প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৬, ৪:৪৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ২৯, ২০২৬, ১:৫০ পি.এম

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কখনো কোনো নারী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রধান হতে পারবেন না। এসময় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত কোনো নারী প্রার্থী না দেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি।
সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনে জামায়াতের নারী প্রার্থীর সংখ্যা কত? এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, একজনও না। অন্য দলও যে খুব বেশি দিয়েছে, সেটা আপনি দেখাতে পারবেন না। কারণ, এটা বাংলাদেশের কালচার। আমরা এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।
অন্য রাজনৈতিক দল অল্প কিছু হলেও দিয়েছে, আপনারা একজনকেও দিলেন না কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,এরই মধ্যে আমি উত্তর দিয়েছি। আমরা ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। এটা একদিনে হয়ে যাবে না। আমরা এ বিষয়ে নারীকে অসম্মান করি না।
কখনো কোনো নারী কি জামায়াতের প্রধান হতে পারবে কি না এ প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির জানান, না। এটা সম্ভব না। কারণ আল্লাহ প্রত্যেককে আলাদাভাবে বানিয়েছেন। পুরুষরা কখনোই বাচ্চা পালতে পারবে না, বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়াতে পারবে না। এটা আল্লাহর দান। আল্লাহ যেটা বানিয়েছেন, আমরা সেটা পাল্টাতে পারব না।
গত তিন দশক তো দেশে নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তারা কি দেশ চালাননি? প্রত্যুত্তরে শফিকুর রহমান বলেন, আমরা তাদেরকে অসম্মান করছি না। আমাদের তাতে অসুবিধা নেই।
নারী যদি পরিবার চালাতে পারে, যদি বাচ্চা পালতে পারে, তাহলে জামায়াতের প্রধান হতে পারবে না কেন? সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, এমন কিছু জিনিস আছে, যেখানে তারা দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। তাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। আপনি জানেন সেটা।
সাংবাদিক এ বিষয়ে জানেন না জানালে জামায়াতের আমির পাল্টা প্রশ্ন করেন, কেন জানেন না? মা বাচ্চা জন্ম দেওয়ার পর যে দায়িত্ব পালন করে, সেটা আপনি পারবেন? কখনোই না। আল্লাহ সবকিছু জানেন।
নারীদের কর্মঘণ্টা প্রসঙ্গে
আপনি প্রস্তাব করেছিলেন নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেছেন, একজন মা একই সময়ে সন্তান বহন করছেন, সন্তানকে দেখাশোনা করছেন, আর একই সময়ে পুরুষদের মতো সমান দায়িত্ব ও সমান সময় কাজ করছেন— এটা ন্যায়সংগত নয়। অন্তত স্তন্যদানকালীন সময়ে, যখন তিনি সন্তান জন্ম দিচ্ছেন বা সন্তান লালন করছেন, তখন তাকে সম্মান দেখাতে হবে।
কিন্তু ইতোমধ্যেই মাতৃত্বকালীন ছুটির সুযোগ আছে বলে আল-জাজিরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুধু ছয় মাসের জন্য। আমরা মনে করি এটা যথেষ্ট নয়। একটি শিশু ছয় মাসে বড় হয়ে ওঠে না।
আপনার প্রস্তাব নারীদের আবার অন্ধকারে ঠেলে দেবে এবং তাদের স্বাধীনতা সীমিত করবে বলে আল-জাজিরার প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান জানান, অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এটা তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়। কিছু অ্যাকটিভিস্ট আছেন যাদের আদর্শ আমাদের বিপরীত। তারা রাস্তায় নামতে পারেন। আমরা সম্মান করি।
বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রে লাখো নারী কাজ করেন, বিশেষ করে পোশাকশিল্পে। ৫০ শতাংশেরও বেশি নারী। তারা সেখানে পৌঁছাতে দশকের পর দশক সংগ্রাম করতে হয়েছে। তারা সেই ধারণার বিরুদ্ধে লড়েছে যে নারীদের শুধু মা হতে হবে এবং সন্তান দেখাশোনা করতে হবে। পুরুষরাও সেই দায়িত্ব নিতে পারে। আর আশঙ্কা হলো আপনার প্রস্তাব সময়কে পিছিয়ে দিচ্ছে, ফলে নিয়োগকর্তারা নারীদের নিয়োগ দিতে চাইবে না কারণ তাদের কর্মঘণ্টায় সীমাবদ্ধতা থাকবে-এমন প্রশ্নের উত্তর দেন শফিকুর রহমান।
তিনি জানান, এটা আপনার উদ্বেগ, কিন্তু বাস্তবতা নয়। আমি আমার বক্তব্যের পর কয়েকটি পোশাকশিল্প পরিদর্শন করেছি। আমি কোথাও এমন কিছু দেখিনি। বরং তারা স্বস্তি অনুভব করেছে। হ্যাঁ, তারা বলেছে দুই বা আড়াই বছর পর আবার কাজে ফিরে আসার সুযোগ পাবে। কিন্তু যখন তারা চাকরি ছেড়ে দেয়, তখন আর ফিরে আসে না।