শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মাদ্রিদ না মিউনিখ, বিখ্যাত বার্নাব্যুর লড়াইয়ে কে হাসবে শেষ হাসি?

 

রিয়াল মাদ্রিদের দুই স্তম্ভ লুকা মদ্রিচ ও টনি ক্রুসের কথা দিয়ে শুরু করা যাক। মদ্রিচ বলেছিলেন, ‘ফুটবলে ভয়ের কোনো জায়গা নেই। মাদ্রিদের বেলায় তো মোটেই নয়।’ ক্রুসের কথাটা আরও চমৎকার, ‘আমরা রিয়াল মাদ্রিদ। সফলতা আমাদের ডিএনএতে।’ ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ভয়কে জয় করে সাফল্য ছিনিয়ে আনতে মাঠে নামছে।

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাজারা আজ বুধবার (৮ মে) বাংলাদেশ সময় দিনগত রাত ১টায় খেলবে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বায়ার্নকে আতিথ্য দেবে মাদ্রিদ। মিউনিখের অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারেনায় প্রথম লেগ শেষ হয়েছিল ২-২ সমতায়।

বায়ার্ন মিউনিখ চলতি মৌসুমে রাজ্যহারা। ১১ মৌসুম পর জার্মান বুন্দেসলিগার শ্রেষ্ঠত্ব খুইয়েছে বায়ার লেভারকুসেনের কাছে। জার্মানির ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোতেও শিরোপা জয়ের স্বপ্ন শেষ। রইলো বাকি এক, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। সেটি জয় করাও যে কঠিন, তা ভালো করেই জানা বায়ার্নের। শেষ চারে উঠে এসেছে দলটি, প্রতিপক্ষ মাদ্রিদ। প্রথম লেগে অবশ্য রুখে দেওয়া গেছে তাদের। ভয়টা আজ, খেলা যে মাদ্রিদের নিজ ডেরায়।

ফিরে যাই চার দশক আগে। ১৯৮৪/৮৫ মৌসুমে উয়েফা কাপের নকআউট পর্বের এক ম্যাচে ইন্টার মিলানের মুখোমুখি হয় রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথম লেগে ইন্টারের মাঠ থেকে ২-০ গোলে হেরে আসে লস ব্লাংকোরা। দ্বিতীয় লেগের আগে মাদ্রিদের স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড হুয়ানিতো বলেছিলেন, বার্নাব্যুতে ৯০ মিনিট অনেক লম্বা সময়। বার্নাব্যুতে ৩-০ গোলে সেই ম্যাচটি জিতে ইন্টারকে কাঁদিয়েছিল মাদ্রিদ। তারপর থেকে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় হুয়ানিতোর বলা বিখ্যাত কথাটি।

বায়ার্নের বিপক্ষে ম্যাচটি ২-২ গোলের সমতায় শেষ হয়। প্রথম লেগে বাভারিয়ানদের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রতিপক্ষের মাঠ হলেও মাদ্রিদ খেলেছে নিজেদের মতোই। বায়ার্নের তুরুপের তাস হ্যারি কেইন-লেরয় সানেরা। প্রথম লেগে গোল পেয়েছিলেন দুজনই। আজও বাজির ঘোড়া হতে পারেন এরা, কিংবা অন্য কেউ করতে পারেন কিস্তিমাত।

ম্যাচ প্রসঙ্গে মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা ভীষণ উৎসাহ নিয়ে অপেক্ষায় আছি। আরেকটি ফাইনালে যাওয়ার ব্যাপারে পুরো দলের উদ্যম চোখে পড়ার মতো। তবে, সর্বোচ্চ সতর্কতা আছে আমাদের। এটি জাদুর রাত হতে পারে। আবার উল্টোটাও, পাল্টা আক্রমণে আমরা ছিন্নভিন্নও হতে পারি।’

বায়ার্ন কোচ থমাস টুখেল বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদ ইউরোপের সেরা। আর বার্নাব্যুর মতো বিধ্বংসী মাঠ দ্বিতীয়টি নেই। আমরা এখন সেখানে আছি। আমাদের খেলতে হবে, মাঠে কোনো ভুলের সুযোগ নেই। ন্যূনতম সম্ভাবনা তৈরি হলে, সেটিও কাজে লাগাতে হবে।’

১৫তম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপার স্বপ্নে বিভোর মাদ্রিদ। লিগ শিরোপা জিতে দলটি আছে ফুরফুরে মেজাজে। বায়ার্নের চাওয়া, মৌসুমে অন্তত একটি ট্রফি ঘরে তোলা। দুদলই প্রস্তুত। প্রস্তুত বার্নাব্যু। ৯০ মিনিটে নিষ্পত্তি হয়, না কি ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে, তা জানা নেই কারও। দুদলের চিন্তা একটাই, কে কাকে চেকমেট দেবে? এক পা বাড়ালেই ফাইনাল। প্রতিপক্ষকে আটকাতে হবে যে কোনো মূল্যে।

 

কালের চিঠি/ ফাহিম

Tag :

মাদ্রিদ না মিউনিখ, বিখ্যাত বার্নাব্যুর লড়াইয়ে কে হাসবে শেষ হাসি?

Update Time : ১১:৪৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ মে ২০২৪

 

রিয়াল মাদ্রিদের দুই স্তম্ভ লুকা মদ্রিচ ও টনি ক্রুসের কথা দিয়ে শুরু করা যাক। মদ্রিচ বলেছিলেন, ‘ফুটবলে ভয়ের কোনো জায়গা নেই। মাদ্রিদের বেলায় তো মোটেই নয়।’ ক্রুসের কথাটা আরও চমৎকার, ‘আমরা রিয়াল মাদ্রিদ। সফলতা আমাদের ডিএনএতে।’ ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ভয়কে জয় করে সাফল্য ছিনিয়ে আনতে মাঠে নামছে।

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাজারা আজ বুধবার (৮ মে) বাংলাদেশ সময় দিনগত রাত ১টায় খেলবে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বায়ার্নকে আতিথ্য দেবে মাদ্রিদ। মিউনিখের অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারেনায় প্রথম লেগ শেষ হয়েছিল ২-২ সমতায়।

বায়ার্ন মিউনিখ চলতি মৌসুমে রাজ্যহারা। ১১ মৌসুম পর জার্মান বুন্দেসলিগার শ্রেষ্ঠত্ব খুইয়েছে বায়ার লেভারকুসেনের কাছে। জার্মানির ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোতেও শিরোপা জয়ের স্বপ্ন শেষ। রইলো বাকি এক, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। সেটি জয় করাও যে কঠিন, তা ভালো করেই জানা বায়ার্নের। শেষ চারে উঠে এসেছে দলটি, প্রতিপক্ষ মাদ্রিদ। প্রথম লেগে অবশ্য রুখে দেওয়া গেছে তাদের। ভয়টা আজ, খেলা যে মাদ্রিদের নিজ ডেরায়।

ফিরে যাই চার দশক আগে। ১৯৮৪/৮৫ মৌসুমে উয়েফা কাপের নকআউট পর্বের এক ম্যাচে ইন্টার মিলানের মুখোমুখি হয় রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথম লেগে ইন্টারের মাঠ থেকে ২-০ গোলে হেরে আসে লস ব্লাংকোরা। দ্বিতীয় লেগের আগে মাদ্রিদের স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড হুয়ানিতো বলেছিলেন, বার্নাব্যুতে ৯০ মিনিট অনেক লম্বা সময়। বার্নাব্যুতে ৩-০ গোলে সেই ম্যাচটি জিতে ইন্টারকে কাঁদিয়েছিল মাদ্রিদ। তারপর থেকে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় হুয়ানিতোর বলা বিখ্যাত কথাটি।

বায়ার্নের বিপক্ষে ম্যাচটি ২-২ গোলের সমতায় শেষ হয়। প্রথম লেগে বাভারিয়ানদের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রতিপক্ষের মাঠ হলেও মাদ্রিদ খেলেছে নিজেদের মতোই। বায়ার্নের তুরুপের তাস হ্যারি কেইন-লেরয় সানেরা। প্রথম লেগে গোল পেয়েছিলেন দুজনই। আজও বাজির ঘোড়া হতে পারেন এরা, কিংবা অন্য কেউ করতে পারেন কিস্তিমাত।

ম্যাচ প্রসঙ্গে মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা ভীষণ উৎসাহ নিয়ে অপেক্ষায় আছি। আরেকটি ফাইনালে যাওয়ার ব্যাপারে পুরো দলের উদ্যম চোখে পড়ার মতো। তবে, সর্বোচ্চ সতর্কতা আছে আমাদের। এটি জাদুর রাত হতে পারে। আবার উল্টোটাও, পাল্টা আক্রমণে আমরা ছিন্নভিন্নও হতে পারি।’

বায়ার্ন কোচ থমাস টুখেল বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদ ইউরোপের সেরা। আর বার্নাব্যুর মতো বিধ্বংসী মাঠ দ্বিতীয়টি নেই। আমরা এখন সেখানে আছি। আমাদের খেলতে হবে, মাঠে কোনো ভুলের সুযোগ নেই। ন্যূনতম সম্ভাবনা তৈরি হলে, সেটিও কাজে লাগাতে হবে।’

১৫তম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপার স্বপ্নে বিভোর মাদ্রিদ। লিগ শিরোপা জিতে দলটি আছে ফুরফুরে মেজাজে। বায়ার্নের চাওয়া, মৌসুমে অন্তত একটি ট্রফি ঘরে তোলা। দুদলই প্রস্তুত। প্রস্তুত বার্নাব্যু। ৯০ মিনিটে নিষ্পত্তি হয়, না কি ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে, তা জানা নেই কারও। দুদলের চিন্তা একটাই, কে কাকে চেকমেট দেবে? এক পা বাড়ালেই ফাইনাল। প্রতিপক্ষকে আটকাতে হবে যে কোনো মূল্যে।

 

কালের চিঠি/ ফাহিম