
নিজস্ব সংবাদদাতা: গাইবান্ধায় বিদ্যুতের ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার নিয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তি ও অসন্তোষ বাড়ছে। আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির কথা বলে প্রিপেইড মিটার চালু করা হলেও এতে গ্রাহকদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে এবং নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহক অধিকারকর্মীরা। একই সঙ্গে প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
শনিবার সকালে গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডে গানাসাস মার্কেটের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এসব অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেন বক্তারা। ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার প্রতিরোধ কমিটি ও বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটি, গাইবান্ধা জেলা শাখা এ সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রিপেইড মিটার ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের পদ্ধতি সহজ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক গ্রাহককে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মিটার রিচার্জ, জরুরি ব্যালেন্স, বিভিন্ন ধরনের চার্জ ও মিটার সংক্রান্ত জটিলতার কারণে গ্রাহকদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মিটার নিয়ে সমস্যায় পড়লেও দ্রুত সমাধান না পাওয়ায় ভোগান্তি আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা শাখার আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী মুসার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিহির ঘোষ, গাইবান্ধা পরিবেশ আন্দোলনের আহ্বায়ক ওয়াজিউর রহমান রাফেল, গাইবান্ধা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুরাদজামান রব্বানী, কমিউনিস্ট নেতা রেবতী মোহন বর্মন, গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক রজতকান্তি বর্মন, নাট্যকর্মী শাহ আলম বাবলু, জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক শিরিন আকতার, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী প্রামাণিক, এ.কে.এম মনির হোসেন সুইট, কাজী আব্দুল খালেক, আইনজীবী অ্যাডভোকেট কুশলাশীষ চক্রবর্তী ও রবিদাস ফোরামের খিলন রবিদাস প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন গাইবান্ধা বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য অ্যাডভোকেট ফারুক কবীর।
বক্তারা আরও বলেন, বিদ্যুৎ মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। তাই সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রাহকদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। প্রিপেইড মিটারের কারণে গ্রাহকদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হলে তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সমাবেশ থেকে গ্রাহক শোষণ ও হয়রানির অভিযোগ তুলে প্রিপেইড মিটার বাতিল, সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, বিদ্যুৎখাত বেসরকারিকরণের তৎপরতা বন্ধ, বিদ্যুৎ সংকটের জনবান্ধব সমাধান, বিদ্যুৎখাতে দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নামে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 









