শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত শান্তিরক্ষী সবুজকে সামরিক মর্যাদায় দাফন

সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষী মো. সবুজ মিয়ার মরদেহ রোববার (২১ ডিসেম্বর) গাইবান্ধায় পৌঁছেছে। এদিন দুপুর ২টার দিকে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে তার মরদেহ গাইবান্ধা হেলিপ্যাডে আনা হয়।

হেলিপ্যাডে সবুজ মিয়ার কফিন গ্রহণ করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন আলভী। পরে যথাযথ সামরিক মর্যাদায় নিজ গ্রাম পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের ছোট ভগবানপুর পূর্বপাড়া গ্রামে দাফনের জন্য সবুজের কফিন নিয়ে যাওয়া হয়।

একই হেলিকপ্টারে নিহত আরও দুই শান্তিরক্ষী কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম ও সৈনিক শান্ত মণ্ডলের মরদেহ বহন করে হেলিকপ্টারটি কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।এর আগে রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় সেনা মসজিদ প্রাঙ্গণে সুদানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। নিহতদের পরিবারের সদস্যরাও জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।

নিহত মো. সবুজ মিয়া গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট ভগবানপুর পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত হাবিদুল ইসলামের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সবুজের বয়স যখন দুই বছর, তখন তার বাবা মারা যান। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট। অভাবের সংসারে পড়াশোনার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই দায়িত্ব নিতে হয় তাকে।

সবুজের চাচাতো ভাই ফিরোজ মিয়া বলেন, সবুজই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে পরিবারটি বড় বিপদের মধ্যে পড়ে গেল।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০১০ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে গ্রামের এক আত্মীয়ের সহায়তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অসামরিক (লন্ড্রি) পদে চাকরিতে যোগ দেন সবুজ। প্রায় ১৭ মাস আগে তার বিয়ে হয়। তাদের কোনো সন্তান নেই। সবুজের জন্ম ১৯৯৭ সালের ১ মে।

নিহতের মা ছকিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, একটা সন্তানকে কষ্ট করে বড় করেছি। সেই ছেলেটাকেই হারালাম। এখন আমার আর কী আছে? স্ত্রী নুপুর আক্তার বলেন, সংসার শুরু করার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।

আইএসপিআর জানায়, গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের কাদুগলি লজিস্টিকস বেইসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়াসহ ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও নয়জন।

নিহত অন্য শান্তিরক্ষীরা হলেন নাটোরের করপোরাল মো. মাসুদ রানা, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম ও সৈনিক শান্ত মণ্ডল, রাজবাড়ীর সৈনিক শামীম রেজা এবং কিশোরগঞ্জের মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

আইএসপিআরের তথ্যমতে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ ১৯৮৮ সাল থেকে যুক্ত রয়েছে। এ পর্যন্ত শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশের ১৬৮ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত শান্তিরক্ষী সবুজকে সামরিক মর্যাদায় দাফন

প্রকাশের সময়: ০৭:০৪:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষী মো. সবুজ মিয়ার মরদেহ রোববার (২১ ডিসেম্বর) গাইবান্ধায় পৌঁছেছে। এদিন দুপুর ২টার দিকে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে তার মরদেহ গাইবান্ধা হেলিপ্যাডে আনা হয়।

হেলিপ্যাডে সবুজ মিয়ার কফিন গ্রহণ করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন আলভী। পরে যথাযথ সামরিক মর্যাদায় নিজ গ্রাম পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের ছোট ভগবানপুর পূর্বপাড়া গ্রামে দাফনের জন্য সবুজের কফিন নিয়ে যাওয়া হয়।

একই হেলিকপ্টারে নিহত আরও দুই শান্তিরক্ষী কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম ও সৈনিক শান্ত মণ্ডলের মরদেহ বহন করে হেলিকপ্টারটি কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।এর আগে রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় সেনা মসজিদ প্রাঙ্গণে সুদানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। নিহতদের পরিবারের সদস্যরাও জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।

নিহত মো. সবুজ মিয়া গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট ভগবানপুর পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত হাবিদুল ইসলামের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সবুজের বয়স যখন দুই বছর, তখন তার বাবা মারা যান। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট। অভাবের সংসারে পড়াশোনার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই দায়িত্ব নিতে হয় তাকে।

সবুজের চাচাতো ভাই ফিরোজ মিয়া বলেন, সবুজই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে পরিবারটি বড় বিপদের মধ্যে পড়ে গেল।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০১০ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে গ্রামের এক আত্মীয়ের সহায়তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অসামরিক (লন্ড্রি) পদে চাকরিতে যোগ দেন সবুজ। প্রায় ১৭ মাস আগে তার বিয়ে হয়। তাদের কোনো সন্তান নেই। সবুজের জন্ম ১৯৯৭ সালের ১ মে।

নিহতের মা ছকিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, একটা সন্তানকে কষ্ট করে বড় করেছি। সেই ছেলেটাকেই হারালাম। এখন আমার আর কী আছে? স্ত্রী নুপুর আক্তার বলেন, সংসার শুরু করার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।

আইএসপিআর জানায়, গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের কাদুগলি লজিস্টিকস বেইসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়াসহ ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও নয়জন।

নিহত অন্য শান্তিরক্ষীরা হলেন নাটোরের করপোরাল মো. মাসুদ রানা, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম ও সৈনিক শান্ত মণ্ডল, রাজবাড়ীর সৈনিক শামীম রেজা এবং কিশোরগঞ্জের মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

আইএসপিআরের তথ্যমতে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ ১৯৮৮ সাল থেকে যুক্ত রয়েছে। এ পর্যন্ত শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশের ১৬৮ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।