বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জ্বালানির অভাব, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে তাৎক্ষণিক বিকল্প নেই বিপিডিবির

 

ভারত থেকে আদানির মাধ্যমে আমদানীকৃত বিদ্যুতের বেশির ভাগ দেশের উত্তরাঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। ওই অঞ্চলে এ মুহূর্তে বড় সক্ষমতার তেমন কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র নেই। ফলে কোনো কারণে আমদানি বিদ্যুতের সরবরাহ কমে গেলে সেখানে সরবরাহ করতে হবে জ্বালানি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালিয়ে। কিন্তু এজন্য পর্যাপ্ত জ্বালানির সংস্থান নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও পাওয়ার সেলের সাবেক ডিজি বিডি রহমত উল্লাহ বলেন, ‘গ্রিডে বড় কোনো সক্ষমতা ট্রিপ করলে বা অন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুতের সরবরাহ নিতে হলে সেগুলোর জন্য যে প্রয়োজনীয় জ্বালানি দরকার, সেটি নেই। একই সঙ্গে ভারত থেকে আমদানি বা বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গেলে অথবা বন্ধ হলে তার প্রস্তুতি বিপিডিবির এ মুহূর্তে আছে কিনা, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। বিপিডিবির প্রস্তুতি নেয়া উচিত। কারণ আদানি যেদিন থেকে ভারতীয় গ্রিডে তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখন থেকেই বিকল্প একটা পরিকল্পনা নেয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।’

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে বিপিডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দেশে জ্বালানি সংকট থাকায় আমদানি বিদ্যুতে নির্ভরতা বেড়েছে। কারণ সেই আমদানির পরিমাণটাও কম নয়। তবে কোনো কারণে সংকট তৈরি হলে জ্বালানি সংকটের যে চিত্র তার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা বা বিকল্প সরবরাহ সক্ষমতা এ মুহূর্তে তৈরি করা নেই।’

দেশের বিদ্যুতের প্রতিদিন যে চাহিদা তৈরি হচ্ছে তা উৎপাদন করতে গিয়ে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিদ্যুতের সক্ষমতা সাড়ে ২৭ হাজার মেগাওয়াট থাকলেও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা অর্ধেক বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। উচ্চ খরচের কারণে চালানো যাচ্ছে না জ্বালানি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। অন্যদিকে গ্যাসভিত্তিক বৃহৎ সক্ষমতার চারটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রস্তুত হলেও জ্বালানি সংকটের কারণে তা ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না। এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট সক্ষমতা ২ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। এমনকি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানো না গেলে কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো ঝুঁকির কথাও উঠে এসেছে।

দেশে বিদ্যুতের ইনস্টল ক্যাপাসিটি ২৭ হাজার ৮০০ মেগাওয়াটের কিছু বেশি। এর মধ্যে শুধু গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ১২ হাজার ৩০০ মেগাওয়াটের কিছু বেশি। তবে গ্যাস সংকটের কারণে চালানো যায় সবোচ্চ ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট, বাকি সক্ষমতা ব্যবহার করা যায় না।

অন্যদিকে জ্বালানি তেলভিত্তিক ৬ হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকলেও উচ্চমূল্য ও জ্বালানি সংকটে সেগুলোও দেড় থেকে দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি ব্যবহার করা হয় না।

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ভূমিকা অন্যতম। গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে অপারেশনে নেই সামিটের এলএনজি টার্মিনাল। গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে দৈনিক ৬০ কোটি ঘনফুট। অন্যদিকে কয়লাভিত্তিক বড় কেন্দ্রগুলো রয়েছে বড় আকারের জ্বালানি সংকটে। বিপুল পরিমাণ বকেয়া থাকায় জ্বালানি তেলও আমদানি করা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতি চলতে থাকায় এরইমধ্যে দিনাজপুরের একমাত্র কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে।  ৫২৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তীব্র প্রেশার ফেলছে সরবরাহ কাযক্রমে। জ্বালানি সংকটে সার উৎপাদনে গ্যাসের সরবরাহ সীমিত হচ্ছে।

 

কালের চিঠি /কনক

জনপ্রিয়

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী বাদলের মৃত্যু

জ্বালানির অভাব, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে তাৎক্ষণিক বিকল্প নেই বিপিডিবির

প্রকাশের সময়: ০৬:০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪

 

ভারত থেকে আদানির মাধ্যমে আমদানীকৃত বিদ্যুতের বেশির ভাগ দেশের উত্তরাঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। ওই অঞ্চলে এ মুহূর্তে বড় সক্ষমতার তেমন কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র নেই। ফলে কোনো কারণে আমদানি বিদ্যুতের সরবরাহ কমে গেলে সেখানে সরবরাহ করতে হবে জ্বালানি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালিয়ে। কিন্তু এজন্য পর্যাপ্ত জ্বালানির সংস্থান নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও পাওয়ার সেলের সাবেক ডিজি বিডি রহমত উল্লাহ বলেন, ‘গ্রিডে বড় কোনো সক্ষমতা ট্রিপ করলে বা অন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুতের সরবরাহ নিতে হলে সেগুলোর জন্য যে প্রয়োজনীয় জ্বালানি দরকার, সেটি নেই। একই সঙ্গে ভারত থেকে আমদানি বা বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গেলে অথবা বন্ধ হলে তার প্রস্তুতি বিপিডিবির এ মুহূর্তে আছে কিনা, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। বিপিডিবির প্রস্তুতি নেয়া উচিত। কারণ আদানি যেদিন থেকে ভারতীয় গ্রিডে তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখন থেকেই বিকল্প একটা পরিকল্পনা নেয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।’

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে বিপিডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দেশে জ্বালানি সংকট থাকায় আমদানি বিদ্যুতে নির্ভরতা বেড়েছে। কারণ সেই আমদানির পরিমাণটাও কম নয়। তবে কোনো কারণে সংকট তৈরি হলে জ্বালানি সংকটের যে চিত্র তার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা বা বিকল্প সরবরাহ সক্ষমতা এ মুহূর্তে তৈরি করা নেই।’

দেশের বিদ্যুতের প্রতিদিন যে চাহিদা তৈরি হচ্ছে তা উৎপাদন করতে গিয়ে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিদ্যুতের সক্ষমতা সাড়ে ২৭ হাজার মেগাওয়াট থাকলেও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা অর্ধেক বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। উচ্চ খরচের কারণে চালানো যাচ্ছে না জ্বালানি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। অন্যদিকে গ্যাসভিত্তিক বৃহৎ সক্ষমতার চারটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রস্তুত হলেও জ্বালানি সংকটের কারণে তা ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না। এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট সক্ষমতা ২ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। এমনকি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানো না গেলে কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো ঝুঁকির কথাও উঠে এসেছে।

দেশে বিদ্যুতের ইনস্টল ক্যাপাসিটি ২৭ হাজার ৮০০ মেগাওয়াটের কিছু বেশি। এর মধ্যে শুধু গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ১২ হাজার ৩০০ মেগাওয়াটের কিছু বেশি। তবে গ্যাস সংকটের কারণে চালানো যায় সবোচ্চ ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট, বাকি সক্ষমতা ব্যবহার করা যায় না।

অন্যদিকে জ্বালানি তেলভিত্তিক ৬ হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকলেও উচ্চমূল্য ও জ্বালানি সংকটে সেগুলোও দেড় থেকে দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি ব্যবহার করা হয় না।

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ভূমিকা অন্যতম। গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে অপারেশনে নেই সামিটের এলএনজি টার্মিনাল। গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে দৈনিক ৬০ কোটি ঘনফুট। অন্যদিকে কয়লাভিত্তিক বড় কেন্দ্রগুলো রয়েছে বড় আকারের জ্বালানি সংকটে। বিপুল পরিমাণ বকেয়া থাকায় জ্বালানি তেলও আমদানি করা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতি চলতে থাকায় এরইমধ্যে দিনাজপুরের একমাত্র কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে।  ৫২৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তীব্র প্রেশার ফেলছে সরবরাহ কাযক্রমে। জ্বালানি সংকটে সার উৎপাদনে গ্যাসের সরবরাহ সীমিত হচ্ছে।

 

কালের চিঠি /কনক