
বাণিজ্য ঘাটতি পূরণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বছরে প্রায় ১.২ বিলিয়ন বা ১২০ কোটি ডলারের জ্বালানি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়াবে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশতরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করবে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৬টি এলএনজি কার্গো আমদানি করবে, যার মধ্যে এঙে্লেেরট এনার্জি থেকে ১০টি রয়েছে। জ্বালানি বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি আমদানির বার্ষিক খরচ ছাড়িয়ে যাবে৭০০ মিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে অতিরিক্ত এলএনজি সংগ্রহ করা হবেস্পট মার্কেট থেকেও। চাহিদা বাড়ায় এলপিজি আমদানিও দেশে দ্রুত বাড়ছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে দুই লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি এলপিজি আমদানি হয়েছে। এখন প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নিশ্চিত করার জন্য আমদানিকারকরা প্রধান মার্কিন সরবরাহকারীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করছে। আর লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা হলে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তার বেশির ভাগ এলপিজি চাহিদা পূরণ করতে পারে।
সূত্র জানায়, প্রতিযোগিতামূলক শুল্কে দেশে জ্বালানি আমদানি সুরক্ষিত করা জরুরি। অন্য দেশের তুলনায় দাম বেশি হলে তা জনসাধারণের অসন্তোষের শঙ্কা থাকে। সম্প্রতি বাংলাদেশ একাধিক আলোচনার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিতে পাল্টা শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ করতে পেরেছে। আরো কমার আশা রয়েছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের ১২.৪ বিলিয়ন ডলারদ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিল। তার মধ্যে বাংলাদেশ ৮.৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে এবং ২.৩ বিলিয়ন ডলার আমদানি করেছে। যদিও বর্তমানে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন বাংলাদেশে তার কার্যক্রম থেকে বার্ষিক প্রায় ৪২০ মিলিয়ন ডলার আয় করে। তবে সেটি সার্ভিস ট্রেডের আওতায় ধরা হয়। ফলে পণ্যভিত্তিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পরিসংখ্যানে তা যোগ হয় না।
এদিকে এ বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্কদ বিভাগ সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ আগামী বছর থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বার্ষিক প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের এলএনজি, এলপিজি এবং পরিশোধিত জ্বালানি সংগ্রহ করব।
নিজস্ব প্রতিবেদক 















