গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি বন্দরে অবৈধভাবে মজুত করা ইউরিয়া সার উদ্ধার অভিযানের সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সময় টেলিভিশনের গাইবান্ধা প্রতিনিধি বিপ্লব ইসলামসহ পাঁচ সাংবাদিক লাঞ্ছিত ও অবরুদ্ধ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই সময় অভিযানে থাকা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও বাধার মুখে পড়েন বলে জানা গেছে। অভিযানে ১৫০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়েছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কামারজানি বন্দরের কীটনাশক ব্যবসায়ী সানোয়ার মুন্সীর গুদামে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল আলমের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্বে ছিলেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুস শাহাদাত ফাহিম। অভিযানে পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। গুদামে ইউরিয়া সারের বড়ো মজুত পাওয়া গেলে সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকদের ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, সানোয়ার মুন্সীর ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকদের ঘিরে ধরেন। সময় টেলিভিশনের প্রতিনিধি বিপ্লব ইসলাম, ক্যামেরাপারসন সোহেল রানাসহ স্থানীয় আরও পাঁচ সাংবাদিককে লাঞ্ছিত ও অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি বিপ্লব ইসলাম ও সোহেল রানাকে ঘিরে ধরেছেন। তাঁদের ধাক্কাধাক্কি করতে এবং মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেও দেখা যায়। খবর পেয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অবরুদ্ধদের উদ্ধার করেন। অনুমোদনহীন ব্যবসায়ী হয়েও বাইরে থেকে অবৈধভাবে সার এনে মজুত ও বিক্রির অভিযোগে সানোয়ার মুন্সীকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জব্দ করা ১৫০ বস্তা ইউরিয়া সার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে এবং গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে। নাজমুস শাহাদাত ফাহিম বলেন, ‘একটা সমস্যা হয়েছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’ তিনি জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ কাজে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল আলম বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে সাংবাদিকদের হেনস্তার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ওই সময় তাঁরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে তাঁর ভাষ্য, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর কোনো হামলা বা মব করা হয়নি। অন্যদিকে কোনো কোনো সূত্রের তথ্যমতে, কৃষি কর্মকর্তারাও বাধার মুখে পড়েছিলেন। সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ সম্পর্কে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা-ও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।
প্রকাশক ও সম্পাদক: বিমল কুমার সরকার নির্বাহী সম্পাদক: তাসলিমুল হাসান সিয়াম বার্তা সম্পাদক: শামসুর রহমান হৃদয়। সম্পাদকীয় কার্যালয়: তুলশীঘাট (সাদুল্লাপুর রোড), গাইবান্ধা সদর, গাইবান্ধা-৫৭০০
© All Rights Reserved © Kaler Chithi