ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাইবান্ধা জেলায় ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ঝুঁকি মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জেলার সাত উপজেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ৬৭৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৭৯টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯টি কেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসন:
একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনের ১২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৪১টি কেন্দ্র। এর মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১১টি।
গাইবান্ধা-২ (সদর) আসন:
১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনের ১১৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৫১টি কেন্দ্র। এর মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১১টি।
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর–পলাশবাড়ী) আসন:
দুই উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনের ১৪৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ৮৭টি। এর মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১৭টি।
এর মধ্যে সাদুল্লাপুর উপজেলার ৩৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৩১টি এবং অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ৭টি।
এ ছাড়া পলাশবাড়ী উপজেলার ৪৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৩৯টি এবং অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১০টি।
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসন:
একটি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনের ১৪২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১১০টি। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১০৫টি এবং অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ৫টি।
গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি–সাঘাটা) আসন:
দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনের ১৪৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৯০টি। এর মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ৩৫টি।
এর মধ্যে ফুলছড়ি উপজেলার ৪৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ১৮টি এবং অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ২৭টি।
এ ছাড়া সাঘাটা উপজেলার ৪৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৩৭টি এবং অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ৮টি।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা সূত্র জানায়, পূর্বের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক উত্তেজনা, প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাত্রা, ভৌগোলিক অবস্থান ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে সম্ভাব্য সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা ও ভোটগ্রহণে বাধা সৃষ্টি ঠেকাতে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গাইবান্ধা জেলায় মোতায়েন থাকবে ১১’শ সেনাসদস্য। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন ৪০ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে থাকবে ২ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য।
এ ছাড়া প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে র্যাব টিমসহ মোট ১৪টি র্যাব টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। পরিস্থিতির অবনতি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সদস্যও মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চলের ভোটকেন্দ্রগুলোতে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা, চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা বা দ্রুত ফোর্স পাঠানোর প্রয়োজন হলে এই হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, 'ভোটকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ২ জন করে পুলিশ সদস্য এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৩ জন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে ৬ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী আনসারসহ মোট ১০ জন আনসার সদস্য এবং ৩ জন করে অস্ত্রধারী আনসার মোতায়েন থাকবে।'
তিনি আরও জানান, অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে।
নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে গাইবান্ধাজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়লেও প্রশাসন বলছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি থাকবে না। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ২১ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ জন ভোটার ৬৭৫টি ভোটকেন্দ্রের ৪ হাজার ১০১টি ভোটকক্ষে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক: বিমল কুমার সরকার নির্বাহী সম্পাদক: তাসলিমুল হাসান সিয়াম বার্তা সম্পাদক: শামসুর রহমান হৃদয়। সম্পাদকীয় কার্যালয়: তুলশীঘাট (সাদুল্লাপুর রোড), গাইবান্ধা সদর, গাইবান্ধা-৫৭০০
© All Rights Reserved © Kaler Chithi