শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জে বিরল প্রজাতির ‘হিমালয়ান গৃধিনী’ শকুন উদ্ধার

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের বলোরাম গ্রাম থেকে একটি অসুস্থ ও বিপন্ন প্রজাতির ‘হিমালয়ান গৃধিনী’ শকুন উদ্ধার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘টিম ফর এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ’ (তীর)-এর গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার সদস্যরা বন বিভাগের সহায়তায় শকুনটিকে উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাইবান্ধা বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে বলোরাম গ্রামের বাসিন্দা আবিদ তার জমিতে শকুনটিকে অসুস্থ অবস্থায় পঝড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি জানানো হলে ‘তীর’ গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় শকুনটিকে উদ্ধার করে। এরপর শকুনটিকে গাইবান্ধা বন বিভাগে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

তীর গাইবান্ধার সভাপতি মোঃ মোশারফ হোসেন জানান, আইইউসিএনের কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ ও গাইবান্ধা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের পরামর্শে শকুনটিকে বন বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে শুক্রবার সকালে রংপুর বন বিভাগে পাঠানো হবে। রংপুর বন বিভাগ শকুনটিকে উন্নত পরিচর্যার জন্য দিনাজপুরের সিংড়া জাতীয় উদ্যানের ‘শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্র’-এ পাঠাবে।

শকুন উদ্ধারের সময় উপস্থিত ছিলেন তীর গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি মোঃ মোশারফ হোসেন, সাবেক সভাপতি জিসান মাহমুদ, প্রচার সম্পাদক মেজবাহুল হক, সদস্য বাপ্পি মহন্ত ও সোহেল রানা।

আইইউসিএনের প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট সুলতান আহমেদ বলেন, “হিমালয়ের প্রচণ্ড ঠান্ডা ও হিমঝড় সহ্য করতে না পেরে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে এই শকুনগুলো সমতলের দিকে চলে আসে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নেওয়ার সময় তারা অনেক সময় উড়তে পারে না, যাকে স্থানীয়রা অসুস্থতা ভেবে ভুল করেন।”

তীর গাইবান্ধার সভাপতি মোঃ মোশারফ হোসেন ও সাবেক সভাপতি জিসান মাহমুদ জানান, বাংলাদেশে একসময় সাত প্রজাতির শকুন থাকলেও বর্তমানে রাজশকুন পুরোপুরি বিপন্ন। দেশে মাত্র ২৬০টির মতো বাংলা শকুন টিকে আছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিযায়ী হিমালয়ান গৃধিনী শকুন সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।

তীরের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, “প্রকৃতির ঝাড়ুদার হিসেবে পরিচিত শকুন মৃত পশুর মাংস খেয়ে পরিবেশকে রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত রাখে। এদের সংরক্ষণ আমাদের পরিবেশ রক্ষার জন্য অপরিহার্য।”

উল্লেখ্য, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘তীর’ ২০১১ সাল থেকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সংগঠনটি ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জাতীয় পুরস্কার–২০২১’ অর্জন করেছে।

সুন্দরগঞ্জে বিরল প্রজাতির ‘হিমালয়ান গৃধিনী’ শকুন উদ্ধার

প্রকাশের সময়: ০৫:১১:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের বলোরাম গ্রাম থেকে একটি অসুস্থ ও বিপন্ন প্রজাতির ‘হিমালয়ান গৃধিনী’ শকুন উদ্ধার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘টিম ফর এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ’ (তীর)-এর গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার সদস্যরা বন বিভাগের সহায়তায় শকুনটিকে উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাইবান্ধা বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে বলোরাম গ্রামের বাসিন্দা আবিদ তার জমিতে শকুনটিকে অসুস্থ অবস্থায় পঝড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি জানানো হলে ‘তীর’ গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় শকুনটিকে উদ্ধার করে। এরপর শকুনটিকে গাইবান্ধা বন বিভাগে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

তীর গাইবান্ধার সভাপতি মোঃ মোশারফ হোসেন জানান, আইইউসিএনের কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ ও গাইবান্ধা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের পরামর্শে শকুনটিকে বন বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে শুক্রবার সকালে রংপুর বন বিভাগে পাঠানো হবে। রংপুর বন বিভাগ শকুনটিকে উন্নত পরিচর্যার জন্য দিনাজপুরের সিংড়া জাতীয় উদ্যানের ‘শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্র’-এ পাঠাবে।

শকুন উদ্ধারের সময় উপস্থিত ছিলেন তীর গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি মোঃ মোশারফ হোসেন, সাবেক সভাপতি জিসান মাহমুদ, প্রচার সম্পাদক মেজবাহুল হক, সদস্য বাপ্পি মহন্ত ও সোহেল রানা।

আইইউসিএনের প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট সুলতান আহমেদ বলেন, “হিমালয়ের প্রচণ্ড ঠান্ডা ও হিমঝড় সহ্য করতে না পেরে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে এই শকুনগুলো সমতলের দিকে চলে আসে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নেওয়ার সময় তারা অনেক সময় উড়তে পারে না, যাকে স্থানীয়রা অসুস্থতা ভেবে ভুল করেন।”

তীর গাইবান্ধার সভাপতি মোঃ মোশারফ হোসেন ও সাবেক সভাপতি জিসান মাহমুদ জানান, বাংলাদেশে একসময় সাত প্রজাতির শকুন থাকলেও বর্তমানে রাজশকুন পুরোপুরি বিপন্ন। দেশে মাত্র ২৬০টির মতো বাংলা শকুন টিকে আছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিযায়ী হিমালয়ান গৃধিনী শকুন সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।

তীরের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, “প্রকৃতির ঝাড়ুদার হিসেবে পরিচিত শকুন মৃত পশুর মাংস খেয়ে পরিবেশকে রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত রাখে। এদের সংরক্ষণ আমাদের পরিবেশ রক্ষার জন্য অপরিহার্য।”

উল্লেখ্য, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘তীর’ ২০১১ সাল থেকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সংগঠনটি ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জাতীয় পুরস্কার–২০২১’ অর্জন করেছে।