
মদ খেয়ে মসজিদের জানালার এক টুকরো কাঁচ ভেঙ্গে ফেলায় কমিটির মাইকে ঘোষণা দিয়ে মাতাল ব্যক্তির ঘর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে শতাধিক গ্রামবাসী। গতকাল শনিবার (১৯ অক্টোবর ) গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর দক্ষিণ পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, মনোহর পুর গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে জাহিদুল ইসলাম দীর্ঘ দিন থেকেই মাদক সেবন করে আসছিল। গত শুক্রবার স্থানীয় মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে কমিটির সদস্যদের সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে গতকাল সন্ধ্যায় জাহিদুল মদ্য পান করে মসজিদের সামনে গিয়ে মসজিদের একটি জানালার কাঁচ ভেঙে ফেললে মসজিদ কমিটির সদস্যরা মাইকে জাহিদুলের ঘর বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘোষণা দেয় । এরপর আশেপাশের এলাকা থেকে শত শত মানুষ একত্রিত হয়ে জাহিদুল বাড়িতে আগুন দেয় এতে ঘরে থাকা মোটর সাইকেল , টিভি ফ্রিজ সহ মূল্যবান আসবাবপত্র ও নগদ অর্থ পুড়ে যায় । পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে জাহিদুল ইসলামকে উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নেয় ।
জাহিদুলের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, আমার ছেলে মসজিদ কমিটির বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় কমিটির সদস্যরা তার উপর ক্ষিপ্ত ছিল। সে গতকাল সন্ধ্যায় মদ্যপ অবস্থায় মসজিদের জানালায় সামান্য আঘাত করলে জানালার একটি কাঁচ ভেঙ্গে যায়। এরপর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে শতশত গ্রামবাসী আমার বাড়িতে অতর্কিত ভাবে এসে পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা তাদের আটকাতে গেলে তারা আমাদের উপর আক্রমণ করে। হামলাকারীদের হাত জোড় করেও আমি আমার ঘর বাড়ি রক্ষা করতে পারিনি।
হামলার বিষয়ে মসজিদ কমিটির সদস্য মাহাবুব আলম বলেন, আমি ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলাম না, শুনেছি জাহিদুল ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসে মসজিদের বাইরে এসে মুয়াজ্জিন ও মুসল্লিদের হুমকি দিচ্ছিলো এমন সময় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে উত্তেজিত জাহিদুলকে থামানোর চেষ্টা করেও যখন কাজ হচ্ছিলো না তখন এলাকার সবাই তার বাড়িতে গিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মনোহরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাব রিপন বলেন , আমি ঘটনাটি শুনেছি কিন্তু আমার ব্যক্তিগত সমস্যা থাকার কারণে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা সম্ভব হয়নি।
কম্বাইন হিউম্যান রাইটস ওয়ার্ল্ড গাইবান্ধা জেলা শাখার বিশেষ প্রতিনিধি সালাউদ্দিন কাশেম বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার বিষয়টি একদিকে যেমন অন্যায় তেমনি অভিযুক্তর ঘর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়াও অন্যায় । দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কেউ কোন অপরাধ করলে তার জন্য যথাযথ শাস্তির বিধান আছে , তাই কেউ যদি নিজ হাতে আইন তুলে নেয় সেটাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসময় তিনি সকল জনগনকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
















