সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জিততে জিততে হতাশার হার মেয়েদের

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচটা ছিল জয় পাওয়ার মতোই। এক সময় ৭৮ রানে প্রতিপক্ষের অর্ধেক ব্যাটারকে সাজঘরে পাঠিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। মনে হচ্ছিল, ইতিহাস গড়ার পথে এগোচ্ছে নিগার সুলতানার দল। কিন্তু শেষ দিকে সুযোগ হাতছাড়া করে শেষমেশ তিন উইকেটে হারতে হলো টাইগ্রেসদের।

নারী বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে সাত উইকেটে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছিল বাংলাদেশ। এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই করেও চার উইকেটে হার, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হতাশাজনক পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার সুযোগ। আর সে সুযোগে লড়াইটা জমে উঠেছিল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।

রোমাঞ্চকর এই ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং নেয় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ছয় উইকেটে তোলে ২৩২ রান—যা এই টুর্নামেন্টে দলের সর্বোচ্চ স্কোর। ইনিংসের নায়ক স্বর্ণা আক্তার, যিনি মাত্র ৩৫ বলে অপরাজিত ৫১ রান করেন। এটি বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্রুততম অর্ধশতক। ওপেনার শারমিন আক্তার সুপ্তাও খেলেন ধৈর্যশীল ইনিংস, ৭৭ বলে ৫১ রান।

এছাড়া ফারজানা হক (৩০), অধিনায়ক নিগার সুলতানা (৩২), রুবিয়া হায়দার (২৫) এবং রিতু মনি (১৯) ব্যাট হাতে দলের রান সমৃদ্ধ করেন। শেষ ১০ ওভারে আসে ৮২ রান—যা দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে লড়াইয়ের মতো লক্ষ্য দাঁড় করায়।

২৩৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে প্রোটিয়ারা। বাংলাদেশের স্পিন ত্রয়ী দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২৩ ওভারের মধ্যেই প্রতিপক্ষকে ৭৮ রানে ৫ উইকেটে নামিয়ে দেয়।

কিন্তু সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা। অভিজ্ঞ মারিজান ক্যাপ (৫৬) এবং ক্লোয়ি ট্রায়ন (৬২) জুটিতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। শেষ দিকে নাদিন ডি ক্লার্ক দায়িত্ব নেন দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে।

শেষ ওভারের আগেই গুরুত্বপূর্ণ এক ক্যাচ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ—যা ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। শেষ পর্যন্ত তিন বল বাকি থাকতে প্রোটিয়ারা জয় তুলে নেয় তিন উইকেটে।

আশা জাগানো ব্যাটিং, দারুণ স্পিন বোলিং, তবু জয় নয়—বাংলাদেশ নারী দলের জন্য আবারও এক বেদনাময় শিক্ষা রেখে গেল এই ম্যাচ। তবু দলের লড়াকু মানসিকতা ও উন্নত পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য নতুন আশার বার্তা দিচ্ছে।

জনপ্রিয়

জিততে জিততে হতাশার হার মেয়েদের

প্রকাশের সময়: ০১:৫৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচটা ছিল জয় পাওয়ার মতোই। এক সময় ৭৮ রানে প্রতিপক্ষের অর্ধেক ব্যাটারকে সাজঘরে পাঠিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। মনে হচ্ছিল, ইতিহাস গড়ার পথে এগোচ্ছে নিগার সুলতানার দল। কিন্তু শেষ দিকে সুযোগ হাতছাড়া করে শেষমেশ তিন উইকেটে হারতে হলো টাইগ্রেসদের।

নারী বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে সাত উইকেটে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছিল বাংলাদেশ। এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই করেও চার উইকেটে হার, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হতাশাজনক পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার সুযোগ। আর সে সুযোগে লড়াইটা জমে উঠেছিল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।

রোমাঞ্চকর এই ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং নেয় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ছয় উইকেটে তোলে ২৩২ রান—যা এই টুর্নামেন্টে দলের সর্বোচ্চ স্কোর। ইনিংসের নায়ক স্বর্ণা আক্তার, যিনি মাত্র ৩৫ বলে অপরাজিত ৫১ রান করেন। এটি বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্রুততম অর্ধশতক। ওপেনার শারমিন আক্তার সুপ্তাও খেলেন ধৈর্যশীল ইনিংস, ৭৭ বলে ৫১ রান।

এছাড়া ফারজানা হক (৩০), অধিনায়ক নিগার সুলতানা (৩২), রুবিয়া হায়দার (২৫) এবং রিতু মনি (১৯) ব্যাট হাতে দলের রান সমৃদ্ধ করেন। শেষ ১০ ওভারে আসে ৮২ রান—যা দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে লড়াইয়ের মতো লক্ষ্য দাঁড় করায়।

২৩৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে প্রোটিয়ারা। বাংলাদেশের স্পিন ত্রয়ী দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২৩ ওভারের মধ্যেই প্রতিপক্ষকে ৭৮ রানে ৫ উইকেটে নামিয়ে দেয়।

কিন্তু সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা। অভিজ্ঞ মারিজান ক্যাপ (৫৬) এবং ক্লোয়ি ট্রায়ন (৬২) জুটিতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। শেষ দিকে নাদিন ডি ক্লার্ক দায়িত্ব নেন দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে।

শেষ ওভারের আগেই গুরুত্বপূর্ণ এক ক্যাচ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ—যা ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। শেষ পর্যন্ত তিন বল বাকি থাকতে প্রোটিয়ারা জয় তুলে নেয় তিন উইকেটে।

আশা জাগানো ব্যাটিং, দারুণ স্পিন বোলিং, তবু জয় নয়—বাংলাদেশ নারী দলের জন্য আবারও এক বেদনাময় শিক্ষা রেখে গেল এই ম্যাচ। তবু দলের লড়াকু মানসিকতা ও উন্নত পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য নতুন আশার বার্তা দিচ্ছে।