বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাস্তা বন্ধ করে কোন সমাবেশ নয় : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, জানমালের ক্ষতি, সরকারি সম্পদ নষ্ট ও রাস্তাঘাট বন্ধ করে কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না।

 

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে ডিজিটাল আর্মস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন মন্ত্রী। এ সময় আর্মস হোল্ডারদের স্মার্টকার্ড দেওয়া হয়।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দ্রুতবিচার আইনে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সময়সীমা আছে, এর মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে। সেটা অনেক সময় কার্যকর হচ্ছে না।

 

তিনি বলেন, আমরা মনে করি- সময়সীমা নির্ধারণ না করলে, আপনারা দেখেছেন, বিচার বিভাগে যে পরিমাণ জট লেগে আছে, সেই জটের মধ্যে পড়ে গেলে অনেক দিন লম্বা হয়।

 

তিনি বলেন, বিশেষ ধরনের ক্রাইম যারা করছেন, ওখানে (আইনে) সংজ্ঞায়িত আছে, আমরা মনে করি এ ক্রাইমগুলোর বিচার খুব তাড়াতাড়ি হওয়া উচিত। তাহলে আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত, আরও স্বাভাবিক করতে পারব। সেজন্য আইনটি করা হয়েছিল এবং প্রতিবারই (মেয়াদ) দুই বছর, এক বছর করে বাড়ানো হয়েছে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর না বাড়িয়ে যদি এটাই আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, মেয়াদ শেষ হয়ে গেল কিনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ চিন্তা থেকে মুক্তি পাবে।

 

বিরোধী দল অভিযোগ করছে, দ্রুতবিচার আইন তাদের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে—এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান বলেন, এটা হাস্যকর অভিযোগ। এখানে বিরোধী দল বলে কোনো আইন নেই যে, বিরোধী দলের তকমা যাদের লাগানো আছে তারা এ আইনের মধ্যে যাবে।

 

একজন গণমাধ্যম কর্মী দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, সর্বশেষ বিএনপির কালো পতাকা মিছিলে পুলিশকে বাধা দিতে দেখা গেছে। এরপর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বললেন- এ ধরনের কর্মসূচি আর করতে দেওয়া হবে না।

 

এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশি বাধা দেওয়া হয়নি। প্রথম দিন তারা কালো পতাকা মিছিল করেছিল, আপনারা সবাই দেখেছেন।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তারা মনে করেন, সদ্য নির্বাচিত একটি দল ক্ষমতায় এসেছে। প্রথম দিনই কালো পতাকা উড়ানো কোনো যুক্তিতে পড়ে না।

 

এ ধরনের কোনো ঘটনা হলে পারমিশন নিতে হয় এটা যেমন সত্য, আমরা মনে করেছি যদি তাদের কিছু বলতে হয়- কনফারেন্সে তিনি বলেন, রুমের ভেতরে যেয়ে তারা যা বলতে চায় বলবেন। রাস্তাঘাটে যান চলাচল বন্ধ করে এই কালো পতাকা উড়ানোটা আমরা মনে করি যুক্তিসঙ্গত নয়, সেজন্য আমাদের ঢাকার কমিশনার এবং আইজিপি আছেন, তারা মনে করেছেন এটা হলে স্বাভাবিক যান চলাচল, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে। সেজন্য তারা বন্ধ করেছেন।

 

আগামীতে এ ধরনের কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো রাজনীতি করবে। তাদের যে রাজনীতি, তাদের যে আদর্শ, তাদের যে উদ্দেশ্য এগুলো সব করবে। এখানে আমাদের কোনো বাধা নেই। আমাদের কথা সেই জায়গায় কারও জানমাল বিনষ্ট করে, সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট করে আর রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিয়ে- মনে হয় এগুলো অযৌক্তিক। এগুলো আমরা করতে দেব না।

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে পুলিশ আটক করল। সে সময় তাকে ‘অ্যাসল্ট’ করা হলো। সেটা পুলিশ করতে পারে কিনা তার বয়স বিবেচনায়; ধাক্কা দিয়ে ভ্যানে তুলে নিয়ে গেছে- এ ব্যাপারে আসাদুজ্জামান বলেন, যখন একটা অ্যারেস্ট হয়, রাজনৈতিক নেতা বা যেই হোক, একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায়। একটা ধাক্কাধাক্কি, একটা সামনাসামনি অনেক মানুষ একত্রিত হয়ে যায়। তার পক্ষের দল-বিপক্ষের দল হয়ে যায়। তখন পুলিশ বাধ্য হয়ে মানুষ সরানোর জন্য- একটু ধাক্কাধাক্কি হয়ে যায়।

 

তিনি বলেন, এটা ইচ্ছাকৃত পুলিশ করে না। এটা অনিচ্ছাকৃতভাবে করে। আপনারা দেখেছেন, কাউকে ধরতে গেলে অতি উৎসাহী জনগণ এসে দাঁড়ায়। তাদের সরাতে পুলিশ আবার হিমশিম খায়। এজন্য এ ঘটনাগুলো ঘটে। যেগুলো ঘটেছে এগুলো অতি উৎসাহী জনগণের কারণে।

কালের চিঠি / আশিকুর।

Tag :

রাস্তা বন্ধ করে কোন সমাবেশ নয় : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী

Update Time : ০৫:১৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, জানমালের ক্ষতি, সরকারি সম্পদ নষ্ট ও রাস্তাঘাট বন্ধ করে কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না।

 

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে ডিজিটাল আর্মস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন মন্ত্রী। এ সময় আর্মস হোল্ডারদের স্মার্টকার্ড দেওয়া হয়।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দ্রুতবিচার আইনে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সময়সীমা আছে, এর মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে। সেটা অনেক সময় কার্যকর হচ্ছে না।

 

তিনি বলেন, আমরা মনে করি- সময়সীমা নির্ধারণ না করলে, আপনারা দেখেছেন, বিচার বিভাগে যে পরিমাণ জট লেগে আছে, সেই জটের মধ্যে পড়ে গেলে অনেক দিন লম্বা হয়।

 

তিনি বলেন, বিশেষ ধরনের ক্রাইম যারা করছেন, ওখানে (আইনে) সংজ্ঞায়িত আছে, আমরা মনে করি এ ক্রাইমগুলোর বিচার খুব তাড়াতাড়ি হওয়া উচিত। তাহলে আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত, আরও স্বাভাবিক করতে পারব। সেজন্য আইনটি করা হয়েছিল এবং প্রতিবারই (মেয়াদ) দুই বছর, এক বছর করে বাড়ানো হয়েছে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর না বাড়িয়ে যদি এটাই আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, মেয়াদ শেষ হয়ে গেল কিনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ চিন্তা থেকে মুক্তি পাবে।

 

বিরোধী দল অভিযোগ করছে, দ্রুতবিচার আইন তাদের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে—এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান বলেন, এটা হাস্যকর অভিযোগ। এখানে বিরোধী দল বলে কোনো আইন নেই যে, বিরোধী দলের তকমা যাদের লাগানো আছে তারা এ আইনের মধ্যে যাবে।

 

একজন গণমাধ্যম কর্মী দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, সর্বশেষ বিএনপির কালো পতাকা মিছিলে পুলিশকে বাধা দিতে দেখা গেছে। এরপর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বললেন- এ ধরনের কর্মসূচি আর করতে দেওয়া হবে না।

 

এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশি বাধা দেওয়া হয়নি। প্রথম দিন তারা কালো পতাকা মিছিল করেছিল, আপনারা সবাই দেখেছেন।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তারা মনে করেন, সদ্য নির্বাচিত একটি দল ক্ষমতায় এসেছে। প্রথম দিনই কালো পতাকা উড়ানো কোনো যুক্তিতে পড়ে না।

 

এ ধরনের কোনো ঘটনা হলে পারমিশন নিতে হয় এটা যেমন সত্য, আমরা মনে করেছি যদি তাদের কিছু বলতে হয়- কনফারেন্সে তিনি বলেন, রুমের ভেতরে যেয়ে তারা যা বলতে চায় বলবেন। রাস্তাঘাটে যান চলাচল বন্ধ করে এই কালো পতাকা উড়ানোটা আমরা মনে করি যুক্তিসঙ্গত নয়, সেজন্য আমাদের ঢাকার কমিশনার এবং আইজিপি আছেন, তারা মনে করেছেন এটা হলে স্বাভাবিক যান চলাচল, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে। সেজন্য তারা বন্ধ করেছেন।

 

আগামীতে এ ধরনের কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো রাজনীতি করবে। তাদের যে রাজনীতি, তাদের যে আদর্শ, তাদের যে উদ্দেশ্য এগুলো সব করবে। এখানে আমাদের কোনো বাধা নেই। আমাদের কথা সেই জায়গায় কারও জানমাল বিনষ্ট করে, সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট করে আর রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিয়ে- মনে হয় এগুলো অযৌক্তিক। এগুলো আমরা করতে দেব না।

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে পুলিশ আটক করল। সে সময় তাকে ‘অ্যাসল্ট’ করা হলো। সেটা পুলিশ করতে পারে কিনা তার বয়স বিবেচনায়; ধাক্কা দিয়ে ভ্যানে তুলে নিয়ে গেছে- এ ব্যাপারে আসাদুজ্জামান বলেন, যখন একটা অ্যারেস্ট হয়, রাজনৈতিক নেতা বা যেই হোক, একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায়। একটা ধাক্কাধাক্কি, একটা সামনাসামনি অনেক মানুষ একত্রিত হয়ে যায়। তার পক্ষের দল-বিপক্ষের দল হয়ে যায়। তখন পুলিশ বাধ্য হয়ে মানুষ সরানোর জন্য- একটু ধাক্কাধাক্কি হয়ে যায়।

 

তিনি বলেন, এটা ইচ্ছাকৃত পুলিশ করে না। এটা অনিচ্ছাকৃতভাবে করে। আপনারা দেখেছেন, কাউকে ধরতে গেলে অতি উৎসাহী জনগণ এসে দাঁড়ায়। তাদের সরাতে পুলিশ আবার হিমশিম খায়। এজন্য এ ঘটনাগুলো ঘটে। যেগুলো ঘটেছে এগুলো অতি উৎসাহী জনগণের কারণে।

কালের চিঠি / আশিকুর।