বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বকেয়া বিল পরিশোধ করতে নতুন সরকারকে তাগাদা দিচ্ছে আদানি গ্রুপ

বিদ্যুৎ বিক্রি বাবদ ৫০ কোটি ডলার পাওনা আদায়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে তাগাদা দিয়েছে ভারতের ধনকুবের গৌতম আদানির প্রতিষ্ঠান আদানি গ্রুপ। অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ফয়জুল কবির খান জানিয়েছেন, এই অর্থ পরিশোধে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছে বাংলাদেশের সরকার। গতকাল সোমবার যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এ নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে।

 

ভারতের ঝাড়খ-ের ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের গড্ডা কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় বাবদ আদানির কাছে বাংলাদেশের বকেয়া ৫০০ মিলিয়ন বা ৫০ কোটি ডলার হয়েছে।

 

এ পরিস্থিতিকে আদানি গ্রুপ ‘টেকসই নয়’ বলে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছে। গ্রুপের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা জানি বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। দেশটির নতুন সরকারের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং বকেয়া পরিশোধসংক্রান্ত আলোচনার পাশাপাশি সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা নিয়েও আমাদের কথাবার্তা হচ্ছে।

 

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালে ভারতের ঝাড়খ- রাজ্যের গড্ডায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম একটি কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু করেছিল আদানি গোষ্ঠী। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এর কাজ শেষ হয়। বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে, এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুতের শতভাগ বাংলাদেশে রপ্তানি করা হবে। গত বছর থেকে তা শুরুও হয়। তবে চলতি বছর ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর সার্বিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। ড. মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে নতুন অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যাবতীয় চুক্তি পর্যালোচনার ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে আদানির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিও রয়েছে।

 

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসের জ্বালানিবিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা ফয়জুল কবির খান জানান, আদানিগোষ্ঠীর কাছে বাংলাদেশের পাওনা রয়েছে ৪৯ কোটি ২০ লাখ ডলার। এই অর্থ পরিশোধ কাজ করছে বাংলাদেশের সরকার।

 

এর আগে গুঞ্জন উঠেছিল, সরকার পরিবর্তনের জেরে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে আদানিগোষ্ঠী। তবে আদানি গ্রুপের কর্মকর্তারা বলেছেন, গড্ডার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ভারতের জাতীয় গ্রিড বা অন্য কোনো দেশের গ্রিডের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয়। তাই শিগগিরই এমন ঘটার কোনো আশঙ্কাও নেই।

জনপ্রিয়

নারী, ভোট ও রাষ্ট্রের নৈতিকতা

বকেয়া বিল পরিশোধ করতে নতুন সরকারকে তাগাদা দিচ্ছে আদানি গ্রুপ

প্রকাশের সময়: ০১:২৫:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪

বিদ্যুৎ বিক্রি বাবদ ৫০ কোটি ডলার পাওনা আদায়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে তাগাদা দিয়েছে ভারতের ধনকুবের গৌতম আদানির প্রতিষ্ঠান আদানি গ্রুপ। অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ফয়জুল কবির খান জানিয়েছেন, এই অর্থ পরিশোধে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছে বাংলাদেশের সরকার। গতকাল সোমবার যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এ নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে।

 

ভারতের ঝাড়খ-ের ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের গড্ডা কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় বাবদ আদানির কাছে বাংলাদেশের বকেয়া ৫০০ মিলিয়ন বা ৫০ কোটি ডলার হয়েছে।

 

এ পরিস্থিতিকে আদানি গ্রুপ ‘টেকসই নয়’ বলে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছে। গ্রুপের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা জানি বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। দেশটির নতুন সরকারের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং বকেয়া পরিশোধসংক্রান্ত আলোচনার পাশাপাশি সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা নিয়েও আমাদের কথাবার্তা হচ্ছে।

 

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালে ভারতের ঝাড়খ- রাজ্যের গড্ডায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম একটি কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু করেছিল আদানি গোষ্ঠী। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এর কাজ শেষ হয়। বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে, এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুতের শতভাগ বাংলাদেশে রপ্তানি করা হবে। গত বছর থেকে তা শুরুও হয়। তবে চলতি বছর ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর সার্বিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। ড. মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে নতুন অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যাবতীয় চুক্তি পর্যালোচনার ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে আদানির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিও রয়েছে।

 

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসের জ্বালানিবিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা ফয়জুল কবির খান জানান, আদানিগোষ্ঠীর কাছে বাংলাদেশের পাওনা রয়েছে ৪৯ কোটি ২০ লাখ ডলার। এই অর্থ পরিশোধ কাজ করছে বাংলাদেশের সরকার।

 

এর আগে গুঞ্জন উঠেছিল, সরকার পরিবর্তনের জেরে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে আদানিগোষ্ঠী। তবে আদানি গ্রুপের কর্মকর্তারা বলেছেন, গড্ডার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ভারতের জাতীয় গ্রিড বা অন্য কোনো দেশের গ্রিডের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয়। তাই শিগগিরই এমন ঘটার কোনো আশঙ্কাও নেই।