সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ: নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে কমানো হলো সাংবাদিক নজরদারি !  

তাসলিমুল হাসান সিয়াম: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের চারশ গজের মধ্যে মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। যদিও নির্বাচন কমিশন তার ব্যাখ্যায় এই সিদ্ধান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা, গুজব ছড়ানো রোধ এবং ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে—ডিজিটাল যুগে মোবাইল ছাড়া চলা কতটা সম্ভব এবং এই নিষেধাজ্ঞা গণমাধ্যমের স্বাধীন কাজের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে।

 

মোবাইল এখন মানুষের নিত্যসঙ্গী। শুধু যোগাযোগই নয়, তথ্য সংগ্রহ, দিকনির্দেশনা, জরুরি সহায়তা—সবকিছুই হাতের মুঠোয়। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে মাঠের সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ, ভোটগ্রহণের অগ্রগতি, অনিয়ম, সহিংসতা—সবকিছুই দ্রুততার সঙ্গে প্রচারমাধ্যমে পৌঁছে দেন। কিন্তু মোবাইল নিষেধাজ্ঞা তাদের এই কাজকে কঠিন করে তুলবে। লাইভ রিপোর্টিং, ছবি বা ভিডিও পাঠানো, তথ্য যাচাই—এসব কিছুই বাধাগ্রস্ত হবে।

এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা সাংবাদিকদের নজরদারি ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে যে ধরনের স্বাধীনতা প্রয়োজন, তা এই সীমাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

নির্বাচনের দিন নিরাপত্তা নিশ্চিতে কিছু নিয়ম-নীতি অবশ্যই প্রয়োজন। তবে সেগুলো বাস্তবসম্মত হওয়া জরুরি। একদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে ভোটারদের সুবিধা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বজায় রাখতে হবে। বর্তমান সিদ্ধান্ত সেই ভারসাম্য কতটা রক্ষা করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

তবে এর বিকল্প হিসেবে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে সীমিত নিষেধাজ্ঞা, সাংবাদিকদের জন্য আলাদা অনুমতি, ভুয়া তথ্য রোধে প্রযুক্তিভিত্তিক মনিটরিং—এসব বিবেচনা করা যেতে পারে।

জনপ্রিয়

গাইবান্ধায় নির্বাচন সামনে রেখে যেসব  যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ থাকবে

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ: নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে কমানো হলো সাংবাদিক নজরদারি !  

প্রকাশের সময়: ০৬:০৫:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তাসলিমুল হাসান সিয়াম: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের চারশ গজের মধ্যে মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। যদিও নির্বাচন কমিশন তার ব্যাখ্যায় এই সিদ্ধান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা, গুজব ছড়ানো রোধ এবং ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে—ডিজিটাল যুগে মোবাইল ছাড়া চলা কতটা সম্ভব এবং এই নিষেধাজ্ঞা গণমাধ্যমের স্বাধীন কাজের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে।

 

মোবাইল এখন মানুষের নিত্যসঙ্গী। শুধু যোগাযোগই নয়, তথ্য সংগ্রহ, দিকনির্দেশনা, জরুরি সহায়তা—সবকিছুই হাতের মুঠোয়। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে মাঠের সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ, ভোটগ্রহণের অগ্রগতি, অনিয়ম, সহিংসতা—সবকিছুই দ্রুততার সঙ্গে প্রচারমাধ্যমে পৌঁছে দেন। কিন্তু মোবাইল নিষেধাজ্ঞা তাদের এই কাজকে কঠিন করে তুলবে। লাইভ রিপোর্টিং, ছবি বা ভিডিও পাঠানো, তথ্য যাচাই—এসব কিছুই বাধাগ্রস্ত হবে।

এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা সাংবাদিকদের নজরদারি ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে যে ধরনের স্বাধীনতা প্রয়োজন, তা এই সীমাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

নির্বাচনের দিন নিরাপত্তা নিশ্চিতে কিছু নিয়ম-নীতি অবশ্যই প্রয়োজন। তবে সেগুলো বাস্তবসম্মত হওয়া জরুরি। একদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে ভোটারদের সুবিধা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বজায় রাখতে হবে। বর্তমান সিদ্ধান্ত সেই ভারসাম্য কতটা রক্ষা করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

তবে এর বিকল্প হিসেবে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে সীমিত নিষেধাজ্ঞা, সাংবাদিকদের জন্য আলাদা অনুমতি, ভুয়া তথ্য রোধে প্রযুক্তিভিত্তিক মনিটরিং—এসব বিবেচনা করা যেতে পারে।