বিমল সরকার : গাইবান্ধার ভবিষ্যৎ কোনো স্লোগানের হাতে বন্দি হয়ন এখনও ,মানুষের হাতেই আছে । তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, এই মানুষগুলো গত ৫৪ বছরে কী পেল? স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় পেরিয়ে গেল, রাষ্ট্র বদলাল, সরকার বদলাল, উন্নয়নের ভাষা বদলে গেলো ,রাজনৈতিকের নামে দলনৈতিকের পটে পরিবর্তন এলো কিন্তু গাইবান্ধার মানুষের জীবনে পরিবর্তনের রেখা কেন আজও অস্পষ্ট? উন্নয়ন যদি সত্যিই রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হয়, তবে তার ছাপ কেন গাইবান্ধার ঘরে ঘরে পৌঁছাল না ? এই প্রশ্নটা এড়ানো যায় কি ? এখানে মানুষ কর দেয়, ভোট দেয়, সংবিধান মানে, রাষ্ট্রের প্রতি তার নাগরিক দায় পালন করে। নিজ উদ্যোগে গ্রন্থাগারের মাধ্যমে জ্ঞান বিতরণ করে ।অথচ রাষ্ট্র কি গাইবান্ধার মানুষের প্রতি তার ন্যূনতম দায় পালন করেছে? নাকি গাইবান্ধা কেবল মানচিত্রে থাকা একটা প্রান্তিক অঞ্চলের নাম হিসাবেই থাকবে যাকে স্মরণ করা হয় শুধু ভোটের আগে, ভুলে যাওয়া হয় ভোটের পরের পুরোটা সময় । আজও বাস্তবতার আয়নায় দাঁড়িয়ে প্রশ্নগুলো একই রয়ে গেছে। কেন গাইবান্ধায় দৃশ্যমান শিল্প নেই? কেন টেকসই কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি? কেন এখানকার তরুণ জন্ম নেয় গাইবান্ধায়, কিন্তু জীবন গড়তে বাধ্য হয় অন্য জেলায়? কেন শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য মানুষকে বারবার জেলা ছাড়তে হয়? এগুলো কোনো আবেগী অভিযোগ নয় ,এগুলো আমাদের জীবনের কঠিন বাস্তবতা । প্রশ্নটা তাহলে ভূগোলের, না নীতির? নদী-ভাঙন ও বন্যা কি গাইবান্ধার নিয়তি, না কি বছরের পর বছর অব্যবস্থাপনার ফসল? যদি উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রে মানুষ থাকে, তবে সেই পরিকল্পনার ছায়া কেন গাইবান্ধায় এসে থেমে যায়? এই প্রশ্নের উত্তর না খুঁজলে ‘সমতা’ ও ‘অন্তর্ভুক্তি’ কেবল কাগুজে শব্দ হয়েই থাকবে যুগের পর যুগ । গাইবান্ধার মানুষ আজ সহানুভূতি চায় না; তারা ন্যায্যতা চায়। প্রতিশ্রুতি চায় না ,বাস্তবায়ন চায়। এই দাবিগুলো বিলাসিতা নয়, অত্যন্ত মৌলিক । বালাসী -বাহাদুরাবাদ বহুমুখী সেতু উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতির শিরদাঁড়া হতে পারে। শিল্পাঞ্চল ও গার্মেন্টস EPZ ছাড়া কর্মসংস্থান কল্পনা মাত্র। মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ ,হাসপাতাল শিক্ষা ও চিকিৎসার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে। গ্যাস ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ছাড়া শিল্প, শিক্ষা বা স্বাস্থ্যের কোনোটিই টেকসইহতে পারে না । নদীতে টেকসই বাঁধ ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ ছাড়া প্রতিবছরের বন্যা ও ভাঙনকে ‘নিয়তি’ বলে মেনে নেওয়া মানে অব্যবস্থাপনাকে বৈধতা দেওয়া। গাইবান্ধার মানুষ সরল কিংবা ভদ্র আর এটাই কি তাদের অপরাধ? সরলতার মূল্য যদি বঞ্চনা হয়, তবে রাষ্ট্রের আয়নায় নিজেদের মুখ দেখা এতীব জরুরি। কারণ উন্নয়ন কোনো দান নয়; এটি নাগরিকের অধিকার। কালের চিঠি কোনো দলের পক্ষে নয় ,কথা বলে মানুষের পক্ষে। আমরা চাই বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং ভবিষ্যতের যে কোনো সরকার এই দাবিগুলোকে নির্বাচনী ইশতেহারের পাতায় নয়, বাস্তবায়নের তালিকায় রাখুক। সময়ের দাবি স্পষ্ট: গাইবান্ধা জেগে উঠুক তবে ঘৃণায় নয়, দাবিতে; স্লোগানে নয়, যুক্তিতে; অপমানে নয়, অধিকারবোধে। আজ গাইবান্ধা আর প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না। গাইবান্ধা এখন জবাব চায়।
প্রকাশক ও সম্পাদক: বিমল কুমার সরকার নির্বাহী সম্পাদক: তাসলিমুল হাসান সিয়াম বার্তা সম্পাদক: শামসুর রহমান হৃদয়। সম্পাদকীয় কার্যালয়: তুলশীঘাট (সাদুল্লাপুর রোড), গাইবান্ধা সদর, গাইবান্ধা-৫৭০০
© All Rights Reserved © Kaler Chithi