বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও ভোটারদের মুখে উচ্ছ্বাসের ঝিলিক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই গাইবান্ধা জেলার প্রতিটি উপজেলায় ভোটারদের ঢল নেমেছে। জেলার সাত উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা ৬৭৫টি ভোটকেন্দ্র যেন সকাল থেকেই এক উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। নারী–পুরুষ, যুবক–যুবতী, বয়স্ক ও তরুণ ভোটাররা যেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগে মুখিয়ে ছিলেন। লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের হাসি, অপেক্ষা, উত্তেজনা ও দায়িত্ববোধ পুরো পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

গাইবান্ধা সদর, সাঘাটা, পলাশবাড়ী, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ এবং গোবিন্দগঞ্জের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ভোটারদের ব্যস্ততা শুরু হয়েছে দিনের আলো ফুটবার আগেই। ফজরের নামাজ শেষ করে অনেকে সরাসরি কেন্দ্রে চলে আসেন, যাতে প্রথম দিকেই ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন।

 

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বড়দহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে দেখা যায় প্রায় ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। সেখানেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চাকরিজীবী রাসেল মিয়া বলেন, “আমি সাধারণত দেরিতে ভোট দিতে যাই। কিন্তু এবার সকালে চলে এসেছি। গত কয়েক বছরের চেয়ে এবারের নির্বাচন অনেক স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ মনে হচ্ছে।”

 

অন্যদিকে নারী ভোটারদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন কেন্দ্রে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ আশাতীতভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কেন্দ্রে নারী ভোটারদের সারি পুরুষদের তুলনায় আরও বড় হতে দেখা গেছে।

 

 

 

গোবিন্দগঞ্জের নাকাইহাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভোট দিতে আসা গৃহিণী রত্না বেগম বলেন,“সকালে ঘরের কাজ সেরে এসেছি। ভোট না দিলে শান্তি লাগে না। এবারের ভোটটা যেন উৎসবের মতো লাগছে।”

 

 

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বয়স্ক ভোটার রোকেয়া খাতুন, যাকে স্বেচ্ছাসেবীরা অটোভ্যানে করে কেন্দ্রে নিয়ে আসেন, বলেন, “৮০ বছর বয়সেও ভোট দিতে এসেছি। এই অধিকার হলেও কম যায় না। আলহামদুলিল্লাহ, এত সুন্দর পরিবেশে ভোট দেব ভাবতেই ভালো লাগছে।”

 

 

এবার প্রথমবার ভোট দিতে আসা যুবসমাজের উপস্থিতিও ছিল নজরকাড়া।সদর উপজেলার আরিফ খাঁ বাসুদেব পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তরুণ ভোটার রাকিব হাসান বলেন,“এটাই আমার প্রথম ভোট। খুবই ভালো লাগছে। লাইনে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু বিরক্ত লাগছে না। মনে হচ্ছে দেশের জন্য কিছু একটা করছি।”

 

 

ভোটকেন্দ্রগুলোর ভেতর ও বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ছিল ব্যাপক উপস্থিতি। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, আনসারসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সকাল থেকেই দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

পলাশবাড়ী হালিম নগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ কর্মকর্তা বিষ্ণু রায় জানান,“সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আছে। কোনো বিশৃঙ্খলা বা অনিয়মের চেষ্টা চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

 

 

এদিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সকাল ১১টার মধ্যে জেলার বেশিরভাগ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ছিল নির্বিঘ্ন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, যা ভোটারদের স্বস্তি দিয়েছে।

 

 

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাইহাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার আবুল ফাতাহ বলেন “এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ৪,৯৯৭ জন। ভোট শুরুর পর প্রথম আড়াই ঘণ্টায় ৮৫৫টি ভোট পড়ে, যা মোট ভোটের প্রায় ১৭ শতাংশ। ভোটের গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।”

 

 

উল্লেখ্য গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ২১ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ জন এর মধ্যে পুরুষ ভোটার: ১০ লাখ ৮২ হাজার জন , নারী ভোটার: ১১লাখ ৭ হাজার ৯৬৪। গাইবান্ধার -৫ টি আসনে স্বতন্ত্র ও রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মিলিয়ে মোট ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জনপ্রিয়

গাইবান্ধায় দাঁড়িপাল্লার ভোট চাওয়ায় কেন্দ্র থেকে আনসার সদস্য প্রত্যাহার 

গাইবান্ধায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও ভোটারদের মুখে উচ্ছ্বাসের ঝিলিক

প্রকাশের সময়: ০৫:৩৩:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই গাইবান্ধা জেলার প্রতিটি উপজেলায় ভোটারদের ঢল নেমেছে। জেলার সাত উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা ৬৭৫টি ভোটকেন্দ্র যেন সকাল থেকেই এক উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। নারী–পুরুষ, যুবক–যুবতী, বয়স্ক ও তরুণ ভোটাররা যেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগে মুখিয়ে ছিলেন। লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের হাসি, অপেক্ষা, উত্তেজনা ও দায়িত্ববোধ পুরো পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

গাইবান্ধা সদর, সাঘাটা, পলাশবাড়ী, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ এবং গোবিন্দগঞ্জের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ভোটারদের ব্যস্ততা শুরু হয়েছে দিনের আলো ফুটবার আগেই। ফজরের নামাজ শেষ করে অনেকে সরাসরি কেন্দ্রে চলে আসেন, যাতে প্রথম দিকেই ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন।

 

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বড়দহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে দেখা যায় প্রায় ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। সেখানেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চাকরিজীবী রাসেল মিয়া বলেন, “আমি সাধারণত দেরিতে ভোট দিতে যাই। কিন্তু এবার সকালে চলে এসেছি। গত কয়েক বছরের চেয়ে এবারের নির্বাচন অনেক স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ মনে হচ্ছে।”

 

অন্যদিকে নারী ভোটারদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন কেন্দ্রে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ আশাতীতভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কেন্দ্রে নারী ভোটারদের সারি পুরুষদের তুলনায় আরও বড় হতে দেখা গেছে।

 

 

 

গোবিন্দগঞ্জের নাকাইহাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভোট দিতে আসা গৃহিণী রত্না বেগম বলেন,“সকালে ঘরের কাজ সেরে এসেছি। ভোট না দিলে শান্তি লাগে না। এবারের ভোটটা যেন উৎসবের মতো লাগছে।”

 

 

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বয়স্ক ভোটার রোকেয়া খাতুন, যাকে স্বেচ্ছাসেবীরা অটোভ্যানে করে কেন্দ্রে নিয়ে আসেন, বলেন, “৮০ বছর বয়সেও ভোট দিতে এসেছি। এই অধিকার হলেও কম যায় না। আলহামদুলিল্লাহ, এত সুন্দর পরিবেশে ভোট দেব ভাবতেই ভালো লাগছে।”

 

 

এবার প্রথমবার ভোট দিতে আসা যুবসমাজের উপস্থিতিও ছিল নজরকাড়া।সদর উপজেলার আরিফ খাঁ বাসুদেব পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তরুণ ভোটার রাকিব হাসান বলেন,“এটাই আমার প্রথম ভোট। খুবই ভালো লাগছে। লাইনে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু বিরক্ত লাগছে না। মনে হচ্ছে দেশের জন্য কিছু একটা করছি।”

 

 

ভোটকেন্দ্রগুলোর ভেতর ও বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ছিল ব্যাপক উপস্থিতি। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, আনসারসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সকাল থেকেই দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

পলাশবাড়ী হালিম নগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ কর্মকর্তা বিষ্ণু রায় জানান,“সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আছে। কোনো বিশৃঙ্খলা বা অনিয়মের চেষ্টা চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

 

 

এদিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সকাল ১১টার মধ্যে জেলার বেশিরভাগ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ছিল নির্বিঘ্ন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, যা ভোটারদের স্বস্তি দিয়েছে।

 

 

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাইহাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার আবুল ফাতাহ বলেন “এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ৪,৯৯৭ জন। ভোট শুরুর পর প্রথম আড়াই ঘণ্টায় ৮৫৫টি ভোট পড়ে, যা মোট ভোটের প্রায় ১৭ শতাংশ। ভোটের গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।”

 

 

উল্লেখ্য গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ২১ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ জন এর মধ্যে পুরুষ ভোটার: ১০ লাখ ৮২ হাজার জন , নারী ভোটার: ১১লাখ ৭ হাজার ৯৬৪। গাইবান্ধার -৫ টি আসনে স্বতন্ত্র ও রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মিলিয়ে মোট ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।