রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টাকার অভাবে অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বাসের মেঝেতে শুইয়ে রংপুর মেডিকেলে দগ্ধ আছমা

 

তাসলিমুল হাসান সিয়াম: জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা এক দগ্ধ গৃহবধূকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু নির্মম বাস্তবতা—টাকার অভাবে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা সম্ভব হয়নি। তাই অসহায় পরিবারটি বাধ্য হয়ে সাধারণ বাসেই যন্ত্রণাকাতর সেই দগ্ধ রোগীকে নিয়ে রওনা দেয় ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা যায় বাসের সিটে শুয়ে আছেন আগুনে ঝলসে যাওয়া গৃহবধূ আছমা। প্রতিটি ধাক্কায় কেঁপে উঠছে তার দগ্ধ শরীর। পাশে বসে আছেন স্বামী, পেশায় কাঠমিস্ত্রি আলম আকন্দ—এক হাতে স্ত্রীর হাত ধরে নিরবে তাকিয়ে আছেন তার মুখের দিকে। কোনো কথা নেই, শুধু আল্লাহর কাছে প্রাণভিক্ষা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানা যায় গত ১০ জানুয়ারি সকালে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের তরফমহদী উত্তরপাড়া গ্রামে রান্নার সময় অসতর্কতাবশত কাপড়ে আগুন ধরে যায় আছমার। মুহূর্তেই তার শরীরের বড় একটি অংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। দারিদ্র্যের কারণে শুরুতে উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হলেও অর্থাভাবে অ্যাম্বুলেন্স জোটেনি।

দগ্ধ গৃহবধূ আছমার ঘরে রয়েছে দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বাড়িতে থাকা শিশুরা মায়ের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েছে। পাশের সিটে ছোট্ট মেয়েটির চোখের জল যেন সমাজের বিবেককে প্রশ্ন করছে—“একটু সাহায্য কি আমাদের আম্মুকে বাঁচাতে পারে না?”

আলম আকন্দ বলেন,ভাই “দিন এনে দিন খাই। গত বেশ কয়েকমাস যাবৎ কাজ করতে পারি না এর মাঝে বউটা আগুনে পুড়ে গেলো ।অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া জোগাড় করতে পারিনি। তাই বাসেই নিতে হয়েছে। আমরা গরীব মানুষ ভাই তাই কষ্ট করা ছাড়া আর উপায় নেই।”

পরিবারটি এখন প্রশাসন ও সমাজের হৃদয়বান মানুষের কাছে আকুল মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। হয়তো আজই সহায়তার হাত না বাড়ালে একটি মায়ের জীবন, তিনটি শিশুর ভবিষ্যৎ হারিয়ে যেতে পারে।

জনপ্রিয়

গাইবান্ধায় পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এলো “ডিভাইস কিং”সবুজের চাঞ্চল্যকর তথ্য

টাকার অভাবে অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বাসের মেঝেতে শুইয়ে রংপুর মেডিকেলে দগ্ধ আছমা

প্রকাশের সময়: ০২:১৮:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

 

তাসলিমুল হাসান সিয়াম: জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা এক দগ্ধ গৃহবধূকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু নির্মম বাস্তবতা—টাকার অভাবে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা সম্ভব হয়নি। তাই অসহায় পরিবারটি বাধ্য হয়ে সাধারণ বাসেই যন্ত্রণাকাতর সেই দগ্ধ রোগীকে নিয়ে রওনা দেয় ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা যায় বাসের সিটে শুয়ে আছেন আগুনে ঝলসে যাওয়া গৃহবধূ আছমা। প্রতিটি ধাক্কায় কেঁপে উঠছে তার দগ্ধ শরীর। পাশে বসে আছেন স্বামী, পেশায় কাঠমিস্ত্রি আলম আকন্দ—এক হাতে স্ত্রীর হাত ধরে নিরবে তাকিয়ে আছেন তার মুখের দিকে। কোনো কথা নেই, শুধু আল্লাহর কাছে প্রাণভিক্ষা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানা যায় গত ১০ জানুয়ারি সকালে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের তরফমহদী উত্তরপাড়া গ্রামে রান্নার সময় অসতর্কতাবশত কাপড়ে আগুন ধরে যায় আছমার। মুহূর্তেই তার শরীরের বড় একটি অংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। দারিদ্র্যের কারণে শুরুতে উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হলেও অর্থাভাবে অ্যাম্বুলেন্স জোটেনি।

দগ্ধ গৃহবধূ আছমার ঘরে রয়েছে দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বাড়িতে থাকা শিশুরা মায়ের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েছে। পাশের সিটে ছোট্ট মেয়েটির চোখের জল যেন সমাজের বিবেককে প্রশ্ন করছে—“একটু সাহায্য কি আমাদের আম্মুকে বাঁচাতে পারে না?”

আলম আকন্দ বলেন,ভাই “দিন এনে দিন খাই। গত বেশ কয়েকমাস যাবৎ কাজ করতে পারি না এর মাঝে বউটা আগুনে পুড়ে গেলো ।অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া জোগাড় করতে পারিনি। তাই বাসেই নিতে হয়েছে। আমরা গরীব মানুষ ভাই তাই কষ্ট করা ছাড়া আর উপায় নেই।”

পরিবারটি এখন প্রশাসন ও সমাজের হৃদয়বান মানুষের কাছে আকুল মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। হয়তো আজই সহায়তার হাত না বাড়ালে একটি মায়ের জীবন, তিনটি শিশুর ভবিষ্যৎ হারিয়ে যেতে পারে।