
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস জালিয়াতিতে যুক্ত থাকায় এবার পুলিশের নথিতে নাম উঠলো গাইবান্ধার সেই ল্যাব সহকারী মিজানুর রহমান সবুজের। সবুজ সংঘবদ্ধ ডিভাইস সিন্ডিকেটের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। অভিযোগ অনুযায়ী—পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আগাম চুক্তি, ব্লুটুথ ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরবরাহ, বাইরে বসে প্রশ্ন সমাধানের ব্যবস্থা, পরীক্ষাকেন্দ্রে রিয়েল-টাইম সাপোর্ট, প্রতি চাকরির বিনিময়ে ১০–১৫ লাখ টাকা আদায় করেন। গত ১০ জানুয়ারি গাইবান্ধা সদর থানায় ডিভাইস জালিয়াতিতে হওয়া সাইবার সুরক্ষা মামলায় নাম উঠে সবুজের।
সবুজ গাইবান্ধা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ল্যাব সহকারী এবং সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ভাঙা ডিপ বাজার এলাকার মৃত আমিনুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয়দের কাছে যিনি এখন পরিচিত “ডিভাইস কিং” নামে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সারা দেশের ৬১ জেলার সঙ্গে গাইবান্ধাতেও অনুষ্ঠিত হয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত (এমসিকিউ) পরীক্ষা। এদিন ২৪ টি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ ৫২ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়।
ঘটনার পরদিন আটক ৫২ জনসহ মোট ৫৫ জনের বিরুদ্ধে তিন থানায় ৫টি নিয়মিত মামলা হয়। এরমধ্যে সদর থানায় ৩৭ জন পরীক্ষার্থীসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন সদর উপজেলার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান। ওই মামলার পলাতক তিন আসামির মধ্যে ৩৯ নম্বর আসামি হিসেবে রয়েছে মিজানুর রহমান সবুজ। এছাড়া একই মামলায় চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে সাঘাটার উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকসহ আরো দুজনের নাম যুক্ত হয়। তাদের একজন পলাশবাড়ী উপজেলার ঢোলভাঙা ফুটানি বাজারের লুৎফর রহমান। অপরজন সাঘাটার উল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হরি চন্দ্র।
পরে সদর থানার মামলাটি তদন্ত শুরু করে জেলা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি)। তদন্তে নেমে মূল হোতা শনাক্তসহ তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে এ মামলার ২৬ আসামিকে দুইদিনের রিমান্ডে নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এজহার নামীয় ৫৫ আসামি ছাড়াও সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কয়েকটি নাম পেয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া পলাতক তিনজনের বিরুদ্ধেই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে আসছে। একই সঙ্গে রিমান্ডে নেওয়া আসামিদের মধ্যে প্রায় একডজন পরীক্ষার্থী মিজানুর রহমান সবুজ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
এবারের প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে অধিদফতরের কড়াকড়ি, গাইবান্ধার ৪৩ কেন্দ্রে ১৪৪ ধারা জারি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতা দেখে- অঘটন যে ঘটবে তা আগেই নিশ্চিত বুঝতে পেরেছিল বুদ্ধিমান সবুজ। যে কারণে পরীক্ষা ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হলেও তার তিনদিন আগে ৬ ডিসেম্বর পারিবারিক কারণ দেখিয়ে কর্মস্থলে ছুটি নেন তিনি। এ যেন মেঘ দেখেই ঝড় আসবে বুঝতে পারার মতই বিষয়। অবশ্য গত বৃহস্পতিবার চারদিনের ছুটি শেষও হয়েছে তার।
সুত্র: দৈনিক শিক্ষা
নিজস্ব প্রতিবেদক 
















