ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলমানদের কাছে সমভাবে পবিত্র স্থান, যেখানে মুসা (আ.) দশ আদেশ লাভ করেছিলেন এবং জ্বলন্ত গুল্ম থেকে আল্লাহ তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়- সেই সিনাই পর্বতকে বিলাসবহুল পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তর করছে মিশরের সরকার। ‘সিনাই মেগা প্রকল্প’ নামের এই উদ্যোগের আওতায় তৈরি হচ্ছে হোটেল, শপিং সেন্টার, ইকো-লজ, এমনকি ক্যাবল কার ব্যবস্থাও। তবে বিষয়টি নিয়ে দেশটিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বলা হচ্ছে, এসব উন্নয়নের শিকলে বন্দী হয়ে পড়ছে স্থানীয় বেদুইন সম্প্রদায় জেবেলিয়ার স্বাভাবিক জীবন। হুমকির মুখে পড়েছে তাদের সংস্কৃতি।
সিনাই মেগা প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো- পর্যটকের আকর্ষণ বাড়িয়ে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া। মিশরীয় সরকার এটিকে ‘বিশ্বের সব ধর্মের জন্য উপহার’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে। তবে এসব বিলাসবহুল প্রকল্পের কারণে পবিত্র সিনাই পর্বতের সংস্কৃতি ও স্মৃতি চাপের মুখে পড়ছে। সবচেয়ে চাপের মুখে পড়েছে জেবেলেয়া নামের প্রাচীন বেদুইন উপজাতি। তাদের বলা হয় ‘গার্ডিয়ান অব সেন্ট ক্যাথরিন’। তাদের ঘরবাড়ি ও ইকো-ক্যাম্প ভেঙে ফেলা হয়েছে, এমনকি কবরস্থান খালি করে গাড়ি পার্কিং নির্মাণ করা হয়েছে। ব্রিটিশ ভ্রমণ লেখক বেন হফলার বলেন, ‘এটা উন্নয়ন নয়, বরং বাইরের স্বার্থে স্থানীয়দের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এক জবরদস্তিমূলক পরিবর্তন।’
প্রকল্পটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আপত্তি তুলেছে গ্রিস। সেন্ট ক্যাথরিন মঠের জমি নিয়ে কায়রো ও এথেন্সের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এক মিসরীয় আদালত রায় দেয় যে, মঠ রাষ্ট্রের জমিতে অবস্থিত এবং কেবল তাদের ব্যবহার করার অধিকার রয়েছে কিন্তু মালিকানা নেই। এ রায়কে অর্থডক্সির জন্য অস্তিত্ব সংকট বলে মন্তব্য করেন গ্রিক আর্চবিশপ ইয়েরোনিমোস।
বিষয়টি নিয়ে ইউনেস্কোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলছে, এই পাহাড়ি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে মানুষের আধ্যাত্মিক বন্ধন জড়িয়ে আছে। যা প্রকল্পের কারণে ধ্বংস হচ্ছে। এ ধরনের উন্নয়নে বিশ্ব ঐতিহ্যের অমূল্য স্বাতন্ত্র্য নষ্ট হতে পারে।
তাই মিশরকে এই উদ্যোগ থামিয়ে স্থায়ী সুরক্ষা পরিকল্পনায় আহ্বান জানিয়েছে ইউনেস্কো। এদিকে বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণকারী এক সংগঠন ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ওয়াচ চাইছে- এই এলাকা যেন ‘ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্য’ তালিকায় যোগ করা হয়।
এ বিষয়ে ব্রিটেনের রাজা চার্লস বলেন, ‘সিনাই পর্বত এক দামি আধ্যাত্মিক সম্পদ। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করা উচিত।’ সূত্র: বিবিসি
প্রকাশক ও সম্পাদক: বিমল কুমার সরকার নির্বাহী সম্পাদক: তাসলিমুল হাসান সিয়াম বার্তা সম্পাদক: শামসুর রহমান হৃদয়। সম্পাদকীয় কার্যালয়: তুলশীঘাট (সাদুল্লাপুর রোড), গাইবান্ধা সদর, গাইবান্ধা-৫৭০০
© All Rights Reserved © Kaler Chithi