শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা গৃহবধূর

গাইবান্ধায় বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে এক গৃহবধূ। গতকাল গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে আজ তাকে ছাড়পত্র দিয়েছে চিকিৎসক। ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ না করায় আত্ম-সম্মান এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানায় ওই নারী। সংবাদ সম্মেলনের অভিযোগ অনুযায়ী থানায় গণধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ দেওয়া হলে ওসি বিষয়টি মীমাংসা করে নিতে বলেন।

 

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গাইবান্ধা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের উজির ধরনীবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা নুরুন নাহার বেগম। এ সময় তার স্বামী আব্দুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

 

লিখিত বক্তব্যে ওই নারী জানান, একই গ্রামের এএইচএম জিয়াউর রহমান খানের বাড়িঘর ও জমিজমা দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আগে একটি মামলায় সাক্ষী দেওয়ার পর থেকেই প্রতিপক্ষরা তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে আসছিলো। এই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বিরোধপূর্ণ একটি পক্ষ তাকে দিয়ে জিয়াউর রহমান খানকে ধর্ষণ মামলায় জড়ানোর প্রস্তাব দেয় এবং এ জন্য ৫০ হাজার টাকার প্রলোভন দেখায়।

তিনি দাবি করেন, প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে অভিযুক্তরা তার বাড়িতে ঢুকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। বাধা দিলে তাকে মারধর করে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

 

পরে নারীসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিতে তিনি গাইবান্ধা সদর থানায় যান। তবে তার অভিযোগ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ‘মীমাংসা করে নিতে’ পরামর্শ দেন। এ ঘটনায় নিজেকে অপমানিত ও চরম নিরাপত্তাহীন মনে করে তিনি বিষপান করেন বলে জানান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নুরুন নাহার বেগম ন্যায়বিচার চেয় তার অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

 

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন মোবাইল ফোনে বলেন, বিষয়টি ওরকম ছিলোনা। ওই নারী যে বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন তা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়েছে। আমার কাছে তারা চেয়ারম্যান ও ৫২ জন স্থানীয়দের স্বাক্ষরিত একটি আপোষনামা দিয়েছেন। ধর্ষণ চেষ্টার যে অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে বা আমি মীমাংসা করে নিতে বলেছি সেটি মিথ্যে।

 

এদিকে গত ২১ ফেব্রুয়ারি সদর থানায় দায়ের করা ওই নারীর অভিযোগপত্রে দেখা যায়, তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, মারধর ও কানে থাকা স্বর্ণ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। এছাড়া তিনি যে প্রতিবেশী জিয়াউর রহমানে বাড়িতে কাজ করেন তার ঘরে তাকে (নুরুন নাহার) জোরপূর্বক তালাবদ্ধ করে রেখে জিয়াউর রহমানের সম্মানহানী করার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা-বলে উল্লেখ করেছেন।

 

জনপ্রিয়

গাইবান্ধায় বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা গৃহবধূর

প্রকাশের সময়: ১২:০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাইবান্ধায় বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে এক গৃহবধূ। গতকাল গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে আজ তাকে ছাড়পত্র দিয়েছে চিকিৎসক। ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ না করায় আত্ম-সম্মান এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানায় ওই নারী। সংবাদ সম্মেলনের অভিযোগ অনুযায়ী থানায় গণধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ দেওয়া হলে ওসি বিষয়টি মীমাংসা করে নিতে বলেন।

 

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গাইবান্ধা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের উজির ধরনীবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা নুরুন নাহার বেগম। এ সময় তার স্বামী আব্দুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

 

লিখিত বক্তব্যে ওই নারী জানান, একই গ্রামের এএইচএম জিয়াউর রহমান খানের বাড়িঘর ও জমিজমা দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আগে একটি মামলায় সাক্ষী দেওয়ার পর থেকেই প্রতিপক্ষরা তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে আসছিলো। এই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বিরোধপূর্ণ একটি পক্ষ তাকে দিয়ে জিয়াউর রহমান খানকে ধর্ষণ মামলায় জড়ানোর প্রস্তাব দেয় এবং এ জন্য ৫০ হাজার টাকার প্রলোভন দেখায়।

তিনি দাবি করেন, প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে অভিযুক্তরা তার বাড়িতে ঢুকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। বাধা দিলে তাকে মারধর করে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

 

পরে নারীসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিতে তিনি গাইবান্ধা সদর থানায় যান। তবে তার অভিযোগ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ‘মীমাংসা করে নিতে’ পরামর্শ দেন। এ ঘটনায় নিজেকে অপমানিত ও চরম নিরাপত্তাহীন মনে করে তিনি বিষপান করেন বলে জানান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নুরুন নাহার বেগম ন্যায়বিচার চেয় তার অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

 

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন মোবাইল ফোনে বলেন, বিষয়টি ওরকম ছিলোনা। ওই নারী যে বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন তা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়েছে। আমার কাছে তারা চেয়ারম্যান ও ৫২ জন স্থানীয়দের স্বাক্ষরিত একটি আপোষনামা দিয়েছেন। ধর্ষণ চেষ্টার যে অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে বা আমি মীমাংসা করে নিতে বলেছি সেটি মিথ্যে।

 

এদিকে গত ২১ ফেব্রুয়ারি সদর থানায় দায়ের করা ওই নারীর অভিযোগপত্রে দেখা যায়, তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, মারধর ও কানে থাকা স্বর্ণ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। এছাড়া তিনি যে প্রতিবেশী জিয়াউর রহমানে বাড়িতে কাজ করেন তার ঘরে তাকে (নুরুন নাহার) জোরপূর্বক তালাবদ্ধ করে রেখে জিয়াউর রহমানের সম্মানহানী করার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা-বলে উল্লেখ করেছেন।