
তাসলিমুল হাসান সিয়াম: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে উঠেছে। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও সমর্থকরা মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। নির্বাচনী এলাকাজুড়ে চলছে দল দুটির গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, পথসভা ও পোস্টার-লিফলেট বিতরণ। তবে গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) ও গাইবান্ধা-২ (সদর) ব্যতীত বাকি তিনটি আসনে জাতীয় পার্টির নির্বাচনী অবস্থান অনেকটাই নির্লিপ্ত।
জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি আসনে মোট ৪০ জন প্রার্থী এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। এর মধ্যে ৫ টি আসনেই বিএনপি , জামায়াত ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা ধানের শীষ , দাঁড়ি পাল্লা ও লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করছে ।
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ):
এই আসনে খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী (ধানের শীষ), মো. মাজেদুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী (লাঙ্গল)।
গাইবান্ধা-২ (সদর):
সদর আসনে মো. আব্দুল করিম (দাঁড়িপাল্লা) মো. আনিসুজ্জামান খান বাবু (ধানের শীষ), মো. আব্দুর রশীদ সরকার (লাঙ্গল)।
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ি):
এই আসনে অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক (ধানের শীষ), আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), মইনুর রাব্বী চৌধুরী (লাঙ্গল)।
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ):
এই আসনে কাজী মশিউর রহমান (লাঙ্গল), মোহাম্মদ শামীম কায়সার (ধানের শীষ), আব্দুর রহিম সরকার (দাঁড়িপাল্লা) ।
গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি):
এই আসনে মো. আব্দুল ওয়ারেছ (দাঁড়িপাল্লা), ফারুক আলম সরকার (ধানের শীষ), শামীম হায়দার পাটোয়ারী (লাঙ্গল)।
বিএনপি-জামায়াতের শক্ত অবস্থান:
মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাঁচটি আসনেই মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় উভয় দলেরই রয়েছে শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো ও নিবেদিত বৃহৎ কর্মীবাহিনী। গ্রামাঞ্চলে জামায়াতে ইসলামীর নিয়মিত দাওয়াতি কার্যক্রম, সামাজিক প্রভাব ও তৃণমূল পর্যায়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মী কাঠামো তাদের অবস্থানকে দৃঢ় করেছে। অপরদিকে শহর ও আধা-শহর এলাকায় বিএনপির রয়েছে বিস্তৃত জনভিত্তি, বিশেষ করে তরুণ ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের মধ্যে দলটির গ্রহণযোগ্যতা তুলনামূলকভাবে বেশি।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের মাঠে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডও বড় ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায় মিছিল, গণসংযোগ ও ঘরোয়া বৈঠকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, যা প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলছে। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভোটের সমীকরণ কোন দিকে যাবে—তা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা চলছে।
নির্লিপ্ত জাতীয় পার্টি:
গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) ও গাইবান্ধা-২ (সদর) ব্যতীত বাকি তিনটি আসনে জাতীয় পার্টির নির্বাচনী অবস্থান অনেকটাই নির্লিপ্ত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন ভোটাররা। মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, অনেক এলাকায় দলটির প্রার্থীরা প্রত্যাশিত মাত্রায় জনসংযোগ করতে পারেননি। কোথাও কোথাও প্রার্থীর উপস্থিতিই চোখে পড়েনি।
একসময় গাইবান্ধার রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি ছিল উল্লেখযোগ্য শক্তি। বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট উপজেলায় দলটির ভোটব্যাংক থাকলেও এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় সেই জৌলুস অনেকটাই ম্লান। প্রচার-প্রচারণায় দুর্বলতা, সাংগঠনিক স্থবিরতা এবং মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের অনুপস্থিতি এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোটারদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া:
ভোটারদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেক ভোটার মনে করছেন, দলীয় পরিচয়ের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা, সততা ও এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা এবার বেশি গুরুত্ব পাবে। গাইবান্ধা ২ আসনের এক ভোটার বলেন,“যোগ্য মানুষ নির্বাচিত না হলে উন্নয়ন তো হবেই না, বরং দেশ ও এলাকার ক্ষতিই বেশি হবে।”
তরুণ ভোটার গাইবান্ধা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান নিশাদ জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি আমারা এমন একটি সরকার ব্যবস্থা চাই যেখানে আর কোন সরকার স্বৈরাচারী আচরণ করতে না পারে।
প্রশাসনের প্রস্তুতি:
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা মুঠোফোনে জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে । এছাড়া যেকোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা সদা তৎপর আছে ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 













