সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংসদের উচ্চকক্ষেও কি বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে?

ভোটের হিসাব কিংবা সংসদের নিম্নকক্ষে আসনের হিসাব অনুসারে—সব দিক থেকেই জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

নির্বাচন কমিশনের দলভিত্তিক ভোটের হিসাব অনুযায়ী, ২৯৭ আসনে বিএনপির প্রাপ্ত ভোটের হার ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। অর্থাৎ, এসব আসনে বিএনপি যে ভোট পেয়েছে, তাতে ভোটের হার বিবেচনায় উচ্চকক্ষ গঠিত হলে তাতে বিএনপির অর্ধেক আসন নিশ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর প্রাপ্ত ভোটের হার ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত না হলেও—এই দুই আসনে বিএনপির প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে বলে জানা গেছে। এতে ভোটের হিসাবে উচ্চকক্ষে বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভোটের হিসাবে উচ্চকক্ষ গঠন করা হলে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপির পাশাপাশি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ উচ্চকক্ষে জায়গা পাবে।

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনে মোট ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। এসব প্রার্থী জোটবদ্ধ হলে ভোটের হিসাবে ৬টি আসন পেতে পারেন উচ্চকক্ষে।

উচ্চকক্ষে আসনের সংখ্যা ১০০ এবং ভোটের হিসাবে উচ্চকক্ষের প্রতিনিধি নিযুক্ত হলে মাত্র ৫টি দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। যেসব দল এক শতাংশের কম ভোট পেয়েছে, তাদের কোন প্রতিনিধি উচ্চকক্ষে থাকবে না।

জুলাই সনদে প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলা থাকলেও—তাতে নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে বিএনপির। দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে আসনভিত্তিক উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপির আসন ২০৯টি, জামায়াত ৬৮টি আসন পেয়েছে। আসন বিবেচনায় উচ্চকক্ষ গঠিত হলে বিএনপি ৭০টি, জামায়াত ২৩টি ও এনসিপি ২টি আসন পাবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনে ৭ জন বিজয়ী হয়েছেন। জয়ীরা জোট গঠন করলে আসনভিত্তিতে উচ্চকক্ষে তারা ৩টি আসন পাবেন।

কেবল উচ্চকক্ষেই নয়, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে নিম্নকক্ষে বিএনপির দৃই-তৃতীয়াংশের বেশি সমর্থন থাকার পরও—সংরক্ষিত আসনের ৫০ নারী আসনও নিম্নকক্ষের আসনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। এতে কমপক্ষে ৩৫টি পাবে বিএনপি ও জামায়াত পাবে ১১টি।

ভোটে বিএনপির একচ্ছত্র আধিপত্য: উচ্চকক্ষ কি আদৌ ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ নিশ্চিত করতে পারবে?

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি ও ভারসাম্য (চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স) নিশ্চিত করা। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের  ফলাফলের পরিসংখ্যান এবং জুলাই সনদের রূপরেখা বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একক কোনো দল, বিশেষ করে বিএনপি যদি ৫১ শতাংশের বেশি ভোট বা আসন পায়, তবে উচ্চকক্ষ তার কার্যকরিতা হারাতে পারে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের দুটি আসনের স্থগিত ফলাফলেও দলটির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নিম্নকক্ষের (জাতীয় সংসদ) মতো উচ্চকক্ষেও যদি একই দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে, তবে আইন প্রণয়ন বা নীতি নির্ধারণে কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ টিবিএসকে বলেন, “বর্তমানে বিএনপির প্রাপ্ত ভোটের হার ৪৯.৯৭ শতাংশ । যেটি আরো বাড়তে পারে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল প্রকাশিত হলে।”

“আসনের হিসাবে এই আধিপত্য আরও বেশি। ফলে উচ্চকক্ষের সদস্য মনোনয়নে যে পদ্ধতিই অনুসরণ করা হোক না কেন—ভোটের অনুপাত বা আসনের অনুপাত, উভয় ক্ষেত্রেই বিএনপির একক আধিপত্য বজায় থাকবে”, তিনি যোগ করেন ।

এ বিষয়ে আরেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক জানান, নিম্নকক্ষে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নেই, উচ্চকক্ষেও থাকার সুযোগ কম। কারণ, দলীয় আনুগত্যের বাইরে গিয়ে এমপিদের ভোট দেওয়ার সংস্কৃতি বাংলাদেশে এখনো তৈরি হয়নি। ফলে সরকার যদি কোনো আইন পাস করতে চায় এবং নিম্নকক্ষে তাদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে, তবে উচ্চকক্ষেও তাদের লোকবল বেশি থাকায় সেটি সহজেই পাস হয়ে যাবে।

জুলাই সনদে ‘নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে’ উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলা হলেও বিএনপি এই বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে । তাদের ইশতেহার অনুসারে তারা আসনের ভিত্তিতেই উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে অবস্থান নেবে ।

বিশ্লেষকদের মতে, পদ্ধতি যাই হোক, ৫১ শতাংশের বেশি জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা দলের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষ কার্যত ‘সিলমোহর’ দেওয়ার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।

উচ্চকক্ষে ভারসাম্যের অভাব দেখা দিলেও বিরোধী দলগুলোর ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’ বা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি ইতোমধ্যে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে।

সাব্বিব আহমেদ বলেন, ১৯৯১ সালের পর বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শ্যাডো ক্যাবিনেটের চর্চা দেখা যায়নি। যদি বিরোধী দলগুলো এটি কার্যকর করতে পারে এবং রাজপথের পাশাপাশি পলিসি লেভেলে গঠনমূলক সমালোচনা করে, তবে সেটি সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিতে উচ্চকক্ষের চেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, উচ্চকক্ষের ধারণাটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র, ভারত বা কানাডার মতো ফেডারেল রাষ্ট্রকাঠামোর জন্য প্রযোজ্য। ব্রিটেনের মতো ইউনিটারি রাষ্ট্রেও এর চর্চা আছে। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একক দলের বিশাল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর, উচ্চকক্ষ কতটা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা আশা প্রকাশ করছেন, ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিট বা চেতনাকে ধারণ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হয়তো নিজ থেকেই দায়িত্বশীল আচরণ করবে। তবে কাঠামোগতভাবে উচ্চকক্ষ দিয়ে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ এই মুহূর্তে কম।

জনপ্রিয়

গাইবান্ধা-১ আসনের নবনির্বাচিত এমপির সাথে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন জামায়াতের শুভেচ্ছা বিনিময়

সংসদের উচ্চকক্ষেও কি বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে?

প্রকাশের সময়: ০২:৫০:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভোটের হিসাব কিংবা সংসদের নিম্নকক্ষে আসনের হিসাব অনুসারে—সব দিক থেকেই জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

নির্বাচন কমিশনের দলভিত্তিক ভোটের হিসাব অনুযায়ী, ২৯৭ আসনে বিএনপির প্রাপ্ত ভোটের হার ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। অর্থাৎ, এসব আসনে বিএনপি যে ভোট পেয়েছে, তাতে ভোটের হার বিবেচনায় উচ্চকক্ষ গঠিত হলে তাতে বিএনপির অর্ধেক আসন নিশ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর প্রাপ্ত ভোটের হার ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত না হলেও—এই দুই আসনে বিএনপির প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে বলে জানা গেছে। এতে ভোটের হিসাবে উচ্চকক্ষে বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভোটের হিসাবে উচ্চকক্ষ গঠন করা হলে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপির পাশাপাশি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ উচ্চকক্ষে জায়গা পাবে।

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনে মোট ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। এসব প্রার্থী জোটবদ্ধ হলে ভোটের হিসাবে ৬টি আসন পেতে পারেন উচ্চকক্ষে।

উচ্চকক্ষে আসনের সংখ্যা ১০০ এবং ভোটের হিসাবে উচ্চকক্ষের প্রতিনিধি নিযুক্ত হলে মাত্র ৫টি দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। যেসব দল এক শতাংশের কম ভোট পেয়েছে, তাদের কোন প্রতিনিধি উচ্চকক্ষে থাকবে না।

জুলাই সনদে প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলা থাকলেও—তাতে নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে বিএনপির। দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে আসনভিত্তিক উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপির আসন ২০৯টি, জামায়াত ৬৮টি আসন পেয়েছে। আসন বিবেচনায় উচ্চকক্ষ গঠিত হলে বিএনপি ৭০টি, জামায়াত ২৩টি ও এনসিপি ২টি আসন পাবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনে ৭ জন বিজয়ী হয়েছেন। জয়ীরা জোট গঠন করলে আসনভিত্তিতে উচ্চকক্ষে তারা ৩টি আসন পাবেন।

কেবল উচ্চকক্ষেই নয়, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে নিম্নকক্ষে বিএনপির দৃই-তৃতীয়াংশের বেশি সমর্থন থাকার পরও—সংরক্ষিত আসনের ৫০ নারী আসনও নিম্নকক্ষের আসনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। এতে কমপক্ষে ৩৫টি পাবে বিএনপি ও জামায়াত পাবে ১১টি।

ভোটে বিএনপির একচ্ছত্র আধিপত্য: উচ্চকক্ষ কি আদৌ ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ নিশ্চিত করতে পারবে?

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি ও ভারসাম্য (চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স) নিশ্চিত করা। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের  ফলাফলের পরিসংখ্যান এবং জুলাই সনদের রূপরেখা বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একক কোনো দল, বিশেষ করে বিএনপি যদি ৫১ শতাংশের বেশি ভোট বা আসন পায়, তবে উচ্চকক্ষ তার কার্যকরিতা হারাতে পারে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের দুটি আসনের স্থগিত ফলাফলেও দলটির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নিম্নকক্ষের (জাতীয় সংসদ) মতো উচ্চকক্ষেও যদি একই দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে, তবে আইন প্রণয়ন বা নীতি নির্ধারণে কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ টিবিএসকে বলেন, “বর্তমানে বিএনপির প্রাপ্ত ভোটের হার ৪৯.৯৭ শতাংশ । যেটি আরো বাড়তে পারে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল প্রকাশিত হলে।”

“আসনের হিসাবে এই আধিপত্য আরও বেশি। ফলে উচ্চকক্ষের সদস্য মনোনয়নে যে পদ্ধতিই অনুসরণ করা হোক না কেন—ভোটের অনুপাত বা আসনের অনুপাত, উভয় ক্ষেত্রেই বিএনপির একক আধিপত্য বজায় থাকবে”, তিনি যোগ করেন ।

এ বিষয়ে আরেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক জানান, নিম্নকক্ষে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নেই, উচ্চকক্ষেও থাকার সুযোগ কম। কারণ, দলীয় আনুগত্যের বাইরে গিয়ে এমপিদের ভোট দেওয়ার সংস্কৃতি বাংলাদেশে এখনো তৈরি হয়নি। ফলে সরকার যদি কোনো আইন পাস করতে চায় এবং নিম্নকক্ষে তাদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে, তবে উচ্চকক্ষেও তাদের লোকবল বেশি থাকায় সেটি সহজেই পাস হয়ে যাবে।

জুলাই সনদে ‘নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে’ উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলা হলেও বিএনপি এই বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে । তাদের ইশতেহার অনুসারে তারা আসনের ভিত্তিতেই উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে অবস্থান নেবে ।

বিশ্লেষকদের মতে, পদ্ধতি যাই হোক, ৫১ শতাংশের বেশি জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা দলের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষ কার্যত ‘সিলমোহর’ দেওয়ার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।

উচ্চকক্ষে ভারসাম্যের অভাব দেখা দিলেও বিরোধী দলগুলোর ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’ বা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি ইতোমধ্যে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে।

সাব্বিব আহমেদ বলেন, ১৯৯১ সালের পর বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শ্যাডো ক্যাবিনেটের চর্চা দেখা যায়নি। যদি বিরোধী দলগুলো এটি কার্যকর করতে পারে এবং রাজপথের পাশাপাশি পলিসি লেভেলে গঠনমূলক সমালোচনা করে, তবে সেটি সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিতে উচ্চকক্ষের চেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, উচ্চকক্ষের ধারণাটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র, ভারত বা কানাডার মতো ফেডারেল রাষ্ট্রকাঠামোর জন্য প্রযোজ্য। ব্রিটেনের মতো ইউনিটারি রাষ্ট্রেও এর চর্চা আছে। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একক দলের বিশাল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর, উচ্চকক্ষ কতটা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা আশা প্রকাশ করছেন, ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিট বা চেতনাকে ধারণ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হয়তো নিজ থেকেই দায়িত্বশীল আচরণ করবে। তবে কাঠামোগতভাবে উচ্চকক্ষ দিয়ে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ এই মুহূর্তে কম।