মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সুপার ওভারে পাকিস্তানকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস

যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট খেলে, এটি ক’জনই বা জানেন? একেবারেই ক্রিকেট পাগল না হলে কয়দিন আগেও হয়তো বাংলাদেশের বেশির অনেক সমর্থক এটি জানতেন না। আইসিসির এই সহযোগী দেশটি বড় কোনো দলের বিপক্ষে খেলারই সুযোগ পেতো না। আইসিসির ইভেন্টে খেলা তো আরও দুঃস্বপ্ন। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হওয়ায় এবং এবার ২০ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন করায় বৈশ্বিক এ টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

প্রথমবার বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারতে তাদের সাথে তিন ম্যাচের সিরিজ খেলতে গিয়েছিল। প্রথমবার বাংলাদেশকে পেয়ে ‍ঘরের মাঠে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এবার তাদের ‘শিকার’ হয়েছে এশিয়ার আরেক দেশ পাকিস্তান। বাংলাদেশকে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে হারালেও পাকদের হারিয়েছে বিশ্বকাপ আসরে।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) রাতে ডালাসের গ্রান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করে বাবর-রিজওয়ানরা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান তোলে পাকিস্তান। জবাব দিতে নেমে ২০ ওভারে ১৫৯ রানে থাম যুক্তরাষ্ট্র। সুপার ওভারে গড়ানো ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ইতিহাস গড়া জয় তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগে, পাকিস্তানের ছুঁড়ে দেয়া চ্যালেঞ্জিং স্কোর তাড়া করতে নেমে দুই ওপেনারের ব্যাটে দারুণ জবাব দেয় যুক্তরাষ্ট্র। উদ্বোধনী জুটিতে তারা তোলে ৩৬ রান। এরপর স্বাগতিকদের শিবিরে আঘাত হানেন পাক পেসার নাসিম শাহ। তার বলে উইকেটরক্ষক রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দেন স্টিবেন টেইলর। পাওয়ার প্লে‘তে যুক্তরাষ্ট্র এক উইকেটে তোলে ৪৪ রান।

টেইলরের ফেরার পর অ্যান্ড্রেস গুসকে নিয়ে পাকিস্তানি বোলারদের শাসন করেন অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেল। এই জুটির কল্যাণে মাত্র ১২ ওভার ৩ বলেই ১০০ ছাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ওঠে ৪৮ বলে ৬৮ রান। এরপর গুসকে বোল্ড করে দলকে ব্রেকথ্রু এনে দেন হারিস রউফ। ফেরার আগে এই ব্যাটার করেন ২৬ বলে ৩৫ রান। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৫ চার ও এক ছয়ে।

অপরদিকে রানের গতি সচল রাখেন অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেল। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ রান আসে তার ব্যাট থেকে। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৭ চার ও এক ছয়ে। শেষদিকে অ্যারন জোনস ও নিতীশ কুমারের ব্যাটে পাকিস্তানের সমান ১৫৯ রান তোলে যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানেই পাকিস্তানকে হারিয়ে রূপকথা তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্র।

সুপার ওভারে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে চাপ নিতে পারেননি পাক পেসার মোহাম্মদ আমির। ছয়টি বলতে করতে গিয়ে তিনি দিয়েছেন ৩টি ওয়াইড। আর প্রতিটি ওয়াডেই এসেছে অতিরিক্ত রান। তাইতো যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটার জোনসের ব্যাট থেকে ১১ রান উঠলেও অতিরিক্ত রানের সুবাদে সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৮।

ছয় বলে ১৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে পারেনি পাকিস্তান। পাক ব্যাটার ইফতিকার আহমেদ, ফখর জামান ও শাদাব খানরা ১১ রানের বেশি তুলতেই পারেনি। প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে নামা যুক্তরাষ্ট্র প্রথম ম্যাচে হারিয়েছে কানাডাকে। এরপর পাকিস্তানকে। টানা দুই জয়ে সুপার এইটে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলো যুক্তরাষ্ট্রের।

 

কালের চিঠি / আলিফ

Tag :
Popular Post

বেরোবিতে কোঠা ইস্যুতে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

সুপার ওভারে পাকিস্তানকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস

Update Time : ০৩:১০:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুন ২০২৪

যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট খেলে, এটি ক’জনই বা জানেন? একেবারেই ক্রিকেট পাগল না হলে কয়দিন আগেও হয়তো বাংলাদেশের বেশির অনেক সমর্থক এটি জানতেন না। আইসিসির এই সহযোগী দেশটি বড় কোনো দলের বিপক্ষে খেলারই সুযোগ পেতো না। আইসিসির ইভেন্টে খেলা তো আরও দুঃস্বপ্ন। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হওয়ায় এবং এবার ২০ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন করায় বৈশ্বিক এ টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

প্রথমবার বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারতে তাদের সাথে তিন ম্যাচের সিরিজ খেলতে গিয়েছিল। প্রথমবার বাংলাদেশকে পেয়ে ‍ঘরের মাঠে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এবার তাদের ‘শিকার’ হয়েছে এশিয়ার আরেক দেশ পাকিস্তান। বাংলাদেশকে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে হারালেও পাকদের হারিয়েছে বিশ্বকাপ আসরে।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) রাতে ডালাসের গ্রান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করে বাবর-রিজওয়ানরা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান তোলে পাকিস্তান। জবাব দিতে নেমে ২০ ওভারে ১৫৯ রানে থাম যুক্তরাষ্ট্র। সুপার ওভারে গড়ানো ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ইতিহাস গড়া জয় তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগে, পাকিস্তানের ছুঁড়ে দেয়া চ্যালেঞ্জিং স্কোর তাড়া করতে নেমে দুই ওপেনারের ব্যাটে দারুণ জবাব দেয় যুক্তরাষ্ট্র। উদ্বোধনী জুটিতে তারা তোলে ৩৬ রান। এরপর স্বাগতিকদের শিবিরে আঘাত হানেন পাক পেসার নাসিম শাহ। তার বলে উইকেটরক্ষক রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দেন স্টিবেন টেইলর। পাওয়ার প্লে‘তে যুক্তরাষ্ট্র এক উইকেটে তোলে ৪৪ রান।

টেইলরের ফেরার পর অ্যান্ড্রেস গুসকে নিয়ে পাকিস্তানি বোলারদের শাসন করেন অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেল। এই জুটির কল্যাণে মাত্র ১২ ওভার ৩ বলেই ১০০ ছাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ওঠে ৪৮ বলে ৬৮ রান। এরপর গুসকে বোল্ড করে দলকে ব্রেকথ্রু এনে দেন হারিস রউফ। ফেরার আগে এই ব্যাটার করেন ২৬ বলে ৩৫ রান। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৫ চার ও এক ছয়ে।

অপরদিকে রানের গতি সচল রাখেন অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেল। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ রান আসে তার ব্যাট থেকে। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৭ চার ও এক ছয়ে। শেষদিকে অ্যারন জোনস ও নিতীশ কুমারের ব্যাটে পাকিস্তানের সমান ১৫৯ রান তোলে যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানেই পাকিস্তানকে হারিয়ে রূপকথা তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্র।

সুপার ওভারে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে চাপ নিতে পারেননি পাক পেসার মোহাম্মদ আমির। ছয়টি বলতে করতে গিয়ে তিনি দিয়েছেন ৩টি ওয়াইড। আর প্রতিটি ওয়াডেই এসেছে অতিরিক্ত রান। তাইতো যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটার জোনসের ব্যাট থেকে ১১ রান উঠলেও অতিরিক্ত রানের সুবাদে সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৮।

ছয় বলে ১৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে পারেনি পাকিস্তান। পাক ব্যাটার ইফতিকার আহমেদ, ফখর জামান ও শাদাব খানরা ১১ রানের বেশি তুলতেই পারেনি। প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে নামা যুক্তরাষ্ট্র প্রথম ম্যাচে হারিয়েছে কানাডাকে। এরপর পাকিস্তানকে। টানা দুই জয়ে সুপার এইটে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলো যুক্তরাষ্ট্রের।

 

কালের চিঠি / আলিফ