নির্বাচনের সময় এলেই রাজনৈতিক নেতাদের ভাষা বদলে যায় ।প্রতিশ্রুতি তখন ঢেউ হয়ে ওঠে—অর্থনীতি, নিরাপত্তা, শক্তি, সীমান্ত, আর আগামীর দেশ পরিচালনার কৌশল যেন একসঙ্গে উচ্চারিত হয়। এই ঢেউয়ের মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ও নীতির ব্যাখ্যাকে কেউ দেখেন “আমেরিকা ফার্স্ট” দর্শন হিসেবে, আবার কেউ দেখেন কঠোর শাসনের উচ্চারণ হিসেবে।
রাষ্ট্রের অধিকার আছে আইন প্রয়োগের।সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—এসব রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। অবৈধ অভিবাসন যে একটি জটিল ও বাস্তব সমস্যা, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু প্রশ্নটা এখানেই শেষ হয় না।প্রশ্নটা শুরু হয় এখান থেকে—
আইন প্রয়োগের পদ্ধতিতে মানবতা থাকবে কি না?
আজ আমরা এমন এক সময়ের সাক্ষী,যেখানে আইন প্রয়োগের নামে ভয় দেখানো হচ্ছে,বলপ্রয়োগ হচ্ছে,
এমনকি কোথাও কোথাও প্রাণহানির ঘটনাও সামনে আসছে।একজন মানুষ তখন আর হয়ত মানুষ থাকে না—
সে হয়ে ওঠে কাগজের একটি ফাইল,একটি কেস নম্বর,একটি “স্ট্যাটাস”।
কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—
কেউ অবৈধভাবে এসেছে বলেই কি সে মানুষ নয়?
তার কি ভয় নেই? ক্ষুধা নেই? স্বপ্ন নেই?
একটি উদাহরণ ভাবা যাক—
একজন মা, সন্তানকে বুকে নিয়ে সীমান্ত পেরিয়েছে। তার হাতে কোনো অপরাধের অস্ত্র নেই, আছে শুধু বাঁচার আকুতি। আইন তাকে “অবৈধ” বলতেই পারে, কিন্তু মানবতা কি তাকে অমানবিক বলবে?
রাষ্ট্র যখন শক্তি দেখায়, তখন তার দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়।কারণ শক্তি তখনই ন্যায়সঙ্গত, যখন তা ন্যায়ের সঙ্গে ব্যবহৃত হয়।
আইন যদি ন্যায়বোধ হারায়,তবে সে আইন একদিন অন্যায়ের অস্ত্রে পরিণত হয়।আর রাষ্ট্র যদি মানবিকতা ভুলে যায়,তবে রাষ্ট্রের মহত্ত্বই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন নিজেকে তুলে ধরেছে গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে,মানবাধিকারের আশ্রয় হিসেবে,
মানবিক মূল্যবোধের নেতৃত্বদানকারী হিসেবে।কিন্তু আজ সেই দেশেই মানুষ প্রশ্ন করছে—
মানবতা কি তবে আইনের বাইরে?
আমরা জানি—
শৃঙ্খলা দরকার।নিরাপত্তা দরকার।কখনো কঠোর সিদ্ধান্তও দরকার।কিন্তু সেই কঠোরতার ভেতরেও
সহানুভূতি থাকতে হয়,বুদ্ধিবৃত্তিক বিচক্ষণতা থাকতে হয় আর মানবিক ন্যায় বোধটাও ।কারণ ক্ষমতা দেখিয়ে দেশ চালানো যায় কিন্তু মানবতা ছাড়া সভ্যতা টেকে না।
কালের চিঠি আজ তাই কোনো দলের হয়ে নয়—
মানুষের হয়ে কথা বলে।আইনের বিরুদ্ধে নয়—
অমানবিকতার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলে।
এই পৃথিবীকে ঠিক করতে হলে,প্রতিটি দেশকে ঠিক করতে হলে,আইনের ভাষার সঙ্গে মানবতার ভাষা জুড়তেই হবে।এর কোনো বিকল্প নেই।
আর শেষ পর্যন্ত মনে রাখতে হবে—
রাষ্ট্র যত বড়ই হোক,আইন যতই শক্তিশালী হোক,
মানুষই সবচেয়ে বড় সত্য।
কোনো রাজাই চিরস্থায়ী নয়,কোনো ক্ষমতাই স্থায়ী নয়।জীবনকালের সময় ফুরিয়ে গেলে
এখানে মানুষগুলোর কেহই থাকবে না,থেকে যাবে শুধু কোন সময়ে আমরা মানুষ ছিলাম,আর কোন সময়ে আমরা মানুষ হতে ভুলে গিয়েছিলাম—
তার ইতিহাস যার হিসাব রেখে চলছে কালের চিঠি ।
লেখা -বিমল সরকার
প্রকাশক ও সম্পাদক, দৈনিক কালের চিঠি
প্রকাশক ও সম্পাদক: বিমল কুমার সরকার নির্বাহী সম্পাদক: তাসলিমুল হাসান সিয়াম বার্তা সম্পাদক: শামসুর রহমান হৃদয়। সম্পাদকীয় কার্যালয়: তুলশীঘাট (সাদুল্লাপুর রোড), গাইবান্ধা সদর, গাইবান্ধা-৫৭০০
© All Rights Reserved © Kaler Chithi