রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বড় দুর্ঘটনা থেকে যেভাবে রক্ষা পেল ট্রেন।

 

কৃষকদের চেষ্টায় অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে পাবনার ঈশ্বরদী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেলপথে চলাচলকারী আন্তঃনগর কমিউটার ট্রেন। বুধবার (৮ মে) বাগাতিপাড়ার লোকমানপুর এলাকায় রেললাইনের ভাঙা অংশটি দেখতে পান স্থানীয় কয়েকজন কৃষক। পরে বিষয়টি চালকদের নজরে পড়তেই ট্রেন থামিয়ে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল রেলপথ দিয়ে মাঠে যাচ্ছিলেন আজিজুর রহমান, আবদুস সোবহানসহ স্থানীয় কয়েকজন কৃষক। এ সময় রেললাইনের একটি স্থানে ভাঙা দেখতে পান তারা। একই সময়ে ওই রেলপথ দিয়ে ঈশ্বরদী থেকে ছেড়ে আসা কমিউটার ট্রেন রহনপুরের দিকে যাচ্ছিল। ট্রেনের বাঁশি শুনে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের কাছে থাকা লাল গামছা রেললাইনে আড়াআড়িভাবে ধরেন কৃষকরা। এ সময় সেখানে কয়েকজন শিক্ষার্থীও ছিলেন। লোকমানপুর রেলস্টেশনে প্রবেশের আগমুহূর্তে লাল গামছা ধরা দেখে ট্রেন থামান চালক।

ট্রেনটির সহকারী চালক সাইফুল ইসলাম সবুজ জানান, লোকমানপুর স্টেশনের কিছুদূর আগে তারা লক্ষ্য করেন, কয়েকজন লাল গামছা ধরে রেললাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। এ দেখে দ্রুত ট্রেন থামানো হয়। এর পর দেখা যায়, সেখানে রেললাইন প্রায় ৮ ইঞ্চি ভাঙা। রাতের বৃষ্টিতে রেললাইনের কাঠের স্লিপারের নিচের অংশও ফাঁকা ছিল। সকালে অন্য একটি ট্রেন ওই লাইনের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় রেললাইন ভেঙে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ভাঙা স্থানে কাঠ ও ছালা দিয়ে খুব ধীরগতিতে ট্রেনটি পার করা হয়।

এ বিষয়ে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ম্যানেজার (ডিআরএম) শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ জানান, বৃষ্টিতে রেললাইনের ওই স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এ অবস্থায় সেখান দিয়ে ট্রেন চলায় রেলপাত ভেঙে যায়। ঘটনা টের পাওয়ার পর ট্রেন থামানো হয়। এতে ট্রেন চলাচলে কিছুটা বিলম্ব ঘটে। বিকেলে ভাঙা স্থান সংস্কার করা হয়েছে।

 

কালের চিঠি/ফাহিম

Tag :

বড় দুর্ঘটনা থেকে যেভাবে রক্ষা পেল ট্রেন।

Update Time : ০৪:১৫:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ মে ২০২৪

 

কৃষকদের চেষ্টায় অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে পাবনার ঈশ্বরদী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেলপথে চলাচলকারী আন্তঃনগর কমিউটার ট্রেন। বুধবার (৮ মে) বাগাতিপাড়ার লোকমানপুর এলাকায় রেললাইনের ভাঙা অংশটি দেখতে পান স্থানীয় কয়েকজন কৃষক। পরে বিষয়টি চালকদের নজরে পড়তেই ট্রেন থামিয়ে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল রেলপথ দিয়ে মাঠে যাচ্ছিলেন আজিজুর রহমান, আবদুস সোবহানসহ স্থানীয় কয়েকজন কৃষক। এ সময় রেললাইনের একটি স্থানে ভাঙা দেখতে পান তারা। একই সময়ে ওই রেলপথ দিয়ে ঈশ্বরদী থেকে ছেড়ে আসা কমিউটার ট্রেন রহনপুরের দিকে যাচ্ছিল। ট্রেনের বাঁশি শুনে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের কাছে থাকা লাল গামছা রেললাইনে আড়াআড়িভাবে ধরেন কৃষকরা। এ সময় সেখানে কয়েকজন শিক্ষার্থীও ছিলেন। লোকমানপুর রেলস্টেশনে প্রবেশের আগমুহূর্তে লাল গামছা ধরা দেখে ট্রেন থামান চালক।

ট্রেনটির সহকারী চালক সাইফুল ইসলাম সবুজ জানান, লোকমানপুর স্টেশনের কিছুদূর আগে তারা লক্ষ্য করেন, কয়েকজন লাল গামছা ধরে রেললাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। এ দেখে দ্রুত ট্রেন থামানো হয়। এর পর দেখা যায়, সেখানে রেললাইন প্রায় ৮ ইঞ্চি ভাঙা। রাতের বৃষ্টিতে রেললাইনের কাঠের স্লিপারের নিচের অংশও ফাঁকা ছিল। সকালে অন্য একটি ট্রেন ওই লাইনের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় রেললাইন ভেঙে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ভাঙা স্থানে কাঠ ও ছালা দিয়ে খুব ধীরগতিতে ট্রেনটি পার করা হয়।

এ বিষয়ে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ম্যানেজার (ডিআরএম) শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ জানান, বৃষ্টিতে রেললাইনের ওই স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এ অবস্থায় সেখান দিয়ে ট্রেন চলায় রেলপাত ভেঙে যায়। ঘটনা টের পাওয়ার পর ট্রেন থামানো হয়। এতে ট্রেন চলাচলে কিছুটা বিলম্ব ঘটে। বিকেলে ভাঙা স্থান সংস্কার করা হয়েছে।

 

কালের চিঠি/ফাহিম