কোচখালী চরের কৃষক মজিবর রহমান বলেন, ‘কয়েকদিন আগেও সহজেই স্থানীয় ঘাট থেকে তেল পাওয়া যেত। এখন সেই ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। প্রতিদিন কাজ ফেলে মাত্র দুই লিটার তেলের জন্য গাইবান্ধা শহরে যেতে হচ্ছে, তাতেও নিশ্চয়তা নেই তেল পাওয়া যাবে কিনা। ফলে জমিতে সেচ দিতে দেরি হচ্ছে, অনেক ক্ষেতেই ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।’
ভুট্টা মাড়াইয়ের কাজে যুক্ত কৃষকরাও একই সমস্যায় পড়েছেন। কৃষক আজিম উদ্দিন বলেন, ‘চলতি বছর আট বিঘা জমিতে আগাম জাতের ভুট্টা চাষ করায় সেগুলো প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাড়াই করা প্রয়োজন। কিন্তু তেল সংকটের কারণে মেশিন বেশি সময় ধরে চালাতে পারছি না। প্রতিদিন শহরে বোতলে করে তেল আনতে গিয়ে পাম্পের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে দুই লিটার তেল পাই, সেটা নিতেও অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।’
জ্বালানি সংগ্রহে ভোগান্তির কথা তুলে ধরে কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নৌকা চালিয়ে নদী পাড়ি দিয়ে শহরে যেতে হয় তেল আনতে। যাতায়াতেই পুরো একটি দিন চলে যায়। তেলের দামও বেড়েছে, তার ওপর বহনের খরচ যোগ হয়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। এতে করে কৃষিকাজ চালিয়ে যাওয়া ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।’
শুধু কৃষিকাজ নয়, জ্বালানি সংকটে চরাঞ্চলের মানুষের চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। নৌকা চালানোর জন্য তেল না থাকায় রোগী পরিবহণ, বাজার করা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতে ভোগান্তি বাড়ছে।
নৌকার চালক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আগে ঘাট থেকে নিজেদের প্রয়োজনমতো তেল কিনতে পারতাম, এখন সেই সুযোগ নাই। শহরের পাম্পে গিয়ে তেল নিতে হয়। অনেক সময় তারা জারকিনে তেল দেয় না, তখন বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে হয়। আমরা দূরে কোথাও যেতে পারি না, তাই ঘাট থেকে দূরের চরের লোকদের যাতায়াতের খুব অসুবিধা তৈরি হয়েছে।’
চরাঞ্চল নিয়ে কাজ করা গ্রিন ইয়ুথ অ্যালায়েন্সের পরিচালক মারুফ হাসান বলেন, ‘চরাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।’
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকদের জ্বালানি তেলের বিষয়টি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না; এটি জেলা প্রশাসন করবে। এ ছাড়া, সরকারি যে নীতিমালা আছে সে অনুযায়ী কৃষকরাও জ্বালানি তেল পাবে।’
গাইবান্ধা: গাইবান্ধার দুর্গম চরাঞ্চলে জ্বালানি সংকটের কারণে কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিশেষ করে ফুলছড়ি উপজেলার কোচখালী চরে সেচ, ভুট্টা মাড়াই ও নৌযান চলাচল—সবক্ষেত্রেই তীব্র প্রভাব পড়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় এসব এলাকায় শ্যালো মেশিনই প্রধান ভরসা, যা চালাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল এখন দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে।