রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্বমৈত্রীর আলোয় বড়দিন

বিমল সরকার:  একটি সভ্য সমাজের পরিচয় নিহিত থাকে তার উৎসবের মধ্যে।যে উৎসব কারো একার নয়, যা কাউকে বাদ দিয়ে নয় বরং কীভাবে সবাইকে এক আলোয় যুক্ত করে, সেটাই তার পরিচয়।

আর ক্রিস্টমাস বা বড়দিন তেমনই একটা দিন যা খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্যের ভেতর জন্ম নিলেও,আজ তা সীমান্ত, ধর্ম ও সংস্কৃতির গণ্ডি ছাপিয়ে

মানবিক মিলনের এক বৈশ্বিক ভাষায় পরিণত হয়েছে।

বড়দিনের মূল ভাবনা আলো।দিন বড় হয়, অন্ধকার ছোট হয়—এই প্রকৃতিগত সত্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক গভীর মানবিক বার্তা।মানুষ যুগে যুগে অন্ধকারের ভেতর দিয়েই হেঁটেছে—ভয়, যুদ্ধ, ঘৃণা ও বিভাজনের অন্ধকারে।তবু সে আলো খুঁজেছে । বড়দিন সেই খোঁজেরই প্রতীক।

আজকের পৃথিবী এক সংকটময় সময় পার করছে।

যুদ্ধ, উদ্বাস্তু সংকট, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা, অর্থনৈতিক বৈষম্য—সব মিলিয়ে মানবসভ্যতা আবার প্রশ্নের মুখে। তবু বড়দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—

বিশ্বাস আলাদা হতে পারে কিন্তু মানবতা ভাগ করা যায় না।

বিশ্বের বহু দেশে ক্রিস্টমাস কেবল গির্জার উৎসব নয়।এটি প্রতিবেশীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের দিন,

শিশুদের হাসির দিন,ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষকে আপন করে নেওয়ার অনুশীলনের দিন।এটি সেই মুহূর্ত, যখন মানুষ সাময়িকভাবে হলেও ‘আমি’ থেকে ‘আমরা’-তে ফিরে আসে।

বিশ্বমৈত্রী কোনো কূটনৈতিক স্লোগান নয়।এটি শুরু হয় দৈনন্দিন আচরণে—

অন্যের বিশ্বাসকে সম্মান করা,ভিন্নতাকে ভয় না পাওয়া এবং সহমর্মিতাকে শক্তি হিসেবে দেখা।

ক্রিস্টমাসের এই সার্বজনীন চরিত্র আমাদের সমাজের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের মতো বহুত্ববাদী সমাজে এই দিনটি কেবল একটি ধর্মীয় ছুটি নয়,এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।এখানে ক্রিস্টমাস মানে একসাথে থাকা, একে অন্যের আনন্দে অংশ নেওয়া।

এই সম্পাদকীয়ের মাধ্যমে দৈনিক কালের চিঠি স্মরণ করিয়ে দিতে চায়—

বিশ্বমৈত্রী মানে নিজের পরিচয় হারানো নয়,বরং অন্যের পরিচয়ের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের মানবিক পরিচয়কে আরও দৃঢ় করা।

আজ, যখন পৃথিবীর নানা প্রান্তে বিভাজনের ভাষা উচ্চকণ্ঠ,ঠিক তখনই আমাদের দরকার আলোর ভাষা।

ক্রিস্টমাস সেই ভাষাই শেখায়—

যেখানে ক্ষমাই শক্তি,সহমর্মিতাই সাহস,আর ভালোবাসাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিবাদ।

কালের চিঠি মনে করে যে আলো সবাইকে ছুঁতে পারে,সেই আলোই সভ্যতার সত্যিকারের উৎসব।”

 

জনপ্রিয়

গাইবান্ধায় পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এলো “ডিভাইস কিং”সবুজের চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিশ্বমৈত্রীর আলোয় বড়দিন

প্রকাশের সময়: ০৩:৩৬:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

বিমল সরকার:  একটি সভ্য সমাজের পরিচয় নিহিত থাকে তার উৎসবের মধ্যে।যে উৎসব কারো একার নয়, যা কাউকে বাদ দিয়ে নয় বরং কীভাবে সবাইকে এক আলোয় যুক্ত করে, সেটাই তার পরিচয়।

আর ক্রিস্টমাস বা বড়দিন তেমনই একটা দিন যা খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্যের ভেতর জন্ম নিলেও,আজ তা সীমান্ত, ধর্ম ও সংস্কৃতির গণ্ডি ছাপিয়ে

মানবিক মিলনের এক বৈশ্বিক ভাষায় পরিণত হয়েছে।

বড়দিনের মূল ভাবনা আলো।দিন বড় হয়, অন্ধকার ছোট হয়—এই প্রকৃতিগত সত্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক গভীর মানবিক বার্তা।মানুষ যুগে যুগে অন্ধকারের ভেতর দিয়েই হেঁটেছে—ভয়, যুদ্ধ, ঘৃণা ও বিভাজনের অন্ধকারে।তবু সে আলো খুঁজেছে । বড়দিন সেই খোঁজেরই প্রতীক।

আজকের পৃথিবী এক সংকটময় সময় পার করছে।

যুদ্ধ, উদ্বাস্তু সংকট, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা, অর্থনৈতিক বৈষম্য—সব মিলিয়ে মানবসভ্যতা আবার প্রশ্নের মুখে। তবু বড়দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—

বিশ্বাস আলাদা হতে পারে কিন্তু মানবতা ভাগ করা যায় না।

বিশ্বের বহু দেশে ক্রিস্টমাস কেবল গির্জার উৎসব নয়।এটি প্রতিবেশীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের দিন,

শিশুদের হাসির দিন,ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষকে আপন করে নেওয়ার অনুশীলনের দিন।এটি সেই মুহূর্ত, যখন মানুষ সাময়িকভাবে হলেও ‘আমি’ থেকে ‘আমরা’-তে ফিরে আসে।

বিশ্বমৈত্রী কোনো কূটনৈতিক স্লোগান নয়।এটি শুরু হয় দৈনন্দিন আচরণে—

অন্যের বিশ্বাসকে সম্মান করা,ভিন্নতাকে ভয় না পাওয়া এবং সহমর্মিতাকে শক্তি হিসেবে দেখা।

ক্রিস্টমাসের এই সার্বজনীন চরিত্র আমাদের সমাজের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের মতো বহুত্ববাদী সমাজে এই দিনটি কেবল একটি ধর্মীয় ছুটি নয়,এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।এখানে ক্রিস্টমাস মানে একসাথে থাকা, একে অন্যের আনন্দে অংশ নেওয়া।

এই সম্পাদকীয়ের মাধ্যমে দৈনিক কালের চিঠি স্মরণ করিয়ে দিতে চায়—

বিশ্বমৈত্রী মানে নিজের পরিচয় হারানো নয়,বরং অন্যের পরিচয়ের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের মানবিক পরিচয়কে আরও দৃঢ় করা।

আজ, যখন পৃথিবীর নানা প্রান্তে বিভাজনের ভাষা উচ্চকণ্ঠ,ঠিক তখনই আমাদের দরকার আলোর ভাষা।

ক্রিস্টমাস সেই ভাষাই শেখায়—

যেখানে ক্ষমাই শক্তি,সহমর্মিতাই সাহস,আর ভালোবাসাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিবাদ।

কালের চিঠি মনে করে যে আলো সবাইকে ছুঁতে পারে,সেই আলোই সভ্যতার সত্যিকারের উৎসব।”