বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় গানে – নাচে আবৃত্তিতে শিশুদের অধিকার রক্ষার ডাক

মঞ্চে বড়দের উপস্থিতি থাকলেও সেদিন পুরো আয়োজনের নিয়ন্ত্রণ ছিল শিশুদের হাতে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা থেকে শুরু করে স্বাগত বক্তব্য, গান, আবৃত্তি ও নৃত্য—সবকিছুই করেছে শিশুরা। আর বড়দের জন্য ছিল দর্শকের আসন। শিশুদের এমন অংশগ্রহণে বিশ্ব শিশু দিবসের আয়োজন হয়ে উঠেছিল শিশুদের অধিকার ও তাদের কথা বলার এক ব্যতিক্রমী মঞ্চ।

গতকাল সোমবার (৫ অক্টোবর)  গাইবান্ধা নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থার ডা. সাখাওয়াত হোসেন খান মুক্ত মঞ্চে এ আয়োজন করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী গাইবান্ধা পরিচালিত সত্যেন সেন সংগীত বিদ্যালয়। ‘আমরা যদি না জাগি মা, কেমনে সকাল হবে’ শিরোনামে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি চলে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত।
অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই ছিল শিশুদের সরব উপস্থিতি। উপস্থাপনার দায়িত্বে ছিল সন্ধি, অবনী ও মৈত্রী। তারা একের পর এক পরিবেশনার নাম ঘোষণা করে অনুষ্ঠানকে এগিয়ে নেয়। স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষার্থী পরমব্রত।


এরপর মঞ্চে একে একে পরিবেশিত হয় সম্মিলিত গান, নজরুল সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য। এসব পরিবেশনায় অংশ নেয় তরী, দিপান্বিতা, প্রার্থনা, সন্ধি, শামস, রাশিন, নভোনীলসহ বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী। শিশুদের কণ্ঠের গান, আবৃত্তি ও নৃত্যের ছন্দে মুখর হয়ে ওঠে মুক্ত মঞ্চ। প্রতিটি পরিবেশনার পর দর্শকদের করতালিতে উৎসাহিত হয় শিশুরা।
এবারের বিশ্ব শিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শিশুদের কথা শুনুন, প্রতিটি শিশুর অধিকার রক্ষায় প্রতিদিন সোচ্চার হোন’। সেই বার্তাকেই সামনে রেখে আয়োজনে শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
শিশুরাই যখন পুরো আয়োজন পরিচালনা করেছে, তখন প্রতিপাদ্যের ‘শিশুদের কথা শুনুন’ বার্তাটি যেন বাস্তব রূপ পেয়েছে। বড়রা সেদিন ছিলেন শ্রোতার ভূমিকায়, আর শিশুরাই নিজেদের প্রতিভা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে নিজেদের কথা বলেছে।


অনুষ্ঠান শেষে সত্যেন সেন সংগীত বিদ্যালয়ের পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, সুন্দর, বৈষম্যহীন ও শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। শিশুদের কথা শোনা ও তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুরক্ষা ও বিকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
উদীচী গাইবান্ধা জেলা সংসদের সভাপতি লেখক-গবেষক জহুরুল কাইয়ুম বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রকে শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হতে হবে। শিশুদের সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
আয়োজকেরা জানান, এ ধরনের আয়োজন শুধু দিবস পালনের আনুষ্ঠানিকতা নয়। গান, আবৃত্তি ও নৃত্যের মাধ্যমে শিশুদের প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশের পাশাপাশি মঞ্চ পরিচালনার সুযোগ তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। শৈশব থেকেই সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা শিশুদের মানবিক, সৃজনশীল ও সচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে।
রাত গাঢ় হওয়ার সঙ্গে শেষ হয় আয়োজন। তবে মুক্ত মঞ্চের সেই সন্ধ্যা যেন রেখে যায় একটি স্পষ্ট বার্তা—শিশুদের কথা বলার সুযোগ দিতে হবে, তাদের কথা শুনতে হবে এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে

গাইবান্ধায় গানে – নাচে আবৃত্তিতে শিশুদের অধিকার রক্ষার ডাক

গাইবান্ধায় গানে – নাচে আবৃত্তিতে শিশুদের অধিকার রক্ষার ডাক

প্রকাশের সময়: ১১:৩৬:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

মঞ্চে বড়দের উপস্থিতি থাকলেও সেদিন পুরো আয়োজনের নিয়ন্ত্রণ ছিল শিশুদের হাতে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা থেকে শুরু করে স্বাগত বক্তব্য, গান, আবৃত্তি ও নৃত্য—সবকিছুই করেছে শিশুরা। আর বড়দের জন্য ছিল দর্শকের আসন। শিশুদের এমন অংশগ্রহণে বিশ্ব শিশু দিবসের আয়োজন হয়ে উঠেছিল শিশুদের অধিকার ও তাদের কথা বলার এক ব্যতিক্রমী মঞ্চ।

গতকাল সোমবার (৫ অক্টোবর)  গাইবান্ধা নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থার ডা. সাখাওয়াত হোসেন খান মুক্ত মঞ্চে এ আয়োজন করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী গাইবান্ধা পরিচালিত সত্যেন সেন সংগীত বিদ্যালয়। ‘আমরা যদি না জাগি মা, কেমনে সকাল হবে’ শিরোনামে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি চলে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত।
অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই ছিল শিশুদের সরব উপস্থিতি। উপস্থাপনার দায়িত্বে ছিল সন্ধি, অবনী ও মৈত্রী। তারা একের পর এক পরিবেশনার নাম ঘোষণা করে অনুষ্ঠানকে এগিয়ে নেয়। স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষার্থী পরমব্রত।


এরপর মঞ্চে একে একে পরিবেশিত হয় সম্মিলিত গান, নজরুল সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য। এসব পরিবেশনায় অংশ নেয় তরী, দিপান্বিতা, প্রার্থনা, সন্ধি, শামস, রাশিন, নভোনীলসহ বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী। শিশুদের কণ্ঠের গান, আবৃত্তি ও নৃত্যের ছন্দে মুখর হয়ে ওঠে মুক্ত মঞ্চ। প্রতিটি পরিবেশনার পর দর্শকদের করতালিতে উৎসাহিত হয় শিশুরা।
এবারের বিশ্ব শিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শিশুদের কথা শুনুন, প্রতিটি শিশুর অধিকার রক্ষায় প্রতিদিন সোচ্চার হোন’। সেই বার্তাকেই সামনে রেখে আয়োজনে শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
শিশুরাই যখন পুরো আয়োজন পরিচালনা করেছে, তখন প্রতিপাদ্যের ‘শিশুদের কথা শুনুন’ বার্তাটি যেন বাস্তব রূপ পেয়েছে। বড়রা সেদিন ছিলেন শ্রোতার ভূমিকায়, আর শিশুরাই নিজেদের প্রতিভা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে নিজেদের কথা বলেছে।


অনুষ্ঠান শেষে সত্যেন সেন সংগীত বিদ্যালয়ের পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, সুন্দর, বৈষম্যহীন ও শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। শিশুদের কথা শোনা ও তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুরক্ষা ও বিকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
উদীচী গাইবান্ধা জেলা সংসদের সভাপতি লেখক-গবেষক জহুরুল কাইয়ুম বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রকে শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হতে হবে। শিশুদের সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
আয়োজকেরা জানান, এ ধরনের আয়োজন শুধু দিবস পালনের আনুষ্ঠানিকতা নয়। গান, আবৃত্তি ও নৃত্যের মাধ্যমে শিশুদের প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশের পাশাপাশি মঞ্চ পরিচালনার সুযোগ তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। শৈশব থেকেই সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা শিশুদের মানবিক, সৃজনশীল ও সচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে।
রাত গাঢ় হওয়ার সঙ্গে শেষ হয় আয়োজন। তবে মুক্ত মঞ্চের সেই সন্ধ্যা যেন রেখে যায় একটি স্পষ্ট বার্তা—শিশুদের কথা বলার সুযোগ দিতে হবে, তাদের কথা শুনতে হবে এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে