শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে শিক্ষকের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

  • ফুয়াদ মন্ডল
  • Update Time : ০৩:২৪:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • ৪৪ Time View

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বিজ্ঞান অনুষদের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ করেন একই বিভাগের (২০১৭-১৮) সেশনের এক ছাত্রী। সেই শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারে আয়োজিত এই মানববন্ধনে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর আগে একই দাবিতে সকাল দশটা থেকে বেলা ১ টা পর্যন্ত বিভাগের সভাপতির কক্ষের সামনেও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলন করেন।

এখন পর্যন্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিশ্ববদ্যিালয় কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নিলেও বিভাগ তাঁর বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই শিক্ষককে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনরত স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সাজিদ বলেন, আমরা সেই শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধনে নেমেছি। আমরা চাই যতদ্রুত সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যা ঘটেছে তা আমাদের বিভাগের জন্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যান্ত লজ্জাজনক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী জানান, তাঁরা চান অভিযোগ উঠা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিশ্ববদ্যিালয় কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন এবং প্রশাসন বাদী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করবেন। তাহলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস অন্যরা পাবেন না।

আন্দোলনরত সাবিহা নামের চতুর্থ বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, স্যারকে বিভাগকে থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হোক। আমরা কিছুদিন পর ওই সেশনে যাব, এখন যদি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারি তাহলে আমরা কোথায় পড়ালেখা করতে আসছি? আমরা শেষ পর্যন্ত এই শিক্ষকের বহিষ্কার দেখতে চাই।

এ বিষয়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড.দেবাশিষ পালিতের কাছে জানতে চাইলে তিনি কালের চিঠিকে বলেন, আমরা আজ বেলা সাড়ে ১১টায় একাডেমিক কমিটির সকল শিক্ষক মিলে এই বিষয়টা নিয়ে আলোচনায় বসেছি। কিন্তু আমাদের একটা সীমাবদ্ধতা আছে কারণ আমাদের সব কিছুর অভিভাবক হচ্ছেন উপাচার্য মহোদয়। তিনিই বড় সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে থাকেন। তবে আমরা আজ সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যতদিন পর্যন্ত তদন্তের কাজ শেষ না হয় ততদিন পর্যন্তর অভিযুক্ত শিক্ষককে সকল একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’

অভিযোগের সত্যতার ব্যাপারে জানতে চাইলে দেবাশিষ পালিত বলেন, এটা আমরা শুনেছি তবে তদন্ত করা ছাড়া সত্যতার ব্যাপারটা বলা যাচ্ছে না। আজ এটা নিয়ে উপাচার্যের সাথে মিটিং হবে তখন বোঝা যাবে। তবে আমরা অভিযোগটা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি।

এ দিকে গতকাল বুধবার দুপুরে উপাচার্য শিরীণ আখতারের কাছে এক শিক্ষার্থী নিজ বিভাগের এক অধ্যাপক সম্পর্কে লিখিতভাবে যৌন হয়রানি, যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করেন।

তবে অভিযুক্ত অধ্যাপক অভিযোগটি অত্যন্ত মানহানিকর এবং অত্যন্ত নেক্কারজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন।

Tag :

ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে শিক্ষকের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

Update Time : ০৩:২৪:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বিজ্ঞান অনুষদের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ করেন একই বিভাগের (২০১৭-১৮) সেশনের এক ছাত্রী। সেই শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারে আয়োজিত এই মানববন্ধনে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর আগে একই দাবিতে সকাল দশটা থেকে বেলা ১ টা পর্যন্ত বিভাগের সভাপতির কক্ষের সামনেও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলন করেন।

এখন পর্যন্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিশ্ববদ্যিালয় কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নিলেও বিভাগ তাঁর বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই শিক্ষককে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনরত স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সাজিদ বলেন, আমরা সেই শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধনে নেমেছি। আমরা চাই যতদ্রুত সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যা ঘটেছে তা আমাদের বিভাগের জন্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যান্ত লজ্জাজনক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী জানান, তাঁরা চান অভিযোগ উঠা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিশ্ববদ্যিালয় কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন এবং প্রশাসন বাদী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করবেন। তাহলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস অন্যরা পাবেন না।

আন্দোলনরত সাবিহা নামের চতুর্থ বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, স্যারকে বিভাগকে থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হোক। আমরা কিছুদিন পর ওই সেশনে যাব, এখন যদি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারি তাহলে আমরা কোথায় পড়ালেখা করতে আসছি? আমরা শেষ পর্যন্ত এই শিক্ষকের বহিষ্কার দেখতে চাই।

এ বিষয়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড.দেবাশিষ পালিতের কাছে জানতে চাইলে তিনি কালের চিঠিকে বলেন, আমরা আজ বেলা সাড়ে ১১টায় একাডেমিক কমিটির সকল শিক্ষক মিলে এই বিষয়টা নিয়ে আলোচনায় বসেছি। কিন্তু আমাদের একটা সীমাবদ্ধতা আছে কারণ আমাদের সব কিছুর অভিভাবক হচ্ছেন উপাচার্য মহোদয়। তিনিই বড় সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে থাকেন। তবে আমরা আজ সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যতদিন পর্যন্ত তদন্তের কাজ শেষ না হয় ততদিন পর্যন্তর অভিযুক্ত শিক্ষককে সকল একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’

অভিযোগের সত্যতার ব্যাপারে জানতে চাইলে দেবাশিষ পালিত বলেন, এটা আমরা শুনেছি তবে তদন্ত করা ছাড়া সত্যতার ব্যাপারটা বলা যাচ্ছে না। আজ এটা নিয়ে উপাচার্যের সাথে মিটিং হবে তখন বোঝা যাবে। তবে আমরা অভিযোগটা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি।

এ দিকে গতকাল বুধবার দুপুরে উপাচার্য শিরীণ আখতারের কাছে এক শিক্ষার্থী নিজ বিভাগের এক অধ্যাপক সম্পর্কে লিখিতভাবে যৌন হয়রানি, যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করেন।

তবে অভিযুক্ত অধ্যাপক অভিযোগটি অত্যন্ত মানহানিকর এবং অত্যন্ত নেক্কারজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন।