শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘাঘট নদীতে ড্রেজারের দৌরাত্ম, হুমকিতে বাঁধসহ কয়েক কোটি টাকার সেতু 

তাসলিমুল হাসান সিয়াম :গাইবান্ধা শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ঘাঘট নদীতে অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে নিয়মিত বালু তোলায় হুমকির মুখে পড়েছে নদীর দুই তীরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। একই সঙ্গে নদীর পাশে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন সেতুটির নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘাঘট নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে একাধিক শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলন করা বালু নদীর দুই তীরে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে বালুর বড় বড় স্তূপ, যা দেখে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনের চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও তলদেশের গঠন পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষ করে তীরের কাছাকাছি থেকে বালু উত্তোলন করায় ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। এতে নদীর দুই পাশে থাকা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নদীর যে অংশে বালু উত্তোলন চলছে, তার মাত্র ২০ মিটার দূরে রয়েছে পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ সেতু যেখানে প্রতিদিন কয়েক হাজার ভারী যানবাহন গাইবান্ধা থেকে সুন্দরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে চলাচল করছে । এছাড়া উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন সেতুও ঝুঁকিতে পড়েছে । নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে সেতুর পিলারের আশপাশের মাটি সরে গিয়ে ভবিষ্যতে এর ভিত্তি ও স্থায়িত্বের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নাম ও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে তীরের মাটি সরে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বর্ষা ও বন্যার সময় স্রোতের চাপ বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এতে একদিকে সেতু, অন্যদিকে শহর রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এদিকে নদীর দুই তীরে বালু মজুত করে রাখায় পরিবেশ ও জননিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিয়ম মেনে বালু উত্তোলনের ব্যবস্থা না থাকলে নদীর তীরবর্তী কৃষিজমি, বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তোলার সময় প্রতিবেদককে বাধার মুখেও পড়তে হয়। নদীর তীরে বালু উত্তোলন ও মজুতের ছবি ধারণের সময় সেখানে থাকা ব্যক্তিরা ছবি তুলতে নিষেধ করেন। এ ঘটনায় নদীতে বালু উত্তোলনকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী একটি চক্রের তৎপরতা রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, নদী থেকে বালু উত্তোলনের বৈধতা, উত্তোলনের স্থান, পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্টদের অনুমোদন রয়েছে কিনা এসব বিষয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সেতু ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, নদীর বালু একটি মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ হলেও অপরিকল্পিত ও অবাধ উত্তোলনের কারণে এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে নদীভাঙন বাড়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা রক্ষায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

 

 

এ বিষয়ে জানতে গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাকের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

 

ঘাঘট নদীতে ড্রেজারের দৌরাত্ম, হুমকিতে বাঁধসহ কয়েক কোটি টাকার সেতু 

ঘাঘট নদীতে ড্রেজারের দৌরাত্ম, হুমকিতে বাঁধসহ কয়েক কোটি টাকার সেতু 

প্রকাশের সময়: ০৪:৫৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তাসলিমুল হাসান সিয়াম :গাইবান্ধা শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ঘাঘট নদীতে অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে নিয়মিত বালু তোলায় হুমকির মুখে পড়েছে নদীর দুই তীরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। একই সঙ্গে নদীর পাশে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন সেতুটির নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘাঘট নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে একাধিক শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলন করা বালু নদীর দুই তীরে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে বালুর বড় বড় স্তূপ, যা দেখে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনের চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও তলদেশের গঠন পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষ করে তীরের কাছাকাছি থেকে বালু উত্তোলন করায় ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। এতে নদীর দুই পাশে থাকা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নদীর যে অংশে বালু উত্তোলন চলছে, তার মাত্র ২০ মিটার দূরে রয়েছে পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ সেতু যেখানে প্রতিদিন কয়েক হাজার ভারী যানবাহন গাইবান্ধা থেকে সুন্দরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে চলাচল করছে । এছাড়া উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন সেতুও ঝুঁকিতে পড়েছে । নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে সেতুর পিলারের আশপাশের মাটি সরে গিয়ে ভবিষ্যতে এর ভিত্তি ও স্থায়িত্বের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নাম ও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে তীরের মাটি সরে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বর্ষা ও বন্যার সময় স্রোতের চাপ বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এতে একদিকে সেতু, অন্যদিকে শহর রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এদিকে নদীর দুই তীরে বালু মজুত করে রাখায় পরিবেশ ও জননিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিয়ম মেনে বালু উত্তোলনের ব্যবস্থা না থাকলে নদীর তীরবর্তী কৃষিজমি, বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তোলার সময় প্রতিবেদককে বাধার মুখেও পড়তে হয়। নদীর তীরে বালু উত্তোলন ও মজুতের ছবি ধারণের সময় সেখানে থাকা ব্যক্তিরা ছবি তুলতে নিষেধ করেন। এ ঘটনায় নদীতে বালু উত্তোলনকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী একটি চক্রের তৎপরতা রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, নদী থেকে বালু উত্তোলনের বৈধতা, উত্তোলনের স্থান, পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্টদের অনুমোদন রয়েছে কিনা এসব বিষয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সেতু ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, নদীর বালু একটি মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ হলেও অপরিকল্পিত ও অবাধ উত্তোলনের কারণে এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে নদীভাঙন বাড়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা রক্ষায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

 

 

এ বিষয়ে জানতে গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাকের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।