রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াত নির্বাচিত হলে গাইবান্ধায় টানেল নির্মাণ ও মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে: ডাঃ শফিকুর

নদী রক্ষা, মেডিকেল কলেজ, টানেল ও ইপিজেডের প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী জনসভায়**
গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত সরকার গঠন করতে পারলে গাইবান্ধাকে সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নদ-নদী রক্ষা, একটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, বালাসীঘাট–বাহাদুরাবাদ রুটে টানেল নির্মাণ, ইপিজেড স্থাপনসহ বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
শনিবার (আজ) গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গাইবান্ধার নদ-নদীগুলো রক্ষা করা না গেলে কৃষি, যোগাযোগ ও মানুষের জীবনযাত্রা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই নদী রক্ষায় কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নেওয়া হবে।” তিনি জানান, জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে বালাসীঘাট থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত একটি টানেল নির্মাণ করা হবে, যা উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক গতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কৃষি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “কৃষিকে আর পুরোনো ধাঁচে চালানো হবে না। আধুনিক প্রযুক্তি ও লজিস্টিক সহায়তার মাধ্যমে কৃষকদের হাতে তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পৌঁছে দেওয়া হবে।” তিনি অভিযোগ করেন, উৎপাদনের পর সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে কৃষকরা প্রায়ই ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হন এবং অনেক ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এসব সমস্যা সমাধানে প্রতিটি উপজেলায় ফসল ও সবজি সংরক্ষণাগার গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি। এতে কৃষক যেমন ন্যায্যমূল্য পাবেন, তেমনি সারা বছর ভোক্তারাও ন্যায্য দামে কৃষিপণ্য কিনতে পারবেন বলে আশ্বাস দেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, গাইবান্ধায় একটি ইপিজেড স্থাপন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, প্রত্যেক উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র আধুনিকায়ন এবং রাজধানীর মতো মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। চরাঞ্চলের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণ করে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হবে বলে তিনি জানান।
রাজনৈতিক বক্তব্যে জামায়াত আমির ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে মর্যাদা দিতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “হ্যাঁ ভোট জয়যুক্ত না হলে রংপুরের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করা হবে। আবু সাঈদরা বুক পেতে দিয়েছিল স্বৈরাচার হটানোর জন্য।”
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী–সাদুল্লাপুর) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, জাগপা সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম জুয়েল, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি সিগবাতুল শিগবা এবং গাইবান্ধার পাঁচটি আসনের মনোনীত প্রার্থীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জনসভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন। এ সময় তিনি উপস্থিত জনতার কাছে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চেয়ে আগামী নির্বাচনে জামায়াতকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

নিজ বাসা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

জামায়াত নির্বাচিত হলে গাইবান্ধায় টানেল নির্মাণ ও মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে: ডাঃ শফিকুর

প্রকাশের সময়: ১১:২৪:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

নদী রক্ষা, মেডিকেল কলেজ, টানেল ও ইপিজেডের প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী জনসভায়**
গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত সরকার গঠন করতে পারলে গাইবান্ধাকে সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নদ-নদী রক্ষা, একটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, বালাসীঘাট–বাহাদুরাবাদ রুটে টানেল নির্মাণ, ইপিজেড স্থাপনসহ বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
শনিবার (আজ) গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গাইবান্ধার নদ-নদীগুলো রক্ষা করা না গেলে কৃষি, যোগাযোগ ও মানুষের জীবনযাত্রা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই নদী রক্ষায় কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নেওয়া হবে।” তিনি জানান, জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে বালাসীঘাট থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত একটি টানেল নির্মাণ করা হবে, যা উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক গতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কৃষি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “কৃষিকে আর পুরোনো ধাঁচে চালানো হবে না। আধুনিক প্রযুক্তি ও লজিস্টিক সহায়তার মাধ্যমে কৃষকদের হাতে তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পৌঁছে দেওয়া হবে।” তিনি অভিযোগ করেন, উৎপাদনের পর সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে কৃষকরা প্রায়ই ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হন এবং অনেক ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এসব সমস্যা সমাধানে প্রতিটি উপজেলায় ফসল ও সবজি সংরক্ষণাগার গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি। এতে কৃষক যেমন ন্যায্যমূল্য পাবেন, তেমনি সারা বছর ভোক্তারাও ন্যায্য দামে কৃষিপণ্য কিনতে পারবেন বলে আশ্বাস দেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, গাইবান্ধায় একটি ইপিজেড স্থাপন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, প্রত্যেক উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র আধুনিকায়ন এবং রাজধানীর মতো মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। চরাঞ্চলের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণ করে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হবে বলে তিনি জানান।
রাজনৈতিক বক্তব্যে জামায়াত আমির ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে মর্যাদা দিতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “হ্যাঁ ভোট জয়যুক্ত না হলে রংপুরের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করা হবে। আবু সাঈদরা বুক পেতে দিয়েছিল স্বৈরাচার হটানোর জন্য।”
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী–সাদুল্লাপুর) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, জাগপা সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম জুয়েল, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি সিগবাতুল শিগবা এবং গাইবান্ধার পাঁচটি আসনের মনোনীত প্রার্থীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জনসভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন। এ সময় তিনি উপস্থিত জনতার কাছে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চেয়ে আগামী নির্বাচনে জামায়াতকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।