
গোপালগঞ্জে রাত ৮টা থেকে কারফিউ
গোপালগঞ্জে এনসিপির সভা ঘিরে কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষের পর কারফিউ জারি করেছে সরকার।
রাত ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশ প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করছে না, আইজিপির দাবি
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম বলেছেন, ধৈর্য ধরে তারা গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছেন।
মি. আলম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ”উচ্ছৃঙ্খলতা যা হয়েছে, সেটা যতটুকু সম্ভব আমরা ধৈর্যের সাথে প্রশমন করার চেষ্টা করছি, আমরা এখন রিইনফোর্সড (আরো পুলিশ সদস্য পাঠানো) করছি, পুরো জিনিসটা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য। আমরা লিথ্যাল (প্রাণঘাতী অস্ত্র) কোনো কিছু ব্যবহার করছি না, তাই আমাদের একটু সময় লাগছে।”
এনসিপির সমাবেশ ঘিরে দুপুর থেকে গোপালগঞ্জে উত্তেজনা চলছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে যদিও সেনা-পুলিশ পাহারায় এনসিপির নেতাকর্মীদের গোপালগঞ্জ শহর থেকে বের করে আনা হয়েছে।
গোপালগঞ্জের ঘটনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিবৃতি
এনসিপি’র কর্মসূচি ঘিরে গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে একথা বলা হয়েছে।
গোপালগঞ্জে সহিংসতার প্রেক্ষাপটে বুধবার বিকেলে অন্তর্বতী সরকারের তরফ থেকে এই বিবৃতি দেয়া হয়।
বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, গণ অভ্যুত্থান আন্দোলনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে তরুণ নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশে বাধা দিয়ে তাদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। নিষ্ঠুর আক্রমণের মাধ্যমে ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্ঠি, পুলিশ ও গণমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
”নিষিদ্ধ ঘোষিত ছঅত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগ অ্যাকটিভিস্টদের এই জঘন্য কর্মকাণ্ড বিনা বিচারে ছেড়ে দেওয়া হবে না। দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করা হবে এবং বিচার নিশ্চিত করা হবে। বাংলাদেশের কোনো নাগরিকের ওপর এরকম সহিংসতা করার জায়গা নেই,” বলা হয়েছে বিবৃতিতে।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ায় সেনাবাহিনী এবং পুলিশের প্রশংসা করা হয়েছে বিবৃতিতে। এছাড়া হুমকির পরও সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ায় কর্মসূচির আয়োজকদের প্রশংসা করা হয়।
সেনা-পুলিশ পাহারায় নাহিদ, আখতারসহ এনসিপি নেতারা গোপালগঞ্জ ছেড়েছেন
জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির নেতাকর্মীরা গোপালগঞ্জ ছেড়ে গেছেন। সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় তারা গোপালগঞ্জ ছাড়েন।
এই তথ্য নিশ্চিত করে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহিন বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, তারা বিকাল ৫টা পরে গোপালগঞ্জ ছেড়ে বের হয়ে যান।
কড়াপাহাড়ায় তাদের ১৫ থেকে ১৬টি গাড়ির বহর গোপালগঞ্জ ছাড়েন। এই বহরে এনসিপি নেতাদের মধ্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতারা রয়েছেন।
গোপালগঞ্জে হামলার ঘটনায় পুলিশের সমালোচনা সারজিসের
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির কর্মসূচিতে হামলার ঘটনার পর একটি ভবনে ‘অবরুদ্ধ’ থাকা অবস্থায় দলটির নেতা সারজিস আলম সেখানে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন।
সেখানে অবস্থানের সময় এক ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেছেন, “গোপালগঞ্জে খুনি হাসিনার দালালেরা আমাদের উপরে আক্রমণ করেছে। পুলিশ দাঁড়িয়ে নাটক দেখছে, পিছু হটছে”।
আজ বুধবার দুপুরে গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিতে হামলা চালানো হয়। পরে দলের শীর্ষ নেতারা একটি ভবনে নিরাপদ অবস্থানে চলে যান বলে জানান দলের অন্য নেতারা।
এদিকে সারজিস তার ফেসবুক পোস্টে মানুষকে গোপালগঞ্জে আসার আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন “সারা বাংলাদেশের মানুষ গোপালগঞ্জের ছুটে আসুন”।
নিজস্ব প্রতিবেদক 













