বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জনতা কথা বলে ব্যালটে – বিমল সরকার

বহুদিন পর এমন একটি দিন আসছে, যেদিন ক্ষমতার ভাষা পাল্টে যাবে। সেদিন মিছিল কথা বলবে না, স্লোগানও নয় বরং কথা বলবে ব্যালট। দীর্ঘ সময় ধরে যে কণ্ঠগুলো উপেক্ষিত ছিল, যে মানুষগুলো স্বাভাবিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, তাদের নীরব উপস্থিতিই হয়ে উঠবে সবচেয়ে শক্তিশালী বক্তব্য। এই কারণেই নির্বাচনের দিনটি শুধু একটি তারিখ নয় ,এটি জনতার ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার দিন। ভোট গণতন্ত্রের সৌন্দর্য কিন্তু তার চেয়েও বড় সত্য হলো যে ভোট মানুষের একটি মর্যাদার নাম । মানুষ যখন নির্ভয়ে ব্যালটের সামনে দাঁড়ায়, তখন রাষ্ট্র তার নাগরিককে স্বীকৃতি দেয়। এই স্বীকৃতি বহু বছর ধরে ক্ষয়ে গেছে। প্রশ্ন উঠেছিল যে ভোট দিলে কি কিছু বদলায়? সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সুযোগই আজ সামনে এসেছে। বাংলাদেশ আজ ভিতরে ভিতরে অজস্র সমস্যায় জর্জরিত। অর্থনীতির চাপ, কর্মসংস্থানের সংকট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অনিশ্চয়তা, সামাজিক সম্পর্কের ভাঙন সহ অজস্র সমস্যা মিলিয়ে মানুষ আজ ক্লান্ত। কিন্তু ইতিহাস বলে, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন একটি দেশের ছন্দ ফিরিয়ে দিতে পারে। কারণ মানুষ যখন কথা বলতে পারে, তখন রাষ্ট্র শুনতে বাধ্য হয়। এই মুহূর্তে রাষ্ট্রযন্ত্রের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব যেন নির্বাচনটি ভয়ের নয় হয়ে ভরসার উৎস হয়। আইন প্রয়োগ সমান হোক, প্রশাসন থাকুক নিরপেক্ষ, আর ভোটকেন্দ্র হয়ে উঠুক নাগরিকের নিরাপদ পরিসর। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও প্রত্যাশা করি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হোক কিন্তু সহিংসতা যেন না হয় নয়; ভিন্নমত থাকুক কিন্তু বিদ্বেষ ছড়ানো বন্ধ হোক। এই নির্বাচনে জয় কিংবা পরাজয়ের হিসাবের চেয়েও বড় হিসাবটা হচ্ছে আস্থার। মানুষ যদি দেখে তার ভোটের মূল্য আছে, তবে কেবল রাজনৈতিক স্থিতি নয়, অর্থনীতি থেকে সমাজজের হরেক স্তকেও স্বস্তির হাওয়া বইবে। ব্যালট তখন কেবল কাগজ থাকবে না; হয়ে উঠবে মানুষের আত্মসম্মানের নাম । দৈনিক কালের চিঠি কোনো দলের পক্ষে নয় , সবসময় মানুষ আর মানবতার পক্ষে কাজ করে । আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচনের দিনটি হোক সংযমের, দায়িত্বের ও সাহসের। যেদিন জনতা ব্যালটে কথা বলবে আর রাষ্ট্র সেই কথার মর্যাদা দেবে। কারণ গণতন্ত্রের শেষ কথা একটিই যেখানে জনতা কথা বলে ব্যালটে।

জনপ্রিয়

শরীয়তপুরে ৭ লাখ টাকাসহ জামায়াতের কর্মী আটক

জনতা কথা বলে ব্যালটে – বিমল সরকার

প্রকাশের সময়: ০৬:২৩:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বহুদিন পর এমন একটি দিন আসছে, যেদিন ক্ষমতার ভাষা পাল্টে যাবে। সেদিন মিছিল কথা বলবে না, স্লোগানও নয় বরং কথা বলবে ব্যালট। দীর্ঘ সময় ধরে যে কণ্ঠগুলো উপেক্ষিত ছিল, যে মানুষগুলো স্বাভাবিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, তাদের নীরব উপস্থিতিই হয়ে উঠবে সবচেয়ে শক্তিশালী বক্তব্য। এই কারণেই নির্বাচনের দিনটি শুধু একটি তারিখ নয় ,এটি জনতার ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার দিন। ভোট গণতন্ত্রের সৌন্দর্য কিন্তু তার চেয়েও বড় সত্য হলো যে ভোট মানুষের একটি মর্যাদার নাম । মানুষ যখন নির্ভয়ে ব্যালটের সামনে দাঁড়ায়, তখন রাষ্ট্র তার নাগরিককে স্বীকৃতি দেয়। এই স্বীকৃতি বহু বছর ধরে ক্ষয়ে গেছে। প্রশ্ন উঠেছিল যে ভোট দিলে কি কিছু বদলায়? সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সুযোগই আজ সামনে এসেছে। বাংলাদেশ আজ ভিতরে ভিতরে অজস্র সমস্যায় জর্জরিত। অর্থনীতির চাপ, কর্মসংস্থানের সংকট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অনিশ্চয়তা, সামাজিক সম্পর্কের ভাঙন সহ অজস্র সমস্যা মিলিয়ে মানুষ আজ ক্লান্ত। কিন্তু ইতিহাস বলে, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন একটি দেশের ছন্দ ফিরিয়ে দিতে পারে। কারণ মানুষ যখন কথা বলতে পারে, তখন রাষ্ট্র শুনতে বাধ্য হয়। এই মুহূর্তে রাষ্ট্রযন্ত্রের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব যেন নির্বাচনটি ভয়ের নয় হয়ে ভরসার উৎস হয়। আইন প্রয়োগ সমান হোক, প্রশাসন থাকুক নিরপেক্ষ, আর ভোটকেন্দ্র হয়ে উঠুক নাগরিকের নিরাপদ পরিসর। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও প্রত্যাশা করি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হোক কিন্তু সহিংসতা যেন না হয় নয়; ভিন্নমত থাকুক কিন্তু বিদ্বেষ ছড়ানো বন্ধ হোক। এই নির্বাচনে জয় কিংবা পরাজয়ের হিসাবের চেয়েও বড় হিসাবটা হচ্ছে আস্থার। মানুষ যদি দেখে তার ভোটের মূল্য আছে, তবে কেবল রাজনৈতিক স্থিতি নয়, অর্থনীতি থেকে সমাজজের হরেক স্তকেও স্বস্তির হাওয়া বইবে। ব্যালট তখন কেবল কাগজ থাকবে না; হয়ে উঠবে মানুষের আত্মসম্মানের নাম । দৈনিক কালের চিঠি কোনো দলের পক্ষে নয় , সবসময় মানুষ আর মানবতার পক্ষে কাজ করে । আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচনের দিনটি হোক সংযমের, দায়িত্বের ও সাহসের। যেদিন জনতা ব্যালটে কথা বলবে আর রাষ্ট্র সেই কথার মর্যাদা দেবে। কারণ গণতন্ত্রের শেষ কথা একটিই যেখানে জনতা কথা বলে ব্যালটে।