
গাইবান্ধা–২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ আব্দুল করিম আজ (১৬ মার্চ) সকালে ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসে ইরানের মাননীয় রাষ্ট্রদূত জালিল রহিমি জাহান আবাদি-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে তিনি দখলদার ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর শাহাদাতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, এই শোক শুধু ইরানের জনগণের নয়, বরং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্যও এক বেদনাদায়ক ঘটনা।
আলোচনায় চলমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবাজ আমেরিকা ও ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের অবস্থানের প্রতি বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের সহমর্মিতা ও সমর্থনের কথাও তুলে ধরেন সংসদ সদস্য।তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে ইসলামিক রিপাবলিক প্রতিষ্ঠা, মিশরে ইখওয়ানুল মুসলিমিনের সংগ্রাম এবং উপমহাদেশে জামায়াতে ইসলামীর ইসলামী আন্দোলন—সবই মূলত ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার একটি অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। এ প্রেক্ষাপটে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে ইরানের শাসনব্যবস্থার আদর্শিক অবস্থানের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশি জাহাজ চলাচলের জন্য অবাধ সুযোগ প্রদান করায় ইরান সরকারকে ধন্যবাদ জানান সংসদ সদস্য এবং ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের পাশে থাকার আহ্বান জানান।এসময় তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জুলাই বিপ্লব ও এতে প্রায় দুই হাজার শহীদের আত্মত্যাগের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাকে আরও দৃঢ় করেছে।
এছাড়া আলোচনায় উত্তরবঙ্গের কৃষি সম্ভাবনা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি সংসদ সদস্য ইরানের রাষ্ট্রদূতকে উত্তরবঙ্গ তথা গাইবান্ধা জেলা সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। জবাবে রাষ্ট্রদূত জালিল রহিমি জাহান আবাদি যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গাইবান্ধা জেলা ভ্রমণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এ সময় ইরান দূতাবাসের কনস্যুলার ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদ খসরভি উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইরানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 













