রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ধর্ষক শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে উত্তাল চবি

 

থিসিসের সময় ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণচেষ্টায় প্রতিবাদে অধ্যাপক মাহবুবুল মতিনের বিরুদ্ধে পঞ্চম দিনের মতো আন্দোলন করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রসায়ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা।

আজ বুধবার(৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২ টায় রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে রসায়ন বিভাগ থেকে শুরু করে প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে আসেন।তারা এ সময় নানা রকম স্লোগান দিয়ে শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান।

এ সময় তারা “লুচ্চা মতিনের ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবেনা”,”ধর্ষক কেন খোলা ঘুরে, প্রশাসন কি ধর্ষক পালে??”,”প্রশাসন নিরব কেন,প্রশাসন জবাব চাই” এইসব স্লোগান দিয়ে ক্যাম্পাস উত্তাল করে তোলে।

এ বিষয়ে রসায়ন বিভাগের (২১-২২) সেশনের শিক্ষার্থী আমেনা আক্তার কালের চিঠিকে বলেন,”আমরা অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।রেজিস্টার অফিস আদেশ জারি করে মতিনকে সাময়িক বহিষ্কার করলেও উক্ত আদেশে যৌন হয়রানি বা ধর্ষণচেষ্টার কোনো অভিযোগ তোলা হয়নি। আমরা চাই রেজিস্টার আদেশে যৌন হারানি ও ধর্ষণচেষ্টার কথাটি উল্লেখ করে মতিনকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হোক।”

এই ব্যাপারে রসায়ন বিভাগের (২০১৯-২০২০) সেশনের শিক্ষার্থী ফারজানা আহাম্মেদ বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে দুইটি দাবি করছি, একটা হচ্ছে ধর্ষক মাহবুবুল মতিনকে স্থানী বহিষ্কার আরেকটি হচ্ছে প্রশাসন বাদী হয়ে ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে।

রসায়ন বিভাগের (২০১৮-২০১৯)সেশনের শিক্ষার্থী আল শাহরিয়ার বলেন, আমরা প্রশাসন থেকে আমাদের দাবি মোতাবেক কোন সিদ্ধান্ত পাচ্ছি না। আমাদের দাবি অনুযায়ী প্রশাসন শাস্তি না দিলে আমাদের আন্দোলন আরও দ্রুত গতিতে চালিয়ে যাব।

এই ব্যাপারে বিশ্ববদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. নূরুল আজিম শিকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরাও চাই ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তুি হোক। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগের সাথে সাথে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আসতে পাঁচ সাত দিন লাগতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবো।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেছি। একটা মানুষের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত শাস্তি দিতে পারি না। অভিযুক্তের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে আমরা তদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলে সে অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি দিব।

উল্লেখ্য, গত বুধবার ৩১জানুয়ারি দুপুরে উপাচার্য শিরীণ আখতারের কাছে  এক শিক্ষার্থী নিজ বিভাগের এক অধ্যাপক সম্পর্কে লিখিতভাবে যৌন হয়রানি, যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করেন। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন সিদ্ধান্ত না আসায় সেই শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা।

এই ব্যাপারে অভিযুক্ত অধ্যাপক অভিযোগটি অস্বীকার করে নিজ পাপের ফল বলে দাবি করেছেন। এছাড়াও ৩১ বছরের শিক্ষকতার জীবনে এ ধরনের কাজের সাথে বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই বলে তিনি দাবি করেন।

নিজ বাসা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

ধর্ষক শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে উত্তাল চবি

প্রকাশের সময়: ০৭:৫৯:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

 

থিসিসের সময় ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণচেষ্টায় প্রতিবাদে অধ্যাপক মাহবুবুল মতিনের বিরুদ্ধে পঞ্চম দিনের মতো আন্দোলন করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রসায়ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা।

আজ বুধবার(৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২ টায় রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে রসায়ন বিভাগ থেকে শুরু করে প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে আসেন।তারা এ সময় নানা রকম স্লোগান দিয়ে শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান।

এ সময় তারা “লুচ্চা মতিনের ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবেনা”,”ধর্ষক কেন খোলা ঘুরে, প্রশাসন কি ধর্ষক পালে??”,”প্রশাসন নিরব কেন,প্রশাসন জবাব চাই” এইসব স্লোগান দিয়ে ক্যাম্পাস উত্তাল করে তোলে।

এ বিষয়ে রসায়ন বিভাগের (২১-২২) সেশনের শিক্ষার্থী আমেনা আক্তার কালের চিঠিকে বলেন,”আমরা অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।রেজিস্টার অফিস আদেশ জারি করে মতিনকে সাময়িক বহিষ্কার করলেও উক্ত আদেশে যৌন হয়রানি বা ধর্ষণচেষ্টার কোনো অভিযোগ তোলা হয়নি। আমরা চাই রেজিস্টার আদেশে যৌন হারানি ও ধর্ষণচেষ্টার কথাটি উল্লেখ করে মতিনকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হোক।”

এই ব্যাপারে রসায়ন বিভাগের (২০১৯-২০২০) সেশনের শিক্ষার্থী ফারজানা আহাম্মেদ বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে দুইটি দাবি করছি, একটা হচ্ছে ধর্ষক মাহবুবুল মতিনকে স্থানী বহিষ্কার আরেকটি হচ্ছে প্রশাসন বাদী হয়ে ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে।

রসায়ন বিভাগের (২০১৮-২০১৯)সেশনের শিক্ষার্থী আল শাহরিয়ার বলেন, আমরা প্রশাসন থেকে আমাদের দাবি মোতাবেক কোন সিদ্ধান্ত পাচ্ছি না। আমাদের দাবি অনুযায়ী প্রশাসন শাস্তি না দিলে আমাদের আন্দোলন আরও দ্রুত গতিতে চালিয়ে যাব।

এই ব্যাপারে বিশ্ববদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. নূরুল আজিম শিকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরাও চাই ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তুি হোক। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগের সাথে সাথে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আসতে পাঁচ সাত দিন লাগতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবো।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেছি। একটা মানুষের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত শাস্তি দিতে পারি না। অভিযুক্তের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে আমরা তদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলে সে অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি দিব।

উল্লেখ্য, গত বুধবার ৩১জানুয়ারি দুপুরে উপাচার্য শিরীণ আখতারের কাছে  এক শিক্ষার্থী নিজ বিভাগের এক অধ্যাপক সম্পর্কে লিখিতভাবে যৌন হয়রানি, যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করেন। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন সিদ্ধান্ত না আসায় সেই শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা।

এই ব্যাপারে অভিযুক্ত অধ্যাপক অভিযোগটি অস্বীকার করে নিজ পাপের ফল বলে দাবি করেছেন। এছাড়াও ৩১ বছরের শিক্ষকতার জীবনে এ ধরনের কাজের সাথে বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই বলে তিনি দাবি করেন।