মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ফিলিস্তিনপন্থিদের বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাঁবু শিবির গেড়ে ফিলিস্তিনপন্থিদের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। দেশটির শীর্ষ একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুক্রবার বিক্ষোভ করেছেন শত শত বিক্ষোভকারী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতো অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ এখনো বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মারমুখী অবস্থানে যায়নি।

শুক্রবার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীরা ইসরাইলের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের দাবিরই প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

এ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন তিন শতাধিক বিক্ষোভকারী। এর মধ্যে ৩৯ বছর বয়সি ম্যাট তার দুই বছরের ছেলেকে কাঁধে নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। তিনি বলেন, গাজায় ইসরাইলের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে শুধু ছাত্রসমাজই বিরোধিতা করছে না। সেখানে কী হচ্ছে সেটি একবার অনুধাবন করতে পারলে আপনার দায়িত্ব হচ্ছে বিষয়টিতে জড়িত হওয়া, সচেতনতা বাড়ানো এবং সংহতি প্রকাশের চেষ্টা করা।

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর মার্ক স্কট স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ শিবির ক্যাম্পাসের মধ্যে থাকতে পারে। কারণ সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের মতো সহিংসতা দেখা যায়নি।

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে পুলিশের কয়েকটি গাড়ি দেখা গেছে। তবে বিক্ষোভস্থলে কোনো পুলিশ উপস্থিত ছিল না।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান সব নগরীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা গত দুই সপ্তাহে তাঁবু শিবির গেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীরা গত সপ্তাহে প্রধান হলের বাইরে জড়ো হয়ে শিবির স্থাপন করে। এছাড়া মেলবোর্ন, ক্যানবেরা এবং অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য শহরগুলোতে একই ধরনের শিবির স্থাপন করেছে বিক্ষোভকারীরা।

গাজায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে এ বিক্ষোভে ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানানো হয়। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা এ বিক্ষোভ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অনেককে গ্রেফতারও করেছে; কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় কোনো ধরপাকড় হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বিক্ষোভে হওয়া সহিংসতার মতো পরিস্থিতিও অস্ট্রেলিয়ায় ঘটেনি। পুলিশের উপস্থিতিতেও অস্টেলিয়ার বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ রয়েছে।

ইসরাইলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্রদেশ অস্ট্রেলিয়া সম্প্রতি গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের সমালোচক হয়ে উঠেছে। গত মাসে গাজায় ইসরাইলের হামলায় অস্ট্রেলিয়ার এক ত্রাণকর্মীও নিহত হন।

তবে ফিলিস্তিপন্থি বিক্ষোভকারীরা বলছে, সরকার শান্তি প্রতিষ্ঠায় যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়াতেই প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং তার সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠেছে।

কালের চিঠি / আশিকুর।

Tag :

অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ফিলিস্তিনপন্থিদের বিক্ষোভ

Update Time : ০৫:০৪:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ মে ২০২৪

যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাঁবু শিবির গেড়ে ফিলিস্তিনপন্থিদের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। দেশটির শীর্ষ একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুক্রবার বিক্ষোভ করেছেন শত শত বিক্ষোভকারী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতো অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ এখনো বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মারমুখী অবস্থানে যায়নি।

শুক্রবার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীরা ইসরাইলের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের দাবিরই প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

এ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন তিন শতাধিক বিক্ষোভকারী। এর মধ্যে ৩৯ বছর বয়সি ম্যাট তার দুই বছরের ছেলেকে কাঁধে নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। তিনি বলেন, গাজায় ইসরাইলের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে শুধু ছাত্রসমাজই বিরোধিতা করছে না। সেখানে কী হচ্ছে সেটি একবার অনুধাবন করতে পারলে আপনার দায়িত্ব হচ্ছে বিষয়টিতে জড়িত হওয়া, সচেতনতা বাড়ানো এবং সংহতি প্রকাশের চেষ্টা করা।

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর মার্ক স্কট স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ শিবির ক্যাম্পাসের মধ্যে থাকতে পারে। কারণ সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের মতো সহিংসতা দেখা যায়নি।

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে পুলিশের কয়েকটি গাড়ি দেখা গেছে। তবে বিক্ষোভস্থলে কোনো পুলিশ উপস্থিত ছিল না।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান সব নগরীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা গত দুই সপ্তাহে তাঁবু শিবির গেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীরা গত সপ্তাহে প্রধান হলের বাইরে জড়ো হয়ে শিবির স্থাপন করে। এছাড়া মেলবোর্ন, ক্যানবেরা এবং অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য শহরগুলোতে একই ধরনের শিবির স্থাপন করেছে বিক্ষোভকারীরা।

গাজায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে এ বিক্ষোভে ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানানো হয়। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা এ বিক্ষোভ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অনেককে গ্রেফতারও করেছে; কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় কোনো ধরপাকড় হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বিক্ষোভে হওয়া সহিংসতার মতো পরিস্থিতিও অস্ট্রেলিয়ায় ঘটেনি। পুলিশের উপস্থিতিতেও অস্টেলিয়ার বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ রয়েছে।

ইসরাইলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্রদেশ অস্ট্রেলিয়া সম্প্রতি গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের সমালোচক হয়ে উঠেছে। গত মাসে গাজায় ইসরাইলের হামলায় অস্ট্রেলিয়ার এক ত্রাণকর্মীও নিহত হন।

তবে ফিলিস্তিপন্থি বিক্ষোভকারীরা বলছে, সরকার শান্তি প্রতিষ্ঠায় যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়াতেই প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং তার সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠেছে।

কালের চিঠি / আশিকুর।