
শীতকাল এলেই বাবা-মায়েদের চিন্তা বাড়ে। কারণ ছোট শিশুরা বলতে পারে না তাদের ঠান্ডা লাগছে কি না। এর ফলে বাবা-মায়েদের মনে অনেক প্রশ্ন জাগে। অনেকেরই প্রশ্ন ঘুমের সময় শিশুকে মোজা এবং টুপি পরানো কি ঠিক?
ভারতীয় শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নিমিশা জানান, শিশুদের শরীর বড়দের থেকে আলাদা। শিশুদের শরীরে ব্রাউন ফ্যাট বেশি থাকায় স্বাভাবিকভাবেই শরীরের ভেতরে তাপ তৈরি করে। এছাড়া, শিশুদের মেটাবলিজমও দ্রুত হয়। তাই, রাতে শিশুর শরীর প্রায়শই একজন প্রাপ্তবয়স্কের শরীরের চেয়ে বেশি গরম থাকে। এই কারণে শিশুরা রাতে কম্বল সরিয়ে ঘুমাতে পছন্দ করে।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, ঘুমের সময় শিশুকে টুপি পরানো জরুরি নয়। বরং, এটি শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। শিশুর শরীরের তাপ তার মাথা দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়। যদি মাথা ঢাকা থাকে, তাহলে শরীরের তাপ বাইরে বের হতে পারবে না এবং শিশু অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও, ঘুমের সময় টুপি সরে গিয়ে শিশুর নাক এবং মুখ ঢেকে ফেলতে পারে, যার ফলে শ্বাস নিতে অসুবিধা হতে পারে।
ঘুমের সময় শিশুকে কি মোজা পরানো উচিত?
ডা. নিমিশা জানান, যদি ঘর খুব ঠান্ডা হয়, তাহলে শিশুকে হালকা মোজা পরাতে পারেন। কিন্তু যদি ঘরে হিটার চলে বা ঘর আগে থেকেই গরম থাকে, তাহলে মোজা পরানোর কোনো প্রয়োজন নেই। ডাক্তার বলেন যে শিশুদের ঠান্ডা থেকে বাঁচানো জরুরি, কিন্তু তাদের অতিরিক্ত ঢেকে রাখা বিপজ্জনক হতে পারে। তাই, শিশুর ঘুমের সময় তাকে টুপি পরাবেন না এবং ঘরের তাপমাত্রা অনুযায়ী তাকে মোজা পরান।
শীতে শিশুদের জন্য বিশেষ টিপস
ঘরের তাপমাত্রা ভারসাম্য রাখুন
শিশুর ঘর খুব বেশি ঠান্ডা বা খুব বেশি গরম হওয়া উচিত নয়। স্বাভাবিক তাপমাত্রা ২২-২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি বলে মনে করা হয়। যদি হিটার ব্যবহার করেন, তাহলে সঠিক বায়ুচলাচলের দিকে খেয়াল রাখুন।
স্তরে স্তরে পোশাক পরান
শিশুকে খুব মোটা পোশাক পরানোর পরিবর্তে, হালকা কাপড়ের ২-৩টি স্তর পরান। এতে আপনি প্রয়োজন অনুযায়ী সহজেই স্তরগুলো সরাতে বা যোগ করতে পারবেন।
শিশুর তাপমাত্রা সঠিকভাবে পরীক্ষা করুন
শিশুর ঠান্ডা লাগছে কি না তা পরীক্ষা করার জন্য, তার হাত ও পা নয়, বরং তার ঘাড়, পিঠ বা পেট স্পর্শ করে দেখুন। ঠান্ডা হাত ও পা স্বাভাবিক এবং এর মানে এই নয় যে আপনার শিশুর ঠান্ডা লাগছে।
ভারী কম্বল এড়িয়ে চলুন
ছোট শিশুদের জন্য খুব ভারী কম্বল ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে শ্বাস নিতে অসুবিধা বা অতিরিক্ত গরম হতে পারে।
মাথা এবং মুখ খোলা রাখুন
ঘুমের সময় শিশুর মাথা এবং মুখ সবসময় খোলা থাকা উচিত। এতে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে।
শুষ্ক বাতাস থেকে বাঁচান
হিটার ব্যবহার করলে ঘরের বাতাস খুব শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, এতে শিশুর নাক এবং ত্বক শুষ্ক হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে, হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা বা ঘরে এক বাটি পানি রাখা উপকারী হতে পারে।
শিশুর ইঙ্গিতে মনোযোগ দিন
যদি শিশুর ঘাম হয়, সে অস্থির থাকে, বা বারবার কম্বল সরিয়ে দেয়, তাহলে বুঝতে হবে তার খুব গরম লাগছে। যদি তার ঠান্ডা লাগে, তাহলে সে গুটিয়ে যেতে পারে বা কাঁদতে পারে। এই সংকেতগুলো খেয়াল রাখুন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















