
গাইবান্ধায় গণভোটে অংশ নিতে এসে বিরম্বনার শিকার হচ্ছে বহু গ্রামীণ ভোটার। গণভোটের প্রক্রিয়া ও চিহ্ন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি এবং ধীরগতির ভোটগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে প্রবীণ ও কমশিক্ষিত ভোটারদের বোঝাতে গিয়ে কেন্দ্রের পোলিং এজেন্টদের সময় লাগছে বেশি, ফলে সঠিক সময়ে ভোটগ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় দিকে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ঘুরিদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে—কেন্দ্রে ঢুকে অনেকেই প্রথমে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। গণভোটের ব্যালটে প্রতীক, পদ্ধতি এবং ‘হ্যাঁ–না’ অপশনগুলো বুঝতে না পারায় ভোটকক্ষে প্রবেশের পর সময় লাগছে অতিরিক্ত।
সাঘাটা উপজেলার একটি কেন্দ্রের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা ৬৫ বছর বয়সী আলেয়া বানু বলেন,
“আমরা তো আগেও কয়েকবার ভোট দিছি, কিন্তু এইবার যেই কাগজ দিছে, তাতে কীভাবে চিহ্ন দিব বুঝতে পারি নাই। পরে আবার বাইরে আসি লাইনোত দাড়ালাম।”
একই অভিযোগ করলেন সদর উপজেলার গৃহবধূ জাহানারা খাতুন। তিনি বলেন,“একজন আপা বোঝাইছে, তাতেও বুঝতে সময় লাগছে। অনেকে ঠিকমতো জানে না, তাই লাইন আস্তে এগোচ্ছে।”
এছাড়া বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদেরকে ভোটারদের ব্যাখ্যা দিতে দেখা গেছে। তারা বলছেন অনেক ভোটার গণভোটের ব্যালট প্রথমবার হাতে পেয়েছেন। তাই কীভাবে ভোট দিতে হবে সেটি শোনাতে শোনাতে সময় লেগে যাচ্ছে।
পলাশবাড়ী উপজেলার হালিম নগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের পোলিং কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান জানান,
“বেশিরভাগ গ্রামীণ ভোটার ব্যালট বুঝতে পারছেন না। ভোটারের চাপও বেশি। তাই প্রতিজনকে ১–২ মিনিট অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।”
কেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে ভোগান্তির মাত্রা। বিশেষ করে রোদে দাঁড়িয়ে থাকা নারী ও প্রবীণদের মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। কেউ কেউ আবার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও কেন্দ্র থেকে তথ্য জেনে বাইরে বের হয়ে পুনরায় লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।
পলাশবাড়ী উপজেলার কৃষক মজিবর রহমান বলেন,
“চাষের কাজ রেখে ভোট দিতে আইছি। কিন্তু লাইনে বারবার থেমে থেমে এগোয়। অনেকেই ঢুকছে, বুঝতেছে না, আবার বাইরে আসতেছে।”
স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, গণভোট সম্পর্কে আগাম প্রচারণা ও নির্দেশনা গ্রামে তেমনভাবে পৌঁছায়নি। ভোটাররা আগেই পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা না পাওয়ায় কেন্দ্রে গিয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















