথ এলায়েন্সের পরিচালক মারুফ আহমেদ বলেন, ‘চরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে টেকসই উদ্যোগ জরুরি। নিরাপদ বসতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হলে এই মানুষগুলোর জীবনে উৎসবের আনন্দ পৌঁছানো কঠিন।’

যেখানে পৌঁছায় না উৎসব-আনন্দের রং

প্রকাশের সময়: ০২:১৫:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

পহেলা বৈশাখ, বাংলা বছরের প্রথম দিন। শহরজুড়ে উৎসব, আনন্দ আর বর্ণিল আয়োজনের ভিড়। কিন্তু এই উৎসবের রঙের ছোঁয়া লাগে না নদীভাঙা চরের মানুষদের জীবনে। তাদের কাছে নতুন বছর মানেই আরেকটি সংগ্রামের সূচনা, আরেকটি অনিশ্চিত দিনের প্রতীক্ষা।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বৈশাখের প্রথম বিকেল। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভেসে চলছে ধীর গতিতে। সেই নৌকাগুলোর একটিতে গাদাগাদি করে বসে আছেন অর্ধশতাধিক নারী। তাদের সবার কাঁধেই ঘাস বা খড়ের বস্তা । চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ । দিনভর কাজ শেষে তারা ফিরছেন নিজের ঘরে । চরের সেই অস্থায়ী ঠিকানায়, যেখানে জীবনের নিরাপত্তা প্রতিদিনই প্রশ্নের মুখে।

এই নারীদের অধিকাংশই দিনমজুর, কেউ কৃষিশ্রমিক। বৈশাখ তাদের জন্য আলাদা কোনো আনন্দ নিয়ে আসে না। সকালে তারা যেমন কাজের খোঁজে বের হন, তেমনি সন্ধ্যায় ক্লান্ত শরীরে ফেরেন ঘরে। উৎসবের বদলে তাদের জীবনে প্রাধান্য পায় পেটের তাগিদ।কঞ্চিপাড়া গ্রামের সফুরা বেগম বলেন, ‘নতুন বছর বলে আলাদা কিছু বুঝি না। কাজ থাকলে খাই, না থাকলে কষ্ট করি। আজও কাজ করে ফিরছি, বৈশাখ বলে ছুটি নেই আমাদের।’

একই এলাকার শারমিন আক্তারে কথায় উৎকণ্ঠা ফুটে ওঠে- চরের জীবন এমনিতেই কঠিন। প্রতিবছর নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর ভয়, বন্যার আতঙ্ক, চিকিৎসা ও শিক্ষার অপ্রতুলতা সব মিলিয়ে এখানে জীবন মানেই প্রতিনিয়ত লড়াই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যাতায়াতের দুর্ভোগ। নৌকাই একমাত্র ভরসা, আর সেই নৌকায় করেই প্রতিদিন জীবিকার টানে যাতায়াত করতে হয় তাদের।

বৈশাখের দিনেও সেই চিত্রের কোনো ব্যতিক্রম দেখা যায় না। শহরের মতো এখানে নেই মঙ্গল শোভাযাত্রা, নেই পান্তা-ইলিশের আয়োজন। আছে শুধু নদীর ঢেউ, আর জীবনের নিরন্তর সংগ্রাম।

চর নিয়ে কাজ করা ইয়ুথ এলায়েন্সের পরিচালক মারুফ আহমেদ বলেন, ‘চরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে টেকসই উদ্যোগ জরুরি। নিরাপদ বসতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হলে এই মানুষগুলোর জীবনে উৎসবের আনন্দ পৌঁছানো কঠিন।’