প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৬, ৬:১৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ১১, ২০২৫, ২:২৩ পি.এম
গর্তে পড়া শিশু সাজিদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ, উদ্ধার অভিযান চলবে

রাজশাহীতে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া শিশু সাজিদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে জীবিত বা মৃত যে অবস্থায়ই হোক, শিশুটিকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে চলমান উদ্ধার অভিযান নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফিংকালে এসব কথা জানান ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘৪৫ ফুট পর্যন্ত খনন করেও শিশুটির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। শিশুটি যে গর্তে পড়েছে, সেটির ব্যাস খুবই সরু। এ ছাড়া মাটি এঁটেল ও দোআঁশ প্রকৃতির হওয়ায় তাকে সরাসরি ওই গর্ত থেকে বের করে আনা সম্ভব হচ্ছে না। তাই পাশাপাশি সমান্তরাল গর্ত করে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’
উদ্ধারকাজের ধীরগতির কারণ ব্যাখ্যা করে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এখন প্রতি ১০ ফুট অন্তর গর্ত খুঁড়ে শিশুটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আরও গভীরে খনন করার জন্য এস্কেভেটর দিয়ে মাটি দূরে সরিয়ে মাটির ভারসাম্য (ব্যালেন্স) রক্ষা করা হচ্ছে, যাতে ওপর থেকে মাটি নিচে ধসে না পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে এসব কারিগরি দিক বিবেচনায় কাজে কিছুটা ধীরগতি হচ্ছে।’
বুধবার দুপুরে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট গ্রামে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে।
শিশু সাজিদ তার মা ও ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ির পাশের একটি জমি পার হচ্ছিল। জমিটি খড় দিয়ে ঢাকা ছিল। সাজিদের মা জানতেন না যে খড়ের নিচেই রয়েছে একটি অরক্ষিত গভীর নলকূপের গর্ত। হাঁটার সময় হঠাৎ সাজিদ গর্তে পড়ে যায়। পেছন থেকে ‘মা মা’ চিৎকার শুনে মা ফিরে দেখেন সাজিদ নেই। খড় সরাতেই বেরিয়ে আসে মৃত্যুকূপ।
স্থানীয়রা জানান, গত বছর স্থানীয় এক ব্যক্তি এখানে গভীর নলকূপ স্থাপনের চেষ্টা করেন। কিন্তু ১২০ ফুট নিচেও পানি না পাওয়ায় পাইপটি পরিত্যক্ত অবস্থায় মুখ খোলা রেখেই ফেলে রাখা হয়। গত বছরের বৃষ্টিতে গর্তটির মুখ আরও বড় হয়। কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বা ঢাকনা না থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
ঘটনাস্থলে ভিড় করেছেন হাজারো উৎসুক জনতা। গর্তের পাশেই নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন সাজিদের মা। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় চলছে বিরামহীন কান্না ও দোয়া। দুর্ঘটনার পরপর শিশুটির সাড়াশব্দ পাওয়া গেলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেতর থেকে আর কোনো আওয়াজ আসছে না, যা উদ্ধারকর্মীদের শঙ্কিত করে তুলেছে। তবে গর্তের ভেতরে অক্সিজেন সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে ফায়ার সার্ভিস। মেডিকেল টিম ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: বিমল কুমার সরকার নির্বাহী সম্পাদক: তাসলিমুল হাসান সিয়াম বার্তা সম্পাদক: শামসুর রহমান হৃদয়। সম্পাদকীয় কার্যালয়: তুলশীঘাট (সাদুল্লাপুর রোড), গাইবান্ধা সদর, গাইবান্ধা-৫৭০০
© All Rights Reserved © Kaler Chithi