শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যমুনা ছাড়ছেন ড. ইউনূস, সংস্কার শেষে উঠবেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা: রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ থেকে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিদায় নিচ্ছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সংস্কার শেষে সেখানে উঠবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদফতর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে ড. ইউনূস এই ভবনেই অবস্থান করছিলেন। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে তার মেয়াদের সমাপ্তি ঘটে। বর্তমানে তিনি যমুনাতেই অবস্থান করলেও বৃহস্পতিবারের মধ্যে তা খালি করার মধ্য দিয়ে এই অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটবে।

এদিকে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর হেয়ার রোডে অবস্থিত যমুনাকেই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে গুলশানের নিজস্ব বাসভবনে অবস্থান করে দাফতরিক কাজ পরিচালনা করছেন। তিনি যমুনায় থাকার অভিপ্রায় ব্যক্ত করায় সেখানে কিছু প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। সংস্কার শেষ হলেই প্রধানমন্ত্রী সেখানে সপরিবারে উঠবেন। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নতুন বাসভবন হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবন ও শেরেবাংলা নগর এলাকা বিবেচনায় নেওয়া হলেও সময়স্বল্পতা ও নিরাপত্তার কারণে শেষ পর্যন্ত যমুনা ও এর পাশের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলোকেই সমন্বিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যমুনা ত্যাগের প্রাক্কালে অধ্যাপক ইউনূস ও তার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা ইতোমধ্যে তাদের কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। ভবিষ্যতে তিনি তার ‘থ্রি জিরো’ ভিশন অর্থাৎ শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করবেন। বিদেশ থেকে আসা বিভিন্ন সফরের আমন্ত্রণে তিনি সশরীরে বা ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন, যা সমন্বয় করছেন লামিয়া মোরশেদ।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসন্ন পবিত্র রমজানের ইফতার মাহফিল এবং ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান এই যমুনাতেই আয়োজন করতে চান।

উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করার সিদ্ধান্ত হওয়ায় যমুনাই এখন সরকারপ্রধানের প্রধান আবাসে পরিণত হচ্ছে। প্রায় সোয়া তিন একর আয়তনের এই ভবন ও সংলগ্ন এলাকা এখন নতুন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও সচিবালয়ে যাতায়াতের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

জনপ্রিয়

যমুনা ছাড়ছেন ড. ইউনূস, সংস্কার শেষে উঠবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময়: ০২:২২:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা: রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ থেকে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিদায় নিচ্ছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সংস্কার শেষে সেখানে উঠবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদফতর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে ড. ইউনূস এই ভবনেই অবস্থান করছিলেন। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে তার মেয়াদের সমাপ্তি ঘটে। বর্তমানে তিনি যমুনাতেই অবস্থান করলেও বৃহস্পতিবারের মধ্যে তা খালি করার মধ্য দিয়ে এই অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটবে।

এদিকে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর হেয়ার রোডে অবস্থিত যমুনাকেই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে গুলশানের নিজস্ব বাসভবনে অবস্থান করে দাফতরিক কাজ পরিচালনা করছেন। তিনি যমুনায় থাকার অভিপ্রায় ব্যক্ত করায় সেখানে কিছু প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। সংস্কার শেষ হলেই প্রধানমন্ত্রী সেখানে সপরিবারে উঠবেন। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নতুন বাসভবন হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবন ও শেরেবাংলা নগর এলাকা বিবেচনায় নেওয়া হলেও সময়স্বল্পতা ও নিরাপত্তার কারণে শেষ পর্যন্ত যমুনা ও এর পাশের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলোকেই সমন্বিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যমুনা ত্যাগের প্রাক্কালে অধ্যাপক ইউনূস ও তার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা ইতোমধ্যে তাদের কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। ভবিষ্যতে তিনি তার ‘থ্রি জিরো’ ভিশন অর্থাৎ শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করবেন। বিদেশ থেকে আসা বিভিন্ন সফরের আমন্ত্রণে তিনি সশরীরে বা ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন, যা সমন্বয় করছেন লামিয়া মোরশেদ।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসন্ন পবিত্র রমজানের ইফতার মাহফিল এবং ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান এই যমুনাতেই আয়োজন করতে চান।

উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করার সিদ্ধান্ত হওয়ায় যমুনাই এখন সরকারপ্রধানের প্রধান আবাসে পরিণত হচ্ছে। প্রায় সোয়া তিন একর আয়তনের এই ভবন ও সংলগ্ন এলাকা এখন নতুন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও সচিবালয়ে যাতায়াতের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ঢেলে সাজানো হচ্ছে।