বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শত বছরের পুরনো মেলায় গ্রাম জুড়ে উৎসবের আমেজ

শতবর্ষী বটবৃক্ষের নিচে ছোট ছোট শতাধিক দোকান। বাহারি সব পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন দোকানিরা । ক্রেতারাও ছুটছেন নিজেদের প্রয়োজনীয় তৈজসপত্র সংগ্রহ করতে। মেলার একপাশে ঘুরছে নাগরদোলা অন্যদিকে চলছে হিন্দু সম্প্রদায়ের দেবতা গৌড় – নিতাইয়ের পূজা অর্চনা । বলছি গাইবান্ধার ঐতিহ্যবাহী ঠাকুরবাড়ি মেলার কথা ।

 

গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে মাত্র সাত কিলোমিটার দক্ষিণে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামে বৈশাখ মাস ব্যাপী চলা এই মেলাটিকে ঘিরে পুরো গ্রামজুড়ে চলে উৎসবের আমেজ ।

 

আধুনিকতার ছোঁয়ায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সহজলভ্যতার কারনে গাইবান্ধার বিভিন্ন স্থানের বৈশাখী মেলা গুলো জৌলুস হারিয়ে বিলুপ্ত হলেও প্রায় দেড় শত বছর‌ ধরে ঐতিহ্যকে লালন করে নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রেখেছে ঠাকুরবাড়ি মেলা ।‌

 

এদিকে মেলার উপলক্ষ হিন্দু সম্প্রদায়ের হলেও সভ্যতা,সংস্কৃতি আর শেকড়ের টানে সবাই ছুটে আসেন ঠাকুরবাড়ি মেলায়। যে কারণে এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে দেখা যায় উৎসবের আমেজ। মেলা উপলক্ষে এলাকার মেয়ে, জামাই ও আত্নীয় স্বজনের নিমন্ত্রণের রেওয়াজ দীর্ঘদিনের।

 

প্রাচীন এই বৈশাখী মেলার মুখোরচোক খাবার থেকে শুরু করে খেলনা, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য আকৃষ্ট করে স্থানীয় গ্রামবাসীসহ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শনার্থীদের। বৈশাখ মাসের প্রতি রবিবার ও বৃহস্পতিবার ব্যাপী চলা এই মেলার দিনে কয়েক হাজার মানুষের আগমন ঘটে।

 

 

 

মেলার ইতিহাস থেকে জানা যায়, স্থানীয় জমিদার সুরেন্দ্র মোহন রায়ের মামা প্রমানন্দ রায় আনুমানিক দেড়শত বছর আগে সনাতন ধর্মের দেবতা গৌড়- নিতাইয়ের পূজা অর্চনার জন্য বাড়ির পাশের উঁচু ভিটায় একটি মন্দির প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই মেলার আয়োজন শুরু করেন ।সেই থেকে আজ অবধি প্রতি বছর বৈশাখ মাস জুড়ে ঠাকুরবাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে এই মেলা বসে ।

 

সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণে ঘুরে দেখা যায়, গ্রামীণ পণ্যের বাহারি পসরা সাজিয়ে বসে আছে ব্যবসায়ীরা । মাটির তৈরি তৈজসপত্র , মাটির টেপা পুতুল, কাচের চুড়ি, কাঠের পুতুল, ঢোলগাড়ি , লাঠি গাড়ি, কাঠের তৈরি ট্রাক, নৌকা , হাতপাখা, মুড়ি-মুড়কি, বাঁশি, শিশুদের নানা রকম খেলনা সহ বাহারি সব পণ্য কিনে নিচ্ছেন মেলায় ঘুরতে আসা মানুষজন।

 

 

 

মাটির তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করতে আসা , সুজন পাল বলেন , আমি প্রায় ২০ বছর ধরে এই মেলায় দোকান বসাই । মেলার দিনে কয়েক হাজার মানুষের আগমন ঘটে মন্দির প্রাঙ্গণে । বেচা বিক্রি মেলা উপলক্ষে ভালো হয় । তবে আগের মতো মাটির তৈরি জিনিসপত্রের আর চাহিদা নেই । প্লাস্টিকের তৈরি বিভিন্ন খেলনা সামগ্রী বাজারে সহজলভ্য হওয়ায় মাটির তৈরি খেলনা আর চলে না তবুও অনেকেই শখের বসে বাচ্চাদের কিনে দেয় ।

 

মেলায় ঘুরতে আসা, শহিদুল ইসলাম নামের এক দর্শনার্থী বলেন , ঠাকুরবাড়ি মেলাটি এই অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন একটি মেলা । ছোট বেলায় আমার বাবাও আমাকে মেলায় নিয়ে এসেছিলেন। স্মৃতিচারণ করতে বহু বছর পর আমি আমার ছেলে মেয়েদের সাথে নিয়ে মেলা দেখতে এসেছি ।

মেলা আয়োজক পরিবারের সদস্য , সুকুমার রায় বলেন, ঠাকুরবাড়ি মেলাটির প্রচলন শুরু হয়েছে আমার বংশের পূর্ব প্রজন্মের হাত ধরে ‌ । গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় প্রতিবছর উৎসব মূখর পরিবেশে এই মেলার আয়োজন করা হয়। মেলার সময় স্থানীয় গ্রামবাসীদের ঘরে ঘরে আত্নীয় স্বজনের আগমন ঘটে। মেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের রীতি অনুযায়ী পূজা অর্চনা হলেও সব ধর্মের মানুষের উপস্থিতি এটিকে সর্বজনীন উৎসবে পরিণত করেছে ।

নারী, ভোট ও রাষ্ট্রের নৈতিকতা

শত বছরের পুরনো মেলায় গ্রাম জুড়ে উৎসবের আমেজ

প্রকাশের সময়: ০৯:১৮:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ মে ২০২৪

শতবর্ষী বটবৃক্ষের নিচে ছোট ছোট শতাধিক দোকান। বাহারি সব পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন দোকানিরা । ক্রেতারাও ছুটছেন নিজেদের প্রয়োজনীয় তৈজসপত্র সংগ্রহ করতে। মেলার একপাশে ঘুরছে নাগরদোলা অন্যদিকে চলছে হিন্দু সম্প্রদায়ের দেবতা গৌড় – নিতাইয়ের পূজা অর্চনা । বলছি গাইবান্ধার ঐতিহ্যবাহী ঠাকুরবাড়ি মেলার কথা ।

 

গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে মাত্র সাত কিলোমিটার দক্ষিণে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামে বৈশাখ মাস ব্যাপী চলা এই মেলাটিকে ঘিরে পুরো গ্রামজুড়ে চলে উৎসবের আমেজ ।

 

আধুনিকতার ছোঁয়ায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সহজলভ্যতার কারনে গাইবান্ধার বিভিন্ন স্থানের বৈশাখী মেলা গুলো জৌলুস হারিয়ে বিলুপ্ত হলেও প্রায় দেড় শত বছর‌ ধরে ঐতিহ্যকে লালন করে নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রেখেছে ঠাকুরবাড়ি মেলা ।‌

 

এদিকে মেলার উপলক্ষ হিন্দু সম্প্রদায়ের হলেও সভ্যতা,সংস্কৃতি আর শেকড়ের টানে সবাই ছুটে আসেন ঠাকুরবাড়ি মেলায়। যে কারণে এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে দেখা যায় উৎসবের আমেজ। মেলা উপলক্ষে এলাকার মেয়ে, জামাই ও আত্নীয় স্বজনের নিমন্ত্রণের রেওয়াজ দীর্ঘদিনের।

 

প্রাচীন এই বৈশাখী মেলার মুখোরচোক খাবার থেকে শুরু করে খেলনা, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য আকৃষ্ট করে স্থানীয় গ্রামবাসীসহ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শনার্থীদের। বৈশাখ মাসের প্রতি রবিবার ও বৃহস্পতিবার ব্যাপী চলা এই মেলার দিনে কয়েক হাজার মানুষের আগমন ঘটে।

 

 

 

মেলার ইতিহাস থেকে জানা যায়, স্থানীয় জমিদার সুরেন্দ্র মোহন রায়ের মামা প্রমানন্দ রায় আনুমানিক দেড়শত বছর আগে সনাতন ধর্মের দেবতা গৌড়- নিতাইয়ের পূজা অর্চনার জন্য বাড়ির পাশের উঁচু ভিটায় একটি মন্দির প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই মেলার আয়োজন শুরু করেন ।সেই থেকে আজ অবধি প্রতি বছর বৈশাখ মাস জুড়ে ঠাকুরবাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে এই মেলা বসে ।

 

সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণে ঘুরে দেখা যায়, গ্রামীণ পণ্যের বাহারি পসরা সাজিয়ে বসে আছে ব্যবসায়ীরা । মাটির তৈরি তৈজসপত্র , মাটির টেপা পুতুল, কাচের চুড়ি, কাঠের পুতুল, ঢোলগাড়ি , লাঠি গাড়ি, কাঠের তৈরি ট্রাক, নৌকা , হাতপাখা, মুড়ি-মুড়কি, বাঁশি, শিশুদের নানা রকম খেলনা সহ বাহারি সব পণ্য কিনে নিচ্ছেন মেলায় ঘুরতে আসা মানুষজন।

 

 

 

মাটির তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করতে আসা , সুজন পাল বলেন , আমি প্রায় ২০ বছর ধরে এই মেলায় দোকান বসাই । মেলার দিনে কয়েক হাজার মানুষের আগমন ঘটে মন্দির প্রাঙ্গণে । বেচা বিক্রি মেলা উপলক্ষে ভালো হয় । তবে আগের মতো মাটির তৈরি জিনিসপত্রের আর চাহিদা নেই । প্লাস্টিকের তৈরি বিভিন্ন খেলনা সামগ্রী বাজারে সহজলভ্য হওয়ায় মাটির তৈরি খেলনা আর চলে না তবুও অনেকেই শখের বসে বাচ্চাদের কিনে দেয় ।

 

মেলায় ঘুরতে আসা, শহিদুল ইসলাম নামের এক দর্শনার্থী বলেন , ঠাকুরবাড়ি মেলাটি এই অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন একটি মেলা । ছোট বেলায় আমার বাবাও আমাকে মেলায় নিয়ে এসেছিলেন। স্মৃতিচারণ করতে বহু বছর পর আমি আমার ছেলে মেয়েদের সাথে নিয়ে মেলা দেখতে এসেছি ।

মেলা আয়োজক পরিবারের সদস্য , সুকুমার রায় বলেন, ঠাকুরবাড়ি মেলাটির প্রচলন শুরু হয়েছে আমার বংশের পূর্ব প্রজন্মের হাত ধরে ‌ । গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় প্রতিবছর উৎসব মূখর পরিবেশে এই মেলার আয়োজন করা হয়। মেলার সময় স্থানীয় গ্রামবাসীদের ঘরে ঘরে আত্নীয় স্বজনের আগমন ঘটে। মেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের রীতি অনুযায়ী পূজা অর্চনা হলেও সব ধর্মের মানুষের উপস্থিতি এটিকে সর্বজনীন উৎসবে পরিণত করেছে ।