সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিউইয়র্কে সবুজ কৃষির গল্প

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যস্ততম শহর নিউইয়র্ক—চারপাশে শুধু উঁচু ভবন, গাড়ির গর্জন আর যান্ত্রিক কর্মব্যস্ততা। সেই কংক্রিটের ভিড়ে এক টুকরো সবুজ বাংলাদেশের ছোঁয়া এনে দিয়েছেন নোয়াখালীর দুই প্রবাসী—জামাই সোহাগ আলম বাবু ও তার শ্বশুর মঈন চৌধুরী।

নিউইয়র্কের ব্রুকলিন এলাকার ইস্ট নিউইয়র্কে নিজেদের বাড়ির পেছনের আঙিনায় তারা গড়ে তুলেছেন এক অনন্য কৃষিক্ষেত্র। যেখানে চাষ হচ্ছে দেশি শাকসবজির পাশাপাশি কিছু বিদেশি ফলও।

সোহাগ আলম বাবু প্রায় ১৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তার বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নে। প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও কৃষির প্রতি ভালোবাসা তাকে টেনেছে মাটির কাছে। দুই বছর আগে বাড়ির পেছনের খালি জায়গাটি কাজে লাগানোর ভাবনা থেকেই শুরু হয় তাদের সবুজ কৃষির যাত্রা। পাশে ছিলেন শ্বশুর মঈন চৌধুরী, বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের চৌধুরী বাড়ির সন্তান।

শুরুটা ছিল ছোট—শখের বশে কয়েক প্রকার শাকসবজি রোপণ। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই শখই রূপ নেয় নিবিড় কৃষি উদ্যোগে। এখন তাদের আঙিনার ফলন দিয়ে পরিবারের পুরো বছরের সবজি চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে।

তারা জানান, বাংলাদেশি কচু, পুঁইশাক, বেগুন, লাউ, কুমড়া, শসা, ঝিঙা, ঢেঁড়স, করলা, ডাঁটা, টমেটোসহ প্রায় সব দেশি সবজিই তারা চাষ করছেন। পাশাপাশি কিছু বিদেশি ফলও ফলানো হচ্ছে।

নিউইয়র্কের ঠান্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে তারা ব্যবহার করছেন আধুনিক টানেল হাউস ব্যবস্থা, অর্গানিক সার ও কার্যকর জলসেচ প্রযুক্তি। এর ফলে তুষারপাতের সময়ও কিছু ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে।

শ্বশুর মঈন চৌধুরী বলেন, “আমরা পেশাদার কৃষক নই, কিন্তু মাটির প্রতি ভালোবাসা থেকেই এই উদ্যোগ নিয়েছি। প্রতিদিন সকালে গাছের কাছে যাওয়া, ফুল দেখা, ফল তোলা—এসবই এখন আমাদের আনন্দ।”

জামাই সোহাগ আলম বাবু বলেন, “দেশ ছাড়লেও আমরা দেশের মাটির টান ভুলিনি। এই ছোট্ট সবুজ কোণ আমাদের সংস্কৃতি, ভালোবাসা আর আত্মিক বন্ধনের প্রতীক। অনেকেই এখন আমাদের দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।”

প্রবাসী মো. জাহিদ রুবেল বলেন, “ব্রুকলিনের সেই আঙিনায় ঢুকলে মনে হয় যেন এক টুকরো বাংলাদেশে চলে এসেছি। সেখানে গাছের ঘ্রাণ, সবুজের ছোঁয়া—সবই মনে শান্তি আনে।”

সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাছরিন আকতার বলেন, “প্রবাসে থেকেও তারা দেশের মাটিকে হৃদয়ে ধারণ করেছেন—এটা সত্যিই গর্বের বিষয়। তাদের সাফল্য অন্য প্রবাসীদেরও অনুপ্রাণিত করবে।”

বিদেশের মাটিতে এই জামাই-শ্বশুরের সবুজ উদ্যোগ যেন হয়ে উঠেছে প্রবাসে বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি—যেখানে পরিশ্রম, মাটি আর মমতা মিলে ফুটে উঠেছে এক অনন্য সবুজ কৃষির গল্প।

জনপ্রিয়

নিউইয়র্কে সবুজ কৃষির গল্প

প্রকাশের সময়: ০৩:৫৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যস্ততম শহর নিউইয়র্ক—চারপাশে শুধু উঁচু ভবন, গাড়ির গর্জন আর যান্ত্রিক কর্মব্যস্ততা। সেই কংক্রিটের ভিড়ে এক টুকরো সবুজ বাংলাদেশের ছোঁয়া এনে দিয়েছেন নোয়াখালীর দুই প্রবাসী—জামাই সোহাগ আলম বাবু ও তার শ্বশুর মঈন চৌধুরী।

নিউইয়র্কের ব্রুকলিন এলাকার ইস্ট নিউইয়র্কে নিজেদের বাড়ির পেছনের আঙিনায় তারা গড়ে তুলেছেন এক অনন্য কৃষিক্ষেত্র। যেখানে চাষ হচ্ছে দেশি শাকসবজির পাশাপাশি কিছু বিদেশি ফলও।

সোহাগ আলম বাবু প্রায় ১৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তার বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নে। প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও কৃষির প্রতি ভালোবাসা তাকে টেনেছে মাটির কাছে। দুই বছর আগে বাড়ির পেছনের খালি জায়গাটি কাজে লাগানোর ভাবনা থেকেই শুরু হয় তাদের সবুজ কৃষির যাত্রা। পাশে ছিলেন শ্বশুর মঈন চৌধুরী, বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের চৌধুরী বাড়ির সন্তান।

শুরুটা ছিল ছোট—শখের বশে কয়েক প্রকার শাকসবজি রোপণ। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই শখই রূপ নেয় নিবিড় কৃষি উদ্যোগে। এখন তাদের আঙিনার ফলন দিয়ে পরিবারের পুরো বছরের সবজি চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে।

তারা জানান, বাংলাদেশি কচু, পুঁইশাক, বেগুন, লাউ, কুমড়া, শসা, ঝিঙা, ঢেঁড়স, করলা, ডাঁটা, টমেটোসহ প্রায় সব দেশি সবজিই তারা চাষ করছেন। পাশাপাশি কিছু বিদেশি ফলও ফলানো হচ্ছে।

নিউইয়র্কের ঠান্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে তারা ব্যবহার করছেন আধুনিক টানেল হাউস ব্যবস্থা, অর্গানিক সার ও কার্যকর জলসেচ প্রযুক্তি। এর ফলে তুষারপাতের সময়ও কিছু ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে।

শ্বশুর মঈন চৌধুরী বলেন, “আমরা পেশাদার কৃষক নই, কিন্তু মাটির প্রতি ভালোবাসা থেকেই এই উদ্যোগ নিয়েছি। প্রতিদিন সকালে গাছের কাছে যাওয়া, ফুল দেখা, ফল তোলা—এসবই এখন আমাদের আনন্দ।”

জামাই সোহাগ আলম বাবু বলেন, “দেশ ছাড়লেও আমরা দেশের মাটির টান ভুলিনি। এই ছোট্ট সবুজ কোণ আমাদের সংস্কৃতি, ভালোবাসা আর আত্মিক বন্ধনের প্রতীক। অনেকেই এখন আমাদের দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।”

প্রবাসী মো. জাহিদ রুবেল বলেন, “ব্রুকলিনের সেই আঙিনায় ঢুকলে মনে হয় যেন এক টুকরো বাংলাদেশে চলে এসেছি। সেখানে গাছের ঘ্রাণ, সবুজের ছোঁয়া—সবই মনে শান্তি আনে।”

সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাছরিন আকতার বলেন, “প্রবাসে থেকেও তারা দেশের মাটিকে হৃদয়ে ধারণ করেছেন—এটা সত্যিই গর্বের বিষয়। তাদের সাফল্য অন্য প্রবাসীদেরও অনুপ্রাণিত করবে।”

বিদেশের মাটিতে এই জামাই-শ্বশুরের সবুজ উদ্যোগ যেন হয়ে উঠেছে প্রবাসে বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি—যেখানে পরিশ্রম, মাটি আর মমতা মিলে ফুটে উঠেছে এক অনন্য সবুজ কৃষির গল্প।