রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কবি ও সম্পাদক বিমলের সৃজনময় জীবনের ৪৭ বছর 

তাসলিমুল হাসান সিয়াম: বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতার অঙ্গনে এক উজ্জ্বল নাম বিমল সরকার। লেখক, কবি, সাংবাদিক এবং একজন নিবেদিতপ্রাণ সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন দেশ-বিদেশের সাহিত্যপিপাসু মানুষের জন্য। আজ, ৩১ জানুয়ারি, তার ৪৭তম জন্মদিন। এই বিশেষ দিনে তাকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন মানুষের জন্মবার্ষিকী উদযাপন নয়, বরং একটি সাহিত্য-প্রতিভার বিকাশ, সংগ্রাম ও সৃজনশীলতার দীর্ঘ যাত্রাপথকে সম্মান জানানো।

 

জন্ম ও শৈশব: 

১৯৭৯ সালের ৩১ জানুয়ারি গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নের খামার পীরগাছা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বিমল সরকার। গ্রামের নিসর্গ, প্রকৃতি, নদী, মাটি ও মানুষের হাসি–কান্না তার শৈশবকে বর্ণময় করে তোলে এবং সেই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে তার কবিতায় ঢেলে দেয় গভীর অনুভবের রং। অল্প বয়সেই লেখালেখির প্রতি তার আকর্ষণ দেখা যায়। কিশোর মনেই শুরু হয় কবিতার সঙ্গে তার বন্ধুত্ব।

 

সাহিত্যজীবনের সূচনা:

কিশোর বয়সে লেখা প্রথম কয়েকটি কবিতাই তাকে স্থানীয় পাঠকমহলে পরিচিত করে তোলে। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন এক পরিণত চিন্তাশীল লেখক—যার কবিতায় থাকে সমাজ, প্রেম, মানবতা, দেশপ্রেম ও প্রবাস জীবনের বেদনা। তার ভাষায় আছে স্নিগ্ধতা, ভাবনার গভীরতা এবং মানুষের প্রতি অগাধ মমতা।

 

প্রবাস জীবন, তবু দেশের প্রতি টান: 

জীবিকার প্রয়োজনে তিনি বর্তমানে সুদূর আমেরিকায় বসবাস করছেন, তবে দূরত্ব কখনোই তাকে তার দেশ, সংস্কৃতি ও সাহিত্য থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। বরং প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা, বিচ্ছিন্নতার বেদনা, দেশকে মিস করার দীর্ঘশ্বাস তার রচনায় ফুটে ওঠে নতুন মাত্রায়।

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই তিনি নিয়মিত লেখালেখি এবং সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাংলা ভাষার প্রতি এই টানই তাকে বাংলা কবিতার জগতে এক অনন্য আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।

 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে সফলতা: 

বিমল সরকার শুধু কবি নন, তিনি একজন সফল সম্পাদকও।তার সম্পাদনায় ‘কালের চিঠি নিউজ পোর্টাল’ আজ দেশ-বিদেশের একটি পরিচিত সাহিত্য ও সংবাদমাধ্যম। তার সততা, নান্দনিকতা এবং মননশীলতা কালের চিঠিকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

এছাড়া ‘কালের চিঠি প্রকাশন’ বহু নবীন-প্রবীণ লেখকের রচনা প্রকাশ করে আসছে, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক পরিসরে বাংলা সাহিত্যচর্চা আরও প্রসার লাভ করছে। প্রবাসে থেকেও তিনি যে বাংলা সাহিত্যকে ধারণ করে রেখেছেন—তা নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়।

 

সাহিত্য-ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিমল সরকার : 

বিমল সরকারের লেখায় রয়েছে বাস্তবতা, অনুভূতির তরঙ্গ, আর মানবিকতার উজ্জ্বল স্বাক্ষর। তিনি যেমন গদ্য লেখেন সাবলীলভাবে, তেমনি কবিতায় রাখেন গভীর আবেগ।তার লেখা পাঠকের হৃদয়ে যে একধরনের প্রতিধ্বনি তোলে—তাই তাকে পাঠক-প্রিয় করে তুলেছে।তিনি একাধারে ভাবুক, নির্মোহ পর্যবেক্ষক এবং গভীরভাবে মানবিক এক লেখক।

 

 

জন্মদিনে শুভকামনা: 

সাহিত্যপ্রেমী এই মানুষটির আজ বিশেষ দিন। জীবনের ৪৭ বছরের পথচলায় তিনি যোগ করেছেন সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতার অনন্য অধ্যায়।

এই অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষটির আগামী দিনগুলো হোক আরও সৃজন, আনন্দ, সুস্বাস্থ্য ও সফলতায় ভরপুর।

বিমল সরকারকে জন্মদিনের হৃদয়স্পর্শী শুভেচ্ছা।

বাংলা সাহিত্যকে আরও সমৃদ্ধ করার শক্তি তিনি যেন দীর্ঘদিন ধরে ধারণ করতে পারেন—এই কামনাই রইল।

গাইবান্ধার পাঁচ আসনে ক্ষমতার দৌড়ে এগিয়ে বিএনপি ও জামায়াত, নির্লিপ্ত জাতীয় পার্টি 

কবি ও সম্পাদক বিমলের সৃজনময় জীবনের ৪৭ বছর 

প্রকাশের সময়: ০৩:২৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

তাসলিমুল হাসান সিয়াম: বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতার অঙ্গনে এক উজ্জ্বল নাম বিমল সরকার। লেখক, কবি, সাংবাদিক এবং একজন নিবেদিতপ্রাণ সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন দেশ-বিদেশের সাহিত্যপিপাসু মানুষের জন্য। আজ, ৩১ জানুয়ারি, তার ৪৭তম জন্মদিন। এই বিশেষ দিনে তাকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন মানুষের জন্মবার্ষিকী উদযাপন নয়, বরং একটি সাহিত্য-প্রতিভার বিকাশ, সংগ্রাম ও সৃজনশীলতার দীর্ঘ যাত্রাপথকে সম্মান জানানো।

 

জন্ম ও শৈশব: 

১৯৭৯ সালের ৩১ জানুয়ারি গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নের খামার পীরগাছা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বিমল সরকার। গ্রামের নিসর্গ, প্রকৃতি, নদী, মাটি ও মানুষের হাসি–কান্না তার শৈশবকে বর্ণময় করে তোলে এবং সেই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে তার কবিতায় ঢেলে দেয় গভীর অনুভবের রং। অল্প বয়সেই লেখালেখির প্রতি তার আকর্ষণ দেখা যায়। কিশোর মনেই শুরু হয় কবিতার সঙ্গে তার বন্ধুত্ব।

 

সাহিত্যজীবনের সূচনা:

কিশোর বয়সে লেখা প্রথম কয়েকটি কবিতাই তাকে স্থানীয় পাঠকমহলে পরিচিত করে তোলে। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন এক পরিণত চিন্তাশীল লেখক—যার কবিতায় থাকে সমাজ, প্রেম, মানবতা, দেশপ্রেম ও প্রবাস জীবনের বেদনা। তার ভাষায় আছে স্নিগ্ধতা, ভাবনার গভীরতা এবং মানুষের প্রতি অগাধ মমতা।

 

প্রবাস জীবন, তবু দেশের প্রতি টান: 

জীবিকার প্রয়োজনে তিনি বর্তমানে সুদূর আমেরিকায় বসবাস করছেন, তবে দূরত্ব কখনোই তাকে তার দেশ, সংস্কৃতি ও সাহিত্য থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। বরং প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা, বিচ্ছিন্নতার বেদনা, দেশকে মিস করার দীর্ঘশ্বাস তার রচনায় ফুটে ওঠে নতুন মাত্রায়।

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই তিনি নিয়মিত লেখালেখি এবং সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাংলা ভাষার প্রতি এই টানই তাকে বাংলা কবিতার জগতে এক অনন্য আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।

 

 

সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে সফলতা: 

বিমল সরকার শুধু কবি নন, তিনি একজন সফল সম্পাদকও।তার সম্পাদনায় ‘কালের চিঠি নিউজ পোর্টাল’ আজ দেশ-বিদেশের একটি পরিচিত সাহিত্য ও সংবাদমাধ্যম। তার সততা, নান্দনিকতা এবং মননশীলতা কালের চিঠিকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

এছাড়া ‘কালের চিঠি প্রকাশন’ বহু নবীন-প্রবীণ লেখকের রচনা প্রকাশ করে আসছে, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক পরিসরে বাংলা সাহিত্যচর্চা আরও প্রসার লাভ করছে। প্রবাসে থেকেও তিনি যে বাংলা সাহিত্যকে ধারণ করে রেখেছেন—তা নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়।

 

সাহিত্য-ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিমল সরকার : 

বিমল সরকারের লেখায় রয়েছে বাস্তবতা, অনুভূতির তরঙ্গ, আর মানবিকতার উজ্জ্বল স্বাক্ষর। তিনি যেমন গদ্য লেখেন সাবলীলভাবে, তেমনি কবিতায় রাখেন গভীর আবেগ।তার লেখা পাঠকের হৃদয়ে যে একধরনের প্রতিধ্বনি তোলে—তাই তাকে পাঠক-প্রিয় করে তুলেছে।তিনি একাধারে ভাবুক, নির্মোহ পর্যবেক্ষক এবং গভীরভাবে মানবিক এক লেখক।

 

 

জন্মদিনে শুভকামনা: 

সাহিত্যপ্রেমী এই মানুষটির আজ বিশেষ দিন। জীবনের ৪৭ বছরের পথচলায় তিনি যোগ করেছেন সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতার অনন্য অধ্যায়।

এই অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষটির আগামী দিনগুলো হোক আরও সৃজন, আনন্দ, সুস্বাস্থ্য ও সফলতায় ভরপুর।

বিমল সরকারকে জন্মদিনের হৃদয়স্পর্শী শুভেচ্ছা।

বাংলা সাহিত্যকে আরও সমৃদ্ধ করার শক্তি তিনি যেন দীর্ঘদিন ধরে ধারণ করতে পারেন—এই কামনাই রইল।