সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধার ঘাঘট পাড়ে সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ

 

বিমল সরকার: ঘাঘট নদীর পাড়ে একটি মুক্তমঞ্চের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নিছক কোনো স্থাপত্যের সূচনা নয়; এটি ইতিহাসের নতুন অধ্যায়, গাইবান্ধার সাংস্কৃতিক যাত্রাপথে এক প্রতীকী বাঁক। জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদের হাতে যখন এই ‘মানববন্ধন মুক্তমঞ্চের’ সূচনা হলো, তখন মনে হলো—এ যেন কেবল একটি নির্মাণ নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়া হলো এক অমূল্য সম্ভাবনা।

 

এই মুক্তমঞ্চ শুধু নাটক, গান বা আবৃত্তির জায়গা হবে না; এটি হবে মানুষের মনের মুক্তি, চিন্তার উন্মোচন, আর সৃজনশীলতার উত্থানের কেন্দ্র। এখানে স্থানীয় শিশুরা যেমন কবিতা আবৃত্তি করবে, তেমনি একদিন হয়তো বিশ্ববরেণ্য দার্শনিক, কবি ও শিল্পীরাও বসবেন, আলোচনায় মেতে উঠবেন, মানবতার সেতুবন্ধন গড়ে তুলবেন।

 

গাইবান্ধার ঘাঘট নদী উত্তরবঙ্গের সংস্কৃতির অক্ষশিলা। তার কোল ঘেঁষে জন্ম নিলো এক সাংস্কৃতিক মঞ্চ, যা কালক্রমে হয়ে উঠতে পারে বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক মিলনভূমি। আমরা কল্পনা করতে পারি—রবীন্দ্রনাথের গান, নজরুলের কবিতা, আফ্রিকার ঢোলের শব্দ কিংবা ইউরোপীয় সংগীত একদিন মিলেমিশে ধ্বনিত হবে এই মুক্তমঞ্চে।

 

আজ যখন পৃথিবী জুড়ে বিভাজন, বৈরিতা আর দূষণ মানবতাকে নিঃশেষ করতে চাইছে, তখন ঘাঘট পাড়ে নির্মিত এই মঞ্চ আমাদের শেখায়—সংস্কৃতি সীমান্ত মানে না। সংস্কৃতি হলো নদীর মতো—যত বাঁধ দেওয়া হোক, শেষ পর্যন্ত সে নিজের স্রোতপথ খুঁজে নেয়। তাই আমাদের কর্তব্য একে কেবল ইট-পাথরের কাঠামো হিসেবে না দেখে মানবতার মিলনমঞ্চে রূপান্তর করা।

নিজ বাসা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

গাইবান্ধার ঘাঘট পাড়ে সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ

প্রকাশের সময়: ০৩:৪০:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

বিমল সরকার: ঘাঘট নদীর পাড়ে একটি মুক্তমঞ্চের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নিছক কোনো স্থাপত্যের সূচনা নয়; এটি ইতিহাসের নতুন অধ্যায়, গাইবান্ধার সাংস্কৃতিক যাত্রাপথে এক প্রতীকী বাঁক। জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদের হাতে যখন এই ‘মানববন্ধন মুক্তমঞ্চের’ সূচনা হলো, তখন মনে হলো—এ যেন কেবল একটি নির্মাণ নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়া হলো এক অমূল্য সম্ভাবনা।

 

এই মুক্তমঞ্চ শুধু নাটক, গান বা আবৃত্তির জায়গা হবে না; এটি হবে মানুষের মনের মুক্তি, চিন্তার উন্মোচন, আর সৃজনশীলতার উত্থানের কেন্দ্র। এখানে স্থানীয় শিশুরা যেমন কবিতা আবৃত্তি করবে, তেমনি একদিন হয়তো বিশ্ববরেণ্য দার্শনিক, কবি ও শিল্পীরাও বসবেন, আলোচনায় মেতে উঠবেন, মানবতার সেতুবন্ধন গড়ে তুলবেন।

 

গাইবান্ধার ঘাঘট নদী উত্তরবঙ্গের সংস্কৃতির অক্ষশিলা। তার কোল ঘেঁষে জন্ম নিলো এক সাংস্কৃতিক মঞ্চ, যা কালক্রমে হয়ে উঠতে পারে বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক মিলনভূমি। আমরা কল্পনা করতে পারি—রবীন্দ্রনাথের গান, নজরুলের কবিতা, আফ্রিকার ঢোলের শব্দ কিংবা ইউরোপীয় সংগীত একদিন মিলেমিশে ধ্বনিত হবে এই মুক্তমঞ্চে।

 

আজ যখন পৃথিবী জুড়ে বিভাজন, বৈরিতা আর দূষণ মানবতাকে নিঃশেষ করতে চাইছে, তখন ঘাঘট পাড়ে নির্মিত এই মঞ্চ আমাদের শেখায়—সংস্কৃতি সীমান্ত মানে না। সংস্কৃতি হলো নদীর মতো—যত বাঁধ দেওয়া হোক, শেষ পর্যন্ত সে নিজের স্রোতপথ খুঁজে নেয়। তাই আমাদের কর্তব্য একে কেবল ইট-পাথরের কাঠামো হিসেবে না দেখে মানবতার মিলনমঞ্চে রূপান্তর করা।