বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সেনাবাহিনীর আশ্বাসে ভোট দেওয়ার সাহস পাচ্ছেন চরাঞ্চলবাসী

ব্রহ্মপুত্রের বুক চিরে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এখন নির্বাচনি হাওয়া। তবে নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতে ভোট দেওয়া নিয়ে শঙ্কা ও দুশ্চিন্তা ছিল সাধারণ ভোটারদের মনে। সেই ভয় কাটাতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খেরুয়ারচর এলাকায় দিনব্যাপী বিশেষ হেলিকপ্টার মহড়া চালিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর এই তৎপরতায় এখন স্বস্তির সুর চরাঞ্চলের মানুষের কণ্ঠে।

কুড়িগ্রাম-৪ সংসদীয় আসনের চিলমারী উপজেলায় ১৭টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬টিই নদীবেষ্টিত। খেরুয়ার চরের জমেলা বেগম ও মঞ্জুয়ারা বেগমের মতো অনেক নারী ভোটার নদী পার হওয়া এবং পথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। বৈলমন্দিয়ার খাতা এলাকার ফরিদা খাতুন ও জায়দা খাতুন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘দিনের আলো থাকতে পার হলে ঠিক আছে, কিন্তু কিছু হলেই কে দেখবে?’

ভোটারদের এই ভয় কাটাতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি চিলমারীর দুর্গম নয়ারহাট ইউনিয়নের খেরুয়ারচর এলাকায় হেলিকপ্টারযোগে মহড়া চালায় সেনাবাহিনী। আকাশপথে হেলিকপ্টারের চক্কর আর নিচে সেনাসদস্যদের তৎপরতা দুর্গম এলাকায় দ্রুত পৌঁছানো এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার বার্তা দেয়। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ভোটারদের আশ্বস্ত করা হয় যে, ভোটের দিন কোনো বিশৃঙ্খলা হতে দেওয়া হবে না।

শাখাহাতী চরের প্রবীণ ভোটার মো. দুলাল হোসেন বলেন, ‘সেনাবাহিনী থাকলে অন্তত ভয়টা কমে। এবার ভোট দিতে যাওয়ার সাহস পাব।’

চিলমারী আর্মি ক্যাম্প সূত্র জানায়, নদীপথনির্ভর কেন্দ্রগুলোতে জল ও আকাশপথে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নোমান মুন্সী, মেজর মো. তরিকুল ইসলাম ও ক্যাপ্টেন মো. তাহসিন তামিমের উপস্থিতিতে এই মহড়া সম্পন্ন হয়।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চরাঞ্চলের ১৬টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ১ প্লাটুন বিজিবি, ৩২ জন পুলিশ সদস্য এবং আনসার ব্যাটালিয়নের ৮ সদস্যের একটি দল দায়িত্ব পালন করবে।

উল্লেখ্য কুড়িগ্রাম-৪ আসনে মোট ভোটার: ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৩ জন। এরমধ্যে চিলমারীতে ১ লাখ ১২ হাজার ৬০০ জন, রৌমারীতে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭৮৭ জন, রাজিবপুরে ৬৮ হাজার ৬৭৬ জন। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন ৭ জন।

জনপ্রিয়

সাঘাটায় পাঁচ শতাধিক কর্মী নিয়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন জাপার দুই শীর্ষ নেতা

সেনাবাহিনীর আশ্বাসে ভোট দেওয়ার সাহস পাচ্ছেন চরাঞ্চলবাসী

প্রকাশের সময়: ০২:৪৮:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ব্রহ্মপুত্রের বুক চিরে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এখন নির্বাচনি হাওয়া। তবে নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতে ভোট দেওয়া নিয়ে শঙ্কা ও দুশ্চিন্তা ছিল সাধারণ ভোটারদের মনে। সেই ভয় কাটাতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খেরুয়ারচর এলাকায় দিনব্যাপী বিশেষ হেলিকপ্টার মহড়া চালিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর এই তৎপরতায় এখন স্বস্তির সুর চরাঞ্চলের মানুষের কণ্ঠে।

কুড়িগ্রাম-৪ সংসদীয় আসনের চিলমারী উপজেলায় ১৭টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬টিই নদীবেষ্টিত। খেরুয়ার চরের জমেলা বেগম ও মঞ্জুয়ারা বেগমের মতো অনেক নারী ভোটার নদী পার হওয়া এবং পথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। বৈলমন্দিয়ার খাতা এলাকার ফরিদা খাতুন ও জায়দা খাতুন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘দিনের আলো থাকতে পার হলে ঠিক আছে, কিন্তু কিছু হলেই কে দেখবে?’

ভোটারদের এই ভয় কাটাতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি চিলমারীর দুর্গম নয়ারহাট ইউনিয়নের খেরুয়ারচর এলাকায় হেলিকপ্টারযোগে মহড়া চালায় সেনাবাহিনী। আকাশপথে হেলিকপ্টারের চক্কর আর নিচে সেনাসদস্যদের তৎপরতা দুর্গম এলাকায় দ্রুত পৌঁছানো এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার বার্তা দেয়। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ভোটারদের আশ্বস্ত করা হয় যে, ভোটের দিন কোনো বিশৃঙ্খলা হতে দেওয়া হবে না।

শাখাহাতী চরের প্রবীণ ভোটার মো. দুলাল হোসেন বলেন, ‘সেনাবাহিনী থাকলে অন্তত ভয়টা কমে। এবার ভোট দিতে যাওয়ার সাহস পাব।’

চিলমারী আর্মি ক্যাম্প সূত্র জানায়, নদীপথনির্ভর কেন্দ্রগুলোতে জল ও আকাশপথে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নোমান মুন্সী, মেজর মো. তরিকুল ইসলাম ও ক্যাপ্টেন মো. তাহসিন তামিমের উপস্থিতিতে এই মহড়া সম্পন্ন হয়।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চরাঞ্চলের ১৬টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ১ প্লাটুন বিজিবি, ৩২ জন পুলিশ সদস্য এবং আনসার ব্যাটালিয়নের ৮ সদস্যের একটি দল দায়িত্ব পালন করবে।

উল্লেখ্য কুড়িগ্রাম-৪ আসনে মোট ভোটার: ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৩ জন। এরমধ্যে চিলমারীতে ১ লাখ ১২ হাজার ৬০০ জন, রৌমারীতে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭৮৭ জন, রাজিবপুরে ৬৮ হাজার ৬৭৬ জন। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন ৭ জন।