মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পারে গৃহবধূর আত্মহত্যা

 

গাইবান্ধা: গাইবান্ধা সদর উপজেলায় শয়ন ঘরের ভেতর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় শ্রীমতি মিতু রানী সরকার (২২) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সাড়ে ৬ টার দিকে উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের কোমরপুর এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বল্লমঝাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান।

নিহত শ্রীমতি মিতু রানী সরকার উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের কোমরপুর এলাকার রিপন সরকারের স্ত্রী ও একই এলাকার দুলাল মহন্তের মেয়ে। তাদের সংসারে ৩ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
মৃত্যুর পূর্বে মিতুর লেখা একটি চিরকুটে সে তার স্বামীকে উদ্দেশ্য করে লেখে ” রিপন সরকার, আমার কি এমন ভুল ছিল? জীবনে তোমার কাছ থেকে কিছু পেলাম না আঘাত ছাড়া।আজ তুমি আমাকে সম্মান না দেওয়ায় তোমার বাবা মা আমাকে ধরে মারে । সংসার করার জন্য তোমার কাছে গিয়েছিলাম কিন্তু তুমি সেটা করতে দিলে না। জীবনে অনেক যন্ত্রনা সহ্য করেছি আর নয় কারনে অকারণে তুমি আমাকে অনেক মারধর করেছ ! পৃথিবীর সব সুখ আমি তোমার দিয়ে গেলাম। রেখে গেলাম শুধু আমার শেষ উপহার । আমার (সোনার তরী) যাকে আমি মানুষ করতে চেয়েছিলাম কিন্তু তোমার জন্য সেটা আর হলো না। মুক্তি দিলাম তোমাকে আর আসব না তোমার কাছে”
মিতুর প্রতিবেশীরা জানান , বিয়ের পর থেকেই স্বামী রিপন সরকার বিভিন্ন সময়ে মিতুকে  নির্যাতন করে আসছিলো। তারা দুজন ভিন্ন জাতের। রিপন উঁচু জাতের আর মিতু বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের হওয়ায় প্রায় তার শশুর বাড়ির লোকজন এটি নিয়ে তাকে ছোট করে কথা বলতো । এমনকি  বেশ কয়েক বার মারপিট করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিলে মিতুর  বাবা দুলাল মহন্ত চিকিৎসা করে আসছিলেন। এরই এক পর্যায়ে আজ বাবার বাড়িতেই অভিমান করে আত্নহত্যা করেন।

এ ঘটনায় মিতুর বাবা দুলাল মহন্ত বাদী হয়ে রিপনসহ তার বাবা মাকে আসামি করে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করে ।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আজ সন্ধ্যার দিকে খবর পেয়ে মিতু রানী নামের এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আসামিরা সবাই পলাতক রয়েছে তাই তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে ।”

 

জনপ্রিয়

গাইবান্ধায় স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পারে গৃহবধূর আত্মহত্যা

গাইবান্ধায় স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পারে গৃহবধূর আত্মহত্যা

প্রকাশের সময়: ০৭:০১:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

গাইবান্ধা: গাইবান্ধা সদর উপজেলায় শয়ন ঘরের ভেতর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় শ্রীমতি মিতু রানী সরকার (২২) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সাড়ে ৬ টার দিকে উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের কোমরপুর এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বল্লমঝাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান।

নিহত শ্রীমতি মিতু রানী সরকার উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের কোমরপুর এলাকার রিপন সরকারের স্ত্রী ও একই এলাকার দুলাল মহন্তের মেয়ে। তাদের সংসারে ৩ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
মৃত্যুর পূর্বে মিতুর লেখা একটি চিরকুটে সে তার স্বামীকে উদ্দেশ্য করে লেখে ” রিপন সরকার, আমার কি এমন ভুল ছিল? জীবনে তোমার কাছ থেকে কিছু পেলাম না আঘাত ছাড়া।আজ তুমি আমাকে সম্মান না দেওয়ায় তোমার বাবা মা আমাকে ধরে মারে । সংসার করার জন্য তোমার কাছে গিয়েছিলাম কিন্তু তুমি সেটা করতে দিলে না। জীবনে অনেক যন্ত্রনা সহ্য করেছি আর নয় কারনে অকারণে তুমি আমাকে অনেক মারধর করেছ ! পৃথিবীর সব সুখ আমি তোমার দিয়ে গেলাম। রেখে গেলাম শুধু আমার শেষ উপহার । আমার (সোনার তরী) যাকে আমি মানুষ করতে চেয়েছিলাম কিন্তু তোমার জন্য সেটা আর হলো না। মুক্তি দিলাম তোমাকে আর আসব না তোমার কাছে”
মিতুর প্রতিবেশীরা জানান , বিয়ের পর থেকেই স্বামী রিপন সরকার বিভিন্ন সময়ে মিতুকে  নির্যাতন করে আসছিলো। তারা দুজন ভিন্ন জাতের। রিপন উঁচু জাতের আর মিতু বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের হওয়ায় প্রায় তার শশুর বাড়ির লোকজন এটি নিয়ে তাকে ছোট করে কথা বলতো । এমনকি  বেশ কয়েক বার মারপিট করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিলে মিতুর  বাবা দুলাল মহন্ত চিকিৎসা করে আসছিলেন। এরই এক পর্যায়ে আজ বাবার বাড়িতেই অভিমান করে আত্নহত্যা করেন।

এ ঘটনায় মিতুর বাবা দুলাল মহন্ত বাদী হয়ে রিপনসহ তার বাবা মাকে আসামি করে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করে ।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আজ সন্ধ্যার দিকে খবর পেয়ে মিতু রানী নামের এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আসামিরা সবাই পলাতক রয়েছে তাই তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে ।”