মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রেলপথের দূরত্ব ভিত্তিক রেয়াত পূর্ণবহালের দাবীতে গাইবান্ধা জেলা রেল স্টেশনে মানববন্ধন

 

বক্তাগণ বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়েতে যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোতে ভাড়া বৃদ্ধি না করে শুধু বিদ্যমান দূরত্বভিত্তিক রেয়াত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে সব ধরনের যাত্রীবাহী ট্রেনে বিদ্যমান দূরত্বভিত্তিক রেয়াত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি গত ৪ মে থেকে কার্যকর হয়েছে।

অর্থাৎ এখন রেয়াতি ব্যবস্থার কারণে দূরপাল্লার ট্রেনে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ছাড় পেয়ে থাকেন যাত্রীরা। এ ব্যবস্থায় ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ছাড়ের সুবিধা নেই। তবে ১০১ থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরত্বের ভ্রমণে ভাড়ার ওপর রেয়াতের হার ২০ শতাংশ, তার ওপরে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে। এতে করে রংপুর বিভাগের যাত্রীরা যে নাটোর-চাটমোহর ঘুরে বাড়ির কাছের সিরাজগঞ্জে ফিরে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ওঠেন, সেই কারণে বাড়তি সময় গেলেও সাথে বাড়তি ভাড়াও দিতে হতো না। এখন বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেল লাইন চালু না করে, রেলওয়ে সৃষ্ট ঘোরাপথের ১১২ কি.মি. এর ভাড়ার দায় মেটাতে হচ্ছে রংপুর বিভাগের যাত্রীদের। রাষ্ট্রের চোখে ভাড়া বৃদ্ধির কথা অস্বীকার করা হচ্ছে।

একই কথা ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের বেলায়ও। রেলপথ ঢাকা থেকে দাউদকান্দি উপজেলা হয়ে কুমিল্লা প্রবেশ করলে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের বর্তমান দূরত্ব ৩২১ কিমি থেকে ৯০ কি.মি. হ্রাস পাবে। অর্থাৎ এই রুটের দৈর্ঘ্য হবে ২৩১ কিমি। মানে এই অঞ্চলের যাত্রীদেরও বাড়তি ৯০ কি. মি. এর ভাড়া দিতে হবে। ১৯৯২ সাল থেকে বাংলাদেশ রেলওয়েতে দূরত্বভিত্তিক ও সেকশনভিত্তিক রেয়াতি দেওয়া হত। যাত্রীদের রেলপথ ব্যবহারে উৎসাহিত করার জন্য এটি করা হয়। তারমানে এখন রেলপথে যাত্রীদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

কলামিস্ট ও সংগঠক নাহিদ হাসানের আহ্বানে গাইবান্ধা জেলা রেল স্টেশনে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষ শতাধিক মানুষ অংশগ্রহন করেন। এতে সংহতি জানান রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন গাইবান্ধা জেলা শাখার আহ্বায়ক মৃনাল কান্তি বর্মন। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জেলা সভাপতি পরমানন্দ দাস। সংগঠনের কলেজ শাখার সভাপতি কলি রানী বর্মন ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান।

বাংলাদেশ ভুমিহীন আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক লায়ন সামিউল আলম রাসু। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন উন্নয়ন কর্মী মনোয়ার হোসেন। মানবাধিকার নাট্য পরিষদের জেলা সভাপতি আলম মিয়া। সামজিক সংগঠন গ্রীণ ভয়েসের সদস্য কনক, আশিকুর, আলিফ। বিমল সরকার পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক শামীম সরকার। শিক্ষক ও সমাজ কর্মী সৌমেন। মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয় ৩১ মে শুক্রবার সকাল ১১ ঘটিকায়।

Tag :
Popular Post

বেরোবিতে কোঠা ইস্যুতে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

রেলপথের দূরত্ব ভিত্তিক রেয়াত পূর্ণবহালের দাবীতে গাইবান্ধা জেলা রেল স্টেশনে মানববন্ধন

Update Time : ০২:২২:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ জুন ২০২৪

 

বক্তাগণ বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়েতে যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোতে ভাড়া বৃদ্ধি না করে শুধু বিদ্যমান দূরত্বভিত্তিক রেয়াত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে সব ধরনের যাত্রীবাহী ট্রেনে বিদ্যমান দূরত্বভিত্তিক রেয়াত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি গত ৪ মে থেকে কার্যকর হয়েছে।

অর্থাৎ এখন রেয়াতি ব্যবস্থার কারণে দূরপাল্লার ট্রেনে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ছাড় পেয়ে থাকেন যাত্রীরা। এ ব্যবস্থায় ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ছাড়ের সুবিধা নেই। তবে ১০১ থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরত্বের ভ্রমণে ভাড়ার ওপর রেয়াতের হার ২০ শতাংশ, তার ওপরে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে। এতে করে রংপুর বিভাগের যাত্রীরা যে নাটোর-চাটমোহর ঘুরে বাড়ির কাছের সিরাজগঞ্জে ফিরে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ওঠেন, সেই কারণে বাড়তি সময় গেলেও সাথে বাড়তি ভাড়াও দিতে হতো না। এখন বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেল লাইন চালু না করে, রেলওয়ে সৃষ্ট ঘোরাপথের ১১২ কি.মি. এর ভাড়ার দায় মেটাতে হচ্ছে রংপুর বিভাগের যাত্রীদের। রাষ্ট্রের চোখে ভাড়া বৃদ্ধির কথা অস্বীকার করা হচ্ছে।

একই কথা ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের বেলায়ও। রেলপথ ঢাকা থেকে দাউদকান্দি উপজেলা হয়ে কুমিল্লা প্রবেশ করলে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের বর্তমান দূরত্ব ৩২১ কিমি থেকে ৯০ কি.মি. হ্রাস পাবে। অর্থাৎ এই রুটের দৈর্ঘ্য হবে ২৩১ কিমি। মানে এই অঞ্চলের যাত্রীদেরও বাড়তি ৯০ কি. মি. এর ভাড়া দিতে হবে। ১৯৯২ সাল থেকে বাংলাদেশ রেলওয়েতে দূরত্বভিত্তিক ও সেকশনভিত্তিক রেয়াতি দেওয়া হত। যাত্রীদের রেলপথ ব্যবহারে উৎসাহিত করার জন্য এটি করা হয়। তারমানে এখন রেলপথে যাত্রীদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

কলামিস্ট ও সংগঠক নাহিদ হাসানের আহ্বানে গাইবান্ধা জেলা রেল স্টেশনে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষ শতাধিক মানুষ অংশগ্রহন করেন। এতে সংহতি জানান রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন গাইবান্ধা জেলা শাখার আহ্বায়ক মৃনাল কান্তি বর্মন। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জেলা সভাপতি পরমানন্দ দাস। সংগঠনের কলেজ শাখার সভাপতি কলি রানী বর্মন ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান।

বাংলাদেশ ভুমিহীন আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক লায়ন সামিউল আলম রাসু। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন উন্নয়ন কর্মী মনোয়ার হোসেন। মানবাধিকার নাট্য পরিষদের জেলা সভাপতি আলম মিয়া। সামজিক সংগঠন গ্রীণ ভয়েসের সদস্য কনক, আশিকুর, আলিফ। বিমল সরকার পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক শামীম সরকার। শিক্ষক ও সমাজ কর্মী সৌমেন। মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয় ৩১ মে শুক্রবার সকাল ১১ ঘটিকায়।