বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাভারে শ্রমিক বিক্ষোভে বন্ধ ৫২ পোশাক কারখানা

 

ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এছাড়া শ্রমিক অসন্তোষের জেরে অন্তত ৫২টি পোশাক কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এদের মধ্যে ৪৩টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ৯টিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

 

 

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে সড়ক অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক।

 

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের নরসিংহপুর এলাকায় জেনারেশন নেক্সট পোশাক কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নতুন করে শ্রমিক অসন্তোষের জেরে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় প্রায় ৫২টি কারখানার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এগুলোর মধ্যে ৪৩টি কারখানা শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩(১) ধারায় (নো ওয়ার্ক, নো পে) ভিত্তিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ। বেশ কিছু কারখানার গেটে ১৩(১) ধারার নোটিশ দেখা গেছে। এছাড়া সকালে বকেয়া বেতনসহ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে তৈরি পোশাক কারখানা জেনারেশন নেক্সটের শ্রমিকরা নরসিংহপুর এলাকায় বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।

 

 

কারখানাটির শ্রমিকরা জানান, অনেক কারখানায় যখন টিফিন বিল, নাইট বিল, হাজিরা বোনাস সংক্রান্ত দাবি নিয়ে শ্রমিকরা আন্দোলন করছিল, তখন আমাদের কোনো দাবি ছিল না। অন্য কারখানার শ্রমিকরা এসে আমাদের ফ্যাক্টরিতে ঝামেলা করার চেষ্টা করলেও আমরা কাজ করেছি। তারপরও আমাদের মালিক কারখানা বন্ধ করে রেখেছে।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানাটির একজন নারী শ্রমিক বলেন, আগস্ট মাসের বেতন আমাদের এখনো পরিশোধ করা হয়নি। যার কারণে আমরা বাসা ভাড়া ও দোকানের বাকি পরিশোধ করতে পারিনি। তিনি বলেন, আমরা প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার শ্রমিক চরম অসহায় ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন পার করছি। আমরা গরিব বলেই কারখানায় কাজ করতে এসেছি। এর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাই আজ বাধ্য হয়ে আমরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছি।

 

 

হা-মীম গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের গেটে দেওয়া একটি নোটিশে লেখা রয়েছে, দ্যাটস ইট স্পোর্টস ওয়ার লিমিটেড, এ্যাপারেল গ্যালারি লিমিটেড, রিফাত গার্মেন্টস লিমিটেড, এক্সপ্রেস ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড, আর্টিস্টিক ডিজাইন লিমিটেড, নেক্সট কালেকশন লিমিটেড এর সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের জানানো যাচ্ছে যে, আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের বর্তমান সহিংসতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ১৩ (১) অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ আগামী সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) হতে উল্লেখিত কারখানাসমূহ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো। পরবর্তীতে আঞ্চলিক পরিবেশ নিরাপদ হলে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নোটিশের মাধ্যমে কারখানা খোলার তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে। কারখানায় নিরাপত্তা বিভাগ এই নোটিশের আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া অনন্ত গ্রুপের একটি কারখানার গেটেও একই নোটিশ দেখা গেছে।

 

 

এদিকে, নজিরবিহীন নিরাপত্তা সত্বেও শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হওয়া কারখানার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শ্রম খাত ও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন বিদেশি ক্রেতারা। অনিশ্চয়তায় নতুন করে কার্যাদেশ আসছে না বলেও জানিয়েছেন বেশ কয়েকটি কারখানার মালিক।

 

 

তৈরি পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসহ নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরও পরিস্থিতির তেমন কোনো হেরফের হচ্ছে না। কোথাও কোথাও নূন্যতম বেতন ২৫ হাজার টাকা দাবি করায় নতুন করে অস্থিরতার তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কারখানা চালু রাখার মতো অবস্থা নেই

জনপ্রিয়

গাইবান্ধায় জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে থানায় ডায়েরি

সাভারে শ্রমিক বিক্ষোভে বন্ধ ৫২ পোশাক কারখানা

প্রকাশের সময়: ০২:৫০:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪

 

ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এছাড়া শ্রমিক অসন্তোষের জেরে অন্তত ৫২টি পোশাক কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এদের মধ্যে ৪৩টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ৯টিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

 

 

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে সড়ক অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক।

 

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের নরসিংহপুর এলাকায় জেনারেশন নেক্সট পোশাক কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নতুন করে শ্রমিক অসন্তোষের জেরে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় প্রায় ৫২টি কারখানার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এগুলোর মধ্যে ৪৩টি কারখানা শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩(১) ধারায় (নো ওয়ার্ক, নো পে) ভিত্তিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ। বেশ কিছু কারখানার গেটে ১৩(১) ধারার নোটিশ দেখা গেছে। এছাড়া সকালে বকেয়া বেতনসহ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে তৈরি পোশাক কারখানা জেনারেশন নেক্সটের শ্রমিকরা নরসিংহপুর এলাকায় বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।

 

 

কারখানাটির শ্রমিকরা জানান, অনেক কারখানায় যখন টিফিন বিল, নাইট বিল, হাজিরা বোনাস সংক্রান্ত দাবি নিয়ে শ্রমিকরা আন্দোলন করছিল, তখন আমাদের কোনো দাবি ছিল না। অন্য কারখানার শ্রমিকরা এসে আমাদের ফ্যাক্টরিতে ঝামেলা করার চেষ্টা করলেও আমরা কাজ করেছি। তারপরও আমাদের মালিক কারখানা বন্ধ করে রেখেছে।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানাটির একজন নারী শ্রমিক বলেন, আগস্ট মাসের বেতন আমাদের এখনো পরিশোধ করা হয়নি। যার কারণে আমরা বাসা ভাড়া ও দোকানের বাকি পরিশোধ করতে পারিনি। তিনি বলেন, আমরা প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার শ্রমিক চরম অসহায় ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন পার করছি। আমরা গরিব বলেই কারখানায় কাজ করতে এসেছি। এর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাই আজ বাধ্য হয়ে আমরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছি।

 

 

হা-মীম গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের গেটে দেওয়া একটি নোটিশে লেখা রয়েছে, দ্যাটস ইট স্পোর্টস ওয়ার লিমিটেড, এ্যাপারেল গ্যালারি লিমিটেড, রিফাত গার্মেন্টস লিমিটেড, এক্সপ্রেস ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড, আর্টিস্টিক ডিজাইন লিমিটেড, নেক্সট কালেকশন লিমিটেড এর সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের জানানো যাচ্ছে যে, আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের বর্তমান সহিংসতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ১৩ (১) অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ আগামী সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) হতে উল্লেখিত কারখানাসমূহ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো। পরবর্তীতে আঞ্চলিক পরিবেশ নিরাপদ হলে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নোটিশের মাধ্যমে কারখানা খোলার তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে। কারখানায় নিরাপত্তা বিভাগ এই নোটিশের আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া অনন্ত গ্রুপের একটি কারখানার গেটেও একই নোটিশ দেখা গেছে।

 

 

এদিকে, নজিরবিহীন নিরাপত্তা সত্বেও শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হওয়া কারখানার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শ্রম খাত ও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন বিদেশি ক্রেতারা। অনিশ্চয়তায় নতুন করে কার্যাদেশ আসছে না বলেও জানিয়েছেন বেশ কয়েকটি কারখানার মালিক।

 

 

তৈরি পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসহ নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরও পরিস্থিতির তেমন কোনো হেরফের হচ্ছে না। কোথাও কোথাও নূন্যতম বেতন ২৫ হাজার টাকা দাবি করায় নতুন করে অস্থিরতার তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কারখানা চালু রাখার মতো অবস্থা নেই